

রাজু আহমেদ,নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি।।
সৈয়দপুরের দীর্ঘদিনের পরিবহন সংকট ও রুট বৈষম্য নিরসনে এবার কঠোর অবস্থানে গেছে নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি ও বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন।আন্তঃজেলা রুটে বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি,অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ,সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংস্কারসহ ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে সংগঠন দুটি।দাবি বাস্তবায়ন না হলে রংপুর-দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও রুটে বাস চলাচলে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তার দায় মালিক-শ্রমিক সংগঠন নেবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর)সৈয়দপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ হুঁশিয়ারি দেন মালিক-শ্রমিক নেতারা।নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল গফুর সরকারের সভাপতিত্বে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম সরকার।
নেতারা বলেন,রংপুর-দিনাজপুর রুটের দুই প্রান্তে ৫০টি বাস চললেও নীলফামারী জেলার বাস মাত্র ১২টি।ফলে সৈয়দপুরের যাত্রীরা নিয়মিত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।রংপুর ও দিনাজপুর প্রান্ত থেকে নীলফামারীর অন্তত ১০টি করে এবং ঠাকুরগাঁও প্রান্ত থেকে আরও দুটি বাসের সিরিয়াল দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
একই সঙ্গে সন্ধ্যার পর সৈয়দপুরগামী পর্যাপ্ত বাস চালু,যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ,সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের জরুরি সংস্কার,বাইপাসে বাস চলাচলের বাধা দূর করা এবং সৈয়দপুর-রাজশাহী ও নীলফামারী-সৈয়দপুর-বগুড়া রুট পুনরায় চালুর দাবি জানানো হয়েছে।সড়ক-মহাসড়কে অবৈধ অটোরিকশা ও সিএনজি চলাচল বন্ধের দাবিও রয়েছে।
সংগঠনগুলোর অভিযোগ,রংপুর ও দিনাজপুর মালিক সমিতির সঙ্গে বাসের সংখ্যা বাড়াতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো কার্যকর সাড়া মেলেনি।বরং গেটলক বাসে সৈয়দপুরের যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও যাত্রী না তোলার অভিযোগ রয়েছে। তবে ঠাকুরগাঁও মালিক সমিতি এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।
নেতারা বলেন,সৈয়দপুর উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার এবং শিল্প-বাণিজ্যের কেন্দ্র হলেও পরিবহন ব্যবস্থায় এ বৈষম্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে পরবর্তী পরিস্থিতির দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।সভা পরিচালনা করেন সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো.আনোয়ারুল হাফিজ।
রাজু আহমেদ,নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি।।