

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সলফা এলাকায় আইন, প্রশাসন ও পরিবেশের কোনো তোয়াক্কা না করে কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র ও সরকারি অনুমতি ছাড়াই দেদারছে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে ‘প্রভা ব্রিকস’ নামের একটি অবৈধ ইটভাটা। স্থানীয় প্রভাবশালী মো. হানিফ মেম্বার প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। এতে একদিকে যেমন সরকার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ছে এলাকার পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও উর্বর আবাদি জমি। অনুসন্ধানে জানা যায়, আইনগতভাবে একটি ইটভাটা পরিচালনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর বেশ কিছু বাধ্যতামূলক ছাড়পত্র, লাইসেন্স ও নবায়ন কাগজপত্রের প্রয়োজন হয়। অথচ প্রভা ব্রিকসের মালিক মো. হানিফ মেম্বারের কাছে এর একটিরও অস্তিত্ব নেই। আইনানুযায়ী ইটভাটা পরিচালনার জন্য ভাটা চালুর পূর্বে পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং প্রতি বছর তা নিয়মিত নবায়ন করা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি নির্দিষ্ট ফি জমা দিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে ইটভাটার মূল লাইসেন্স, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স এবং স্থানীয় প্রশাসনের অন্যান্য অনুমোদন থাকতে হয়। এছাড়া উর্বর আবাদি বা কৃষি জমিতে ইটভাটা স্থাপন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুমতি বা ছাড়পত্র, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অগ্নিনির্বাপণ ছাড়পত্র, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স এবং বন বিভাগ বা পরিবেশ রক্ষা সংক্রান্ত অন্যান্য ছাড়পত্র থাকা আবশ্যক। অভিযুক্ত মো. হানিফ মেম্বারের এই ইটভাটা পরিচালনার ক্ষেত্রে এই বাধ্যতামূলক কাগজপত্রের কোনোটিরই বালাই নেই। নিয়মবহির্ভূতভাবে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ভাটাটি পরিচালিত হওয়ায় এলাকার পরিবেশের মারাত্মক অবনতি ঘটছে। ভাটার কালো ধোঁয়া, বিষাক্ত গ্যাস ও ছাইয়ে আশপাশের ফসলি জমি ও গাছপালা নষ্ট হয়ে উৎপাদনক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. হানিফ মেম্বারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাঁর কোনো কাগজপত্রের বৈধতা নেই। তবে তিনি হাইকোর্টে রিট করেছেন এবং সেই রিটের কাগজ দিয়েই ব্রিকফিল্ড চালানো বৈধ বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর এই বক্তব্যের একটি মোবাইল ফোন রেকর্ডও সংরক্ষিত রয়েছে, যা তাঁর এই দাবির সত্যতার প্রমাণ বহন করে। এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও এলাকাবাসীর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি জানিয়েছেন, অবিলম্বে এই অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে দিনের পর দিন এই অবৈধ ব্রিকফিল্ড কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে—তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত এই অবৈধ ‘প্রভা ব্রিকস’-এর বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত বা অভিযান পরিচালনা করে এর কার্যক্রম চিরতরে বন্ধ করবে।
স্টাফ রিপোর্টার: