Dhaka 11:45 pm, Saturday, 19 September 2026
News Title :
হোমনায় প্রতারক ‘ভন্ড দুলাল ফকিরের’ বিরুদ্ধে চিকিৎসার নামে লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ। সাঁথিয়ায় মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ইউএনও সেলিম আহমেদ। নালুয়া চা-বাগান থেকে অজ্ঞাত এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার। মাদক-অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে নীলফামারীতে কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখবো চারপাশ,ডেঙ্গুমুক্ত দেশ সবার অঙ্গীকার-জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে অভিযান। বীরগঞ্জে সিরাত প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণ। পাবনার ফরিদপুরে সাকিব হত্যার দ্রুত বিচার ও আসামির ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন। রাজশাহীতে মাদক সম্রাট ববিসহ গ্রেপ্তার ৩। বিজিবি কর্তৃক রাজশাহী সীমান্তে অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় মাদকদব্য জব্দ।  বিডিআরএমজিপি এফএনএফ ফাউন্ডেশনের লিডারশিপ লার্নিং সামিট ও গেট টুগেদার।

হোমনায় প্রতারক ‘ভন্ড দুলাল ফকিরের’ বিরুদ্ধে চিকিৎসার নামে লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ।

মোঃ জালাল উদ্দিন স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার হোমনা উপজেলার বল্লভপুর গ্রামে দুলাল ফকির (৬০) নামে এক ভন্ড প্রতারক চিকিৎসার নাম করে প্রবাসীদের স্ত্রীদের টার্গেট করে তাবিজ-কবচ, ঝাড়ফুঁক ও গাছগাছালির মাধ্যমে সর্বরোগের চিকিৎসার নামে প্রতারণা করে আসছে। তিনি স্থানীয় বল্লভপুর গ্রামের মৃত চান মিয়া ফকিরের ছেলে। প্রায় ১৫ বছর ধরে এই প্রতারণা চালিয়ে আসলেও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তার কোনো চিকিৎসায় আজ পর্যন্ত কোনো রোগী সুস্থ হয়নি। ​সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, দুলাল ফকির মাত্র ৩-৪টি সাধারণ রোগের নাম বলতে পারলেও সহজ-সরল মানুষকে তিনি সর্বরোগের সফল চিকিৎসার গ্যারান্টি দিয়ে থাকেন। বিভিন্ন জটিল ও গোপন রোগের সুচিকিৎসার কথা বলে তিনি রোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। অথচ তার প্রদেয় তাবিজ বা গাছগাছালির চিকিৎসায় আজ পর্যন্ত কোনো রোগীর উপকার হওয়ার নজির নেই। ​ভুক্তভোগীদের বিবরণ থেকে জানা যায়, পারভীন আক্তার নামের এক প্রবাসীর স্ত্রী জানান, “দুলাল ফকির একটি গোপন রোগের সুচিকিৎসার গ্যারান্টি দিয়ে আমার কাছ থেকে প্রায় ২৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন, কিন্তু কোনো কাজই হয়নি। ​আরেক ভুক্তভোগী নাজমা বেগম জানান, “আমার শিশু সন্তান বিছানায় প্রস্রাব করায় দুলাল ফকিরের শরণাপন্ন হই। তিনি ১৬ হাজার টাকা নিয়ে দীর্ঘ ২ মাস চিকিৎসা দিলেও কোনো ফল হয়নি। ​একই ধরনের অভিযোগ করেন জালাল উদ্দীন নামের আরেক ব্যক্তি। তিনি জানান, “স্ত্রীর গোপন রোগের চিকিৎসার জন্য তার হাতে ২৭ হাজার টাকা তুলে দিয়েছি, কিন্তু তার তথাকথিত চিকিৎসায় বিন্দুমাত্র উপকার পাইনি। ​এ ছাড়াও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দুলাল ফকির একজন চিহ্নিত ভণ্ড ও প্রতারক। সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে তিনি অভিনব কায়দায় প্রতারণা করে সর্বস্বান্ত করছেন। এলাকার অনেকেই জানান, দুলাল ফকিরের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই সূচনীয় ছিলো, মানুষের সাথে চিকিৎসার নামে প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। এ বিষয়ে দুলাল ফকির বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট। আমি আজ থেকে আর এ পেশায় কাজ করবো না, যদি আজ থেকে আমি এ পেশায় কাজ করি বা আমার ঘরে এমন কোন চিহ্ন পাওয়া যায় তাহলে প্রশাসন যেনো আমার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেন। এলাকাবাসী অবিলম্বে এই প্রতারকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং কঠোর আইনগত বিচার দাবি করছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

হোমনায় প্রতারক ‘ভন্ড দুলাল ফকিরের’ বিরুদ্ধে চিকিৎসার নামে লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ।

হোমনায় প্রতারক ‘ভন্ড দুলাল ফকিরের’ বিরুদ্ধে চিকিৎসার নামে লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ।

Update Time : 10:36:23 am, Saturday, 19 September 2026

মোঃ জালাল উদ্দিন স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার হোমনা উপজেলার বল্লভপুর গ্রামে দুলাল ফকির (৬০) নামে এক ভন্ড প্রতারক চিকিৎসার নাম করে প্রবাসীদের স্ত্রীদের টার্গেট করে তাবিজ-কবচ, ঝাড়ফুঁক ও গাছগাছালির মাধ্যমে সর্বরোগের চিকিৎসার নামে প্রতারণা করে আসছে। তিনি স্থানীয় বল্লভপুর গ্রামের মৃত চান মিয়া ফকিরের ছেলে। প্রায় ১৫ বছর ধরে এই প্রতারণা চালিয়ে আসলেও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তার কোনো চিকিৎসায় আজ পর্যন্ত কোনো রোগী সুস্থ হয়নি। ​সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, দুলাল ফকির মাত্র ৩-৪টি সাধারণ রোগের নাম বলতে পারলেও সহজ-সরল মানুষকে তিনি সর্বরোগের সফল চিকিৎসার গ্যারান্টি দিয়ে থাকেন। বিভিন্ন জটিল ও গোপন রোগের সুচিকিৎসার কথা বলে তিনি রোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। অথচ তার প্রদেয় তাবিজ বা গাছগাছালির চিকিৎসায় আজ পর্যন্ত কোনো রোগীর উপকার হওয়ার নজির নেই। ​ভুক্তভোগীদের বিবরণ থেকে জানা যায়, পারভীন আক্তার নামের এক প্রবাসীর স্ত্রী জানান, “দুলাল ফকির একটি গোপন রোগের সুচিকিৎসার গ্যারান্টি দিয়ে আমার কাছ থেকে প্রায় ২৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন, কিন্তু কোনো কাজই হয়নি। ​আরেক ভুক্তভোগী নাজমা বেগম জানান, “আমার শিশু সন্তান বিছানায় প্রস্রাব করায় দুলাল ফকিরের শরণাপন্ন হই। তিনি ১৬ হাজার টাকা নিয়ে দীর্ঘ ২ মাস চিকিৎসা দিলেও কোনো ফল হয়নি। ​একই ধরনের অভিযোগ করেন জালাল উদ্দীন নামের আরেক ব্যক্তি। তিনি জানান, “স্ত্রীর গোপন রোগের চিকিৎসার জন্য তার হাতে ২৭ হাজার টাকা তুলে দিয়েছি, কিন্তু তার তথাকথিত চিকিৎসায় বিন্দুমাত্র উপকার পাইনি। ​এ ছাড়াও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দুলাল ফকির একজন চিহ্নিত ভণ্ড ও প্রতারক। সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে তিনি অভিনব কায়দায় প্রতারণা করে সর্বস্বান্ত করছেন। এলাকার অনেকেই জানান, দুলাল ফকিরের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই সূচনীয় ছিলো, মানুষের সাথে চিকিৎসার নামে প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। এ বিষয়ে দুলাল ফকির বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট। আমি আজ থেকে আর এ পেশায় কাজ করবো না, যদি আজ থেকে আমি এ পেশায় কাজ করি বা আমার ঘরে এমন কোন চিহ্ন পাওয়া যায় তাহলে প্রশাসন যেনো আমার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেন। এলাকাবাসী অবিলম্বে এই প্রতারকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং কঠোর আইনগত বিচার দাবি করছেন।