

স্টাফ রিপোর্টারঃ
কুমিল্লার দেবিদ্বারে ডাক্তার শাহীন আলম পরিচালিত দেবিদ্বার জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিজেরাই ভূয়া সার্টিফিকেটের মাধ্যমে ভূয়া টেকনোলজিস্ট বানিয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রদানের খবর পাওয়া গেছে। ওই ভূয়া টেকনিশিয়ান নিজেই শীকারোক্তি দিয়েছেন এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতোমধ্যে ভাইরালও হয়েছে। আলোচিত ভুয়া মেডিকেল টেকনোলজিস্টকাণ্ডে এবার নতুন এক নাটকের জন্ম হয়েছে। সবার সামনে নিজের মুখে জালিয়াতি ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সম্পৃক্ততা স্বীকার করার পর, রহস্যজনকভাবে সুর পাল্টেছেন সেই ভুয়া টেকনোলজিস্ট। অভিযোগ উঠেছে, ডাক্তার শাহীন আলমকে বাঁচাতে এবং হাসপাতালের মান বাঁচাতে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে নতুন নাটক সাজানো হয়েছে; যেখানে হোয়াটসঅ্যাপ কলে ভয়েস রেকর্ড নিয়ে আগের স্বীকারোক্তি অস্বীকার করানোর চেষ্টা চলছে। এর আগে দেবিদ্বার মালিক সমিতির উপস্থিতিতে সবার সামনে ওই ভুয়া টেকনোলজিস্ট অকপটে স্বীকার করেছিলেন যে, তার মেডিকেল টেকনোলজিস্টের সার্টিফিকেটগুলো সম্পূর্ণ জাল এবং হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ ডা. শাহীন আলম নিজেই তাকে এই সার্টিফিকেট তৈরি করে দিয়েছিলেন। কিন্তু আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়ার পরই শুরু হয় মূল রহস্য।অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতাল বা বাঁচানোর উপায় হিসেবে পরবর্তীতে ডা. শাহীন আলম নিজেই একটি নতুন কৌশল ও নাটক সাজান। ভুয়া টেকনোলজিস্টের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে এবং তাকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত বা ম্যানেজ করে একটি কল রেকর্ড তৈরি করা হয়। সেই নতুন রেকর্ডে ওই টেকনোলজিস্টকে দিয়ে বলানো হয়েছে যে, সে নাকি কেবল নিজেকে বাঁচানোর জন্যই সেদিন সবার সামনে হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কথা বলেছিল—আসলে কর্তৃপক্ষ তাকে কোনো সার্টিফিকেট বানিয়ে দেয়নি! স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, জনস্বাস্থ্য নিয়ে এমন মারাত্মক প্রতারণার ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং প্রশাসনের হাত থেকে বাঁচতে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়েছে। প্রথমে প্রকাশ্যে অপরাধ স্বীকার করলেও পরবর্তীতে টাকার বিনিময়ে বা প্রলোভনে পড়ে ওই টেকনোলজিস্টকে দিয়ে জোরপূর্বক বা সাজানো নাটক অনুযায়ী বক্তব্য পরিবর্তন করানো হয়েছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও হাস্যকর।একটি জীবন রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানে এমন নজিরবিহীন জালিয়াতি এবং পরবর্তীতে টাকার জোরে পার পেয়ে যাওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। হোয়াটসঅ্যাপ কলের রেকর্ডের মাধ্যমে এই অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চারদিকে জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন—সবার সামনে দেওয়া শত শত মানুষের সেই লাইভ স্বীকারোক্তি কি তবে মিথ্যা হয়ে গেল? নাকি এর পেছনে বড় কোনো সিন্ডিকেট কাজ করছে?জনসাধারণ অবিলম্বে এই জালিয়াতির ঘটনায় নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন। পাশাপাশি, ভুয়া সার্টিফিকেট সরবরাহকারী ডাক্তার শাহীন আলম এবং এই পুরো ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানানো হয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টারঃ