Dhaka 12:25 am, Thursday, 29 October 2026
News Title :
সাঁথিয়ায় মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন এমপি নাজিবুর রহমান মোমেন। মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত উন্নত মৌগাছি গঠনে চেয়ারম্যান মেজর আলী বিশ্বাসের প্রশংসনীয় পদক্ষেপ পীরগঞ্জে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।  পাঁচবিবিতে অটোভ্যান চালককে হত্যা করে অটো ছিনতাই ‎বকশীগঞ্জে ঝোপের আড়ালে মিলল গৃহবধূর পচাগলা লাশ, আটক ৪ ঘোড়াঘাটে মায়ের সাথে অভিমান করে কিশোরীর আত্মহত্যা ময়মনসিংহ জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি ঈশ্বরগঞ্জ থানার মো. সাজ্জাদ রোমন পুংগলী ইউনিয়ন যুব ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে খেলার সামগ্রী বিতরণ। কুলিয়ারচরে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ বিষয়ক অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত কেরানীগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে ৩ জনের কারাদণ্ড ও জরিমানা

মান্দায় রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ।

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি:

নওগাঁর মান্দায় সরকারি উন্নয়ন কাজের মান নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। উপজেলার মান্দা ইউনিয়নের কোচড়া বাদলঘাটা হিন্দুপাড়া পাকা রাস্তা থেকে দক্ষিণ কোচড়া বাদলঘাটা পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৭৩০ মিটার পাকা রাস্তা নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ও বালি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন’-এর বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সিডিউল অনুযায়ী রাস্তার কাজে মানসম্মত ইটের খোয়া ও উন্নতমানের বালি ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও তা উপেক্ষা করে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ১ নম্বর ইটের পরিবর্তে নিম্নমানের ২ ও ৩ নম্বর ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া রাস্তার সাব-বেস ও বেস তৈরির কাজেও সঠিক অনুপাতে বালি ও খোয়া ব্যবহার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

কোচড়া বাদলঘাটা গ্রামের শামসুল আলম মোল্লা বলেন, “ঠিকাদার তো রাস্তা করে চলে যাবে। কিন্তু আমরাই এই রাস্তায় চলাচল করব, আমরা এখানেই থাকব। যেভাবে নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে কাজ করা হচ্ছে, তাতে ছয় মাসের মধ্যেই রাস্তা নষ্ট হয়ে যাবে। এতে সরকারের শুধু টাকা নষ্ট হবে। এর চেয়ে রাস্তা পাকা না করাই ভালো।”

একই গ্রামের মহিদুল ইসলাম বলেন, “রাস্তাটি অনেকদিন ধরে অবহেলিত ছিল। সরকার প্রায় দুই কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার যেভাবে নিম্নমানের কাজ করছে, তার চেয়ে আগের কাঁচা রাস্তাই ভালো ছিল। এভাবে কাজ হলে ভবিষ্যতে রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ হবে।”

কান্তি কুমার সরকার বলেন, “সরকারি কাজ সর্বোচ্চ ভালো মানের উপকরণ দিয়ে করার কথা। কিন্তু আমাদের এখানে রাস্তা নির্মাণের সময় ১ নম্বর ইটের পরিবর্তে ২ ও ৩ নম্বর ইট দিয়ে কাজ শুরু করেছে ঠিকাদার। এই কাজে দুই গ্রামের মানুষেরই আপত্তি রয়েছে।”

এ বিষয়ে মুঠোফোনে বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মোছাঃ পারুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এই কাজে এ পর্যন্ত তিনি ২৪ লাখ টাকা লোকসানে আছেন। তাই সবার কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই এসব উপকরণ দিয়ে কাজ করছেন।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সাঁথিয়ায় মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন এমপি নাজিবুর রহমান মোমেন।

মান্দায় রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ।

Update Time : 12:26:22 pm, Sunday, 4 October 2026

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি:

নওগাঁর মান্দায় সরকারি উন্নয়ন কাজের মান নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। উপজেলার মান্দা ইউনিয়নের কোচড়া বাদলঘাটা হিন্দুপাড়া পাকা রাস্তা থেকে দক্ষিণ কোচড়া বাদলঘাটা পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৭৩০ মিটার পাকা রাস্তা নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ও বালি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন’-এর বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সিডিউল অনুযায়ী রাস্তার কাজে মানসম্মত ইটের খোয়া ও উন্নতমানের বালি ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও তা উপেক্ষা করে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ১ নম্বর ইটের পরিবর্তে নিম্নমানের ২ ও ৩ নম্বর ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া রাস্তার সাব-বেস ও বেস তৈরির কাজেও সঠিক অনুপাতে বালি ও খোয়া ব্যবহার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

কোচড়া বাদলঘাটা গ্রামের শামসুল আলম মোল্লা বলেন, “ঠিকাদার তো রাস্তা করে চলে যাবে। কিন্তু আমরাই এই রাস্তায় চলাচল করব, আমরা এখানেই থাকব। যেভাবে নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে কাজ করা হচ্ছে, তাতে ছয় মাসের মধ্যেই রাস্তা নষ্ট হয়ে যাবে। এতে সরকারের শুধু টাকা নষ্ট হবে। এর চেয়ে রাস্তা পাকা না করাই ভালো।”

একই গ্রামের মহিদুল ইসলাম বলেন, “রাস্তাটি অনেকদিন ধরে অবহেলিত ছিল। সরকার প্রায় দুই কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার যেভাবে নিম্নমানের কাজ করছে, তার চেয়ে আগের কাঁচা রাস্তাই ভালো ছিল। এভাবে কাজ হলে ভবিষ্যতে রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ হবে।”

কান্তি কুমার সরকার বলেন, “সরকারি কাজ সর্বোচ্চ ভালো মানের উপকরণ দিয়ে করার কথা। কিন্তু আমাদের এখানে রাস্তা নির্মাণের সময় ১ নম্বর ইটের পরিবর্তে ২ ও ৩ নম্বর ইট দিয়ে কাজ শুরু করেছে ঠিকাদার। এই কাজে দুই গ্রামের মানুষেরই আপত্তি রয়েছে।”

এ বিষয়ে মুঠোফোনে বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মোছাঃ পারুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এই কাজে এ পর্যন্ত তিনি ২৪ লাখ টাকা লোকসানে আছেন। তাই সবার কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই এসব উপকরণ দিয়ে কাজ করছেন।”