

মোঃ জালাল উদ্দিন,স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন জোহরা আক্তার কমপ্লেক্সে অবস্থিত “মা-মনি মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার”-এর বিরুদ্ধে চরম অনিয়ম, ভুয়া চিকিৎসক বসানো এবং সেবার নামে প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ রোগীরা সেবা নিতে এসে প্রতিনিয়ত অপচিকিৎসা ও অর্থশোষণের শিকার হচ্ছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বাস্থ্য বিভাগের তোয়াক্কা না করেই দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন এর স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ হানিফ (নয়ন)। কোনো হালনাগাদ লাইসেন্স, দক্ষ টেকনিশিয়ান কিংবা মানসম্মত ল্যাব ছাড়াই সেখানে প্রতিদিন জটিল সব প্যাথলজিক্যাল ও রেডিওলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং কতিপয় নামধারী সংবাদকর্মীকে অনৈতিকভাবে ‘ম্যানেজ’ করেই তিনি এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরি পরিচালনার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (DGHS) লাইসেন্স, হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, ই-টিআইএন (e-TIN), ভ্যাট/বিন (BIN) রেজিস্ট্রেশন, পরিবেশগত ছাড়পত্র, মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চুক্তি, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (BAEC) লাইসেন্স (এক্স-রের ক্ষেত্রে) এবং ফায়ার সেফটি ছাড়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়া বিএমডিসি (BMDC) নিবন্ধিত প্যাথলজিস্ট ও রেডিওলজিস্ট, স্টেট মেডিকেল ফ্যাকাল্টি (BSMF) নিবন্ধিত টেকনোলজিস্ট এবং নার্সিং কাউন্সিলের নিবন্ধিত নার্স নিয়োগের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অথচ অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘মা-মনি মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এর কাছে এসব আইনি কাগজপত্রের একটিও নেই। রোগীদের জীবন নিয়ে এমন ঝুঁকিপূর্ণ বাণিজ্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এলাকার সচেতন নাগরিকরা। তারা জানান, কোনো বৈধতা ছাড়াই হাসপাতালের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটা হচ্ছে। ভুয়া চিকিৎসকদের মনগড়া ব্যবস্থাপত্র ও ভুল ল্যাব রিপোর্টের কারণে রোগীদের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে। অনতিবিলম্বে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা এবং ভুয়া চিকিৎসা বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা। এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ‘মা-মনি মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা কেবল লিখিত অভিযোগের অপেক্ষায় না থেকে দ্রুত সরেজমিনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অবৈধ এই সেন্টারটি বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন।
মোঃ জালাল উদ্দিন,স্টাফ রিপোর্টার: