Dhaka 6:36 pm, Tuesday, 27 October 2026
News Title :
সাঁথিয়ায় মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন এমপি নাজিবুর রহমান মোমেন। মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত উন্নত মৌগাছি গঠনে চেয়ারম্যান মেজর আলী বিশ্বাসের প্রশংসনীয় পদক্ষেপ পীরগঞ্জে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।  পাঁচবিবিতে অটোভ্যান চালককে হত্যা করে অটো ছিনতাই ‎বকশীগঞ্জে ঝোপের আড়ালে মিলল গৃহবধূর পচাগলা লাশ, আটক ৪ ঘোড়াঘাটে মায়ের সাথে অভিমান করে কিশোরীর আত্মহত্যা ময়মনসিংহ জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি ঈশ্বরগঞ্জ থানার মো. সাজ্জাদ রোমন পুংগলী ইউনিয়ন যুব ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে খেলার সামগ্রী বিতরণ। কুলিয়ারচরে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ বিষয়ক অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত কেরানীগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে ৩ জনের কারাদণ্ড ও জরিমানা

গাজীপুরে সাংবাদিক ফাতেমা আক্তারের ওপর হামলার থানায় অভিযোগ, আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি।

গাজীপুর প্রতিনিধি: আলমগীর হোসেন

গাজীপুরে সাংবাদিক ফাতেমা আক্তারের ওপর বর্বরোচিত হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। অভিযোগে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ফাতেমা।

ফাতেমার দাবি, দীর্ঘ ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি বিভিন্নভাবে নির্যাতন, হুমকি ও ভয়ভীতির শিকার হয়ে আসছিলেন। এ কারণে নিজের ভিটাবাড়িতে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতেও পারছিলেন না তিনি। জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নেওয়া এবং জমি বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিরোধকে কেন্দ্র করে তাকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

অভিযোগে ফাতেমা আক্তার বলেন, গত ২১ সেপ্টেম্বর তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে একটি পোস্ট দেন। এরপর থেকেই তার ওপর হামলার হুমকি ও উসকানি আরও বেড়ে যায় বলে দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি গাছা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর অভিযুক্ত কয়েকজন থানায় গিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নাজিম উদ্দিনের কাছে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

ফাতেমার অভিযোগ, ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে সমঝোতা ও নিরাপত্তার আশ্বাস পাওয়ার পর তিনি নিজের ভিটাবাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় আকস্মিকভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয় এবং তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

হামলায় গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন ফাতেমা জানান, তিনি কথা বলতে পারছেন এবং নিজ হাতে খাবারও খেতে পারছেন। তবে পা, মাথা ও কোমর নড়াচড়ায় এখনও কষ্ট হচ্ছে। নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে তিনি দেশবাসী, সাংবাদিক সমাজ ও প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগে ফাতেমা আক্তার আরও দাবি করেন, তাকে মামলা থেকে অভিযুক্তদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য শফিক ও রিফাত নামের দুজন হাসপাতালে গিয়ে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ায় তারা তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ তার।

তার অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—কোনাপাড়ার হানিফের ছেলে সবুজ, হানিফ, আহাম্মদের ছেলে সেলিম, বোজারপাড়ার হেকিম নানার মেয়ে শিরিনের জামাই রিফাত, নয়াপুশকুনির পারের আতাউরের ছেলে শফিক এবং মো. মোস্তফা কামাল (পিতা—আব্দুল ওহাব)। এছাড়া গাফফার নামের একজনের বিরুদ্ধেও হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেছেন তিনি।

ফাতেমার দাবি, অভিযুক্তরা প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা দালালি পাওয়ার আশায় তার জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নেওয়া এবং জমি বিক্রির জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন। এ নিয়ে তার জমিতে বারবার খুঁটি পুঁতে দেওয়ার চেষ্টা এবং তাকে বাড়িতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় থাকার দাবি করে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রভাবিত করার কথা বলে তাকে ভয় দেখাতেন।

ফাতেমা আক্তার বলেন, হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা না হলে তিনি ও তার পরিবার আরও নিরাপত্তাহীনতায় পড়তে পারেন। তিনি গাছা থানা পুলিশ, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় সাংবাদিক সমাজের বিভিন্ন মহল থেকেও নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।

অভিযোগের সত্যতা, হামলার প্রকৃত কারণ এবং কারা এতে জড়িত—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সাঁথিয়ায় মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন এমপি নাজিবুর রহমান মোমেন।

গাজীপুরে সাংবাদিক ফাতেমা আক্তারের ওপর হামলার থানায় অভিযোগ, আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি।

Update Time : 10:22:11 am, Thursday, 1 October 2026

গাজীপুর প্রতিনিধি: আলমগীর হোসেন

গাজীপুরে সাংবাদিক ফাতেমা আক্তারের ওপর বর্বরোচিত হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। অভিযোগে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ফাতেমা।

ফাতেমার দাবি, দীর্ঘ ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি বিভিন্নভাবে নির্যাতন, হুমকি ও ভয়ভীতির শিকার হয়ে আসছিলেন। এ কারণে নিজের ভিটাবাড়িতে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতেও পারছিলেন না তিনি। জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নেওয়া এবং জমি বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিরোধকে কেন্দ্র করে তাকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

অভিযোগে ফাতেমা আক্তার বলেন, গত ২১ সেপ্টেম্বর তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে একটি পোস্ট দেন। এরপর থেকেই তার ওপর হামলার হুমকি ও উসকানি আরও বেড়ে যায় বলে দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি গাছা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর অভিযুক্ত কয়েকজন থানায় গিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নাজিম উদ্দিনের কাছে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

ফাতেমার অভিযোগ, ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে সমঝোতা ও নিরাপত্তার আশ্বাস পাওয়ার পর তিনি নিজের ভিটাবাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় আকস্মিকভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয় এবং তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

হামলায় গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন ফাতেমা জানান, তিনি কথা বলতে পারছেন এবং নিজ হাতে খাবারও খেতে পারছেন। তবে পা, মাথা ও কোমর নড়াচড়ায় এখনও কষ্ট হচ্ছে। নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে তিনি দেশবাসী, সাংবাদিক সমাজ ও প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগে ফাতেমা আক্তার আরও দাবি করেন, তাকে মামলা থেকে অভিযুক্তদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য শফিক ও রিফাত নামের দুজন হাসপাতালে গিয়ে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ায় তারা তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ তার।

তার অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—কোনাপাড়ার হানিফের ছেলে সবুজ, হানিফ, আহাম্মদের ছেলে সেলিম, বোজারপাড়ার হেকিম নানার মেয়ে শিরিনের জামাই রিফাত, নয়াপুশকুনির পারের আতাউরের ছেলে শফিক এবং মো. মোস্তফা কামাল (পিতা—আব্দুল ওহাব)। এছাড়া গাফফার নামের একজনের বিরুদ্ধেও হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেছেন তিনি।

ফাতেমার দাবি, অভিযুক্তরা প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা দালালি পাওয়ার আশায় তার জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নেওয়া এবং জমি বিক্রির জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন। এ নিয়ে তার জমিতে বারবার খুঁটি পুঁতে দেওয়ার চেষ্টা এবং তাকে বাড়িতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় থাকার দাবি করে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রভাবিত করার কথা বলে তাকে ভয় দেখাতেন।

ফাতেমা আক্তার বলেন, হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা না হলে তিনি ও তার পরিবার আরও নিরাপত্তাহীনতায় পড়তে পারেন। তিনি গাছা থানা পুলিশ, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় সাংবাদিক সমাজের বিভিন্ন মহল থেকেও নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।

অভিযোগের সত্যতা, হামলার প্রকৃত কারণ এবং কারা এতে জড়িত—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।