Dhaka 10:57 am, Thursday, 29 October 2026
News Title :
সাঁথিয়ায় মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন এমপি নাজিবুর রহমান মোমেন। মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত উন্নত মৌগাছি গঠনে চেয়ারম্যান মেজর আলী বিশ্বাসের প্রশংসনীয় পদক্ষেপ পীরগঞ্জে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।  পাঁচবিবিতে অটোভ্যান চালককে হত্যা করে অটো ছিনতাই ‎বকশীগঞ্জে ঝোপের আড়ালে মিলল গৃহবধূর পচাগলা লাশ, আটক ৪ ঘোড়াঘাটে মায়ের সাথে অভিমান করে কিশোরীর আত্মহত্যা ময়মনসিংহ জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি ঈশ্বরগঞ্জ থানার মো. সাজ্জাদ রোমন পুংগলী ইউনিয়ন যুব ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে খেলার সামগ্রী বিতরণ। কুলিয়ারচরে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ বিষয়ক অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত কেরানীগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে ৩ জনের কারাদণ্ড ও জরিমানা

২৪ রোহিঙ্গার জন্মসনদ জালিয়াতি: সচিব বরখাস্ত হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে ইউপি সদস্য সালাহউদ্দিন।

স্টাফ রিপোর্টর:

​কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদে টাকার বিনিময়ে ভিনদেশি রোহিঙ্গাদের জন্মসনদ প্রদানের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের তদন্তে জালিয়াতির সত্যতাও মিলেছে। এই ঘটনায় ইতোমধ্যে তৎকালীন ইউপি সচিবকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও, যার দায়িত্ব পালনকালে এই ঘটনা ঘটেছে, সেই সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান ইউপি সদস্য সালাহউদ্দিন রুহুলের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রভাবশালী এই জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণে বিলম্ব হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—তবে কি ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাবেন তিনি? ​গত জুলাই মাসে শফিউল আলম নামের এক স্থানীয় বাসিন্দার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জালিয়াতির বিষয়টি প্রথম সামনে আসে। প্রাথমিক তদন্তে সাইমুন ইসলাম সাজ্জাদ, মুবিনা খাতুন ও হাফিছা নামের তিন ব্যক্তিকে নিয়মবহির্ভূতভাবে জন্মসনদ দেওয়ার বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আসে। তদন্তে দেখা যায়, এই তিনজনের কেউই ফতেহাবাদ ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা নন। ​তবে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র ও গণমাধ্যমের দাবি, জালিয়াতির ব্যাপ্তি কেবল এই তিনজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অভিযোগ রয়েছে, অর্থের বিনিময়ে অন্তত ২৪ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে অবৈধভাবে জন্মসনদ দেওয়া হয়েছে এই ইউনিয়ন থেকে। প্রতিটি সনদের বিপরীতে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। তৎকালীন ইউপি সচিবের আইডি ব্যবহার করে উপযুক্ত যাচাই-বাছাই ছাড়াই এসব সনদ অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সালাহউদ্দিন রুহুলের বিরুদ্ধে।​শুধু জন্মসনদ জালিয়াতিই নয়, সালাহউদ্দিন রুহুলের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাতেরও গুরুতর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে প্রশাসনে। মাহদী হাসান নামের এক বাসিন্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর দেওয়া এক লিখিত অভিযোগে দাবি করেছেন, সালাহউদ্দিন রুহুল ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থাকাকালে কাগজে-কলমে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ​অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, একই খালের খননকাজ দুটি ভিন্ন প্রকল্পের নামে দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়ে তিনি নিজ এলাকায় কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ করেছেন। ​গত ৩ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তৎকালীন ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মো. নজরুল ইসলামকে দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে যার মেয়াদে এবং যার প্রত্যক্ষ অনুমোদনে এই রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ, সেই সালাহউদ্দিন রুহুল এখনো ইউপি সদস্য পদে বহাল আছেন। জেলা প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে জালিয়াতির সত্যতা পাওয়ার পর স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ বা পদ বাতিলের উদ্যোগ কবে নাগাদ দৃশ্যমান হবে, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল রয়েছে। ​স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, একই ঘটনায় একজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ হলেও জনপ্রতিনিধির ক্ষেত্রে বিলম্ব হওয়ায় জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। গুরুতর অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার পর আইনের যথাযথ ও দ্রুত প্রয়োগ নিশ্চিত করা হলে প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। এই বিষয়ে জানতে মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সাঁথিয়ায় মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন এমপি নাজিবুর রহমান মোমেন।

২৪ রোহিঙ্গার জন্মসনদ জালিয়াতি: সচিব বরখাস্ত হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে ইউপি সদস্য সালাহউদ্দিন।

Update Time : 07:15:31 am, Wednesday, 9 September 2026

স্টাফ রিপোর্টর:

​কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদে টাকার বিনিময়ে ভিনদেশি রোহিঙ্গাদের জন্মসনদ প্রদানের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের তদন্তে জালিয়াতির সত্যতাও মিলেছে। এই ঘটনায় ইতোমধ্যে তৎকালীন ইউপি সচিবকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও, যার দায়িত্ব পালনকালে এই ঘটনা ঘটেছে, সেই সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান ইউপি সদস্য সালাহউদ্দিন রুহুলের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রভাবশালী এই জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণে বিলম্ব হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—তবে কি ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাবেন তিনি? ​গত জুলাই মাসে শফিউল আলম নামের এক স্থানীয় বাসিন্দার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জালিয়াতির বিষয়টি প্রথম সামনে আসে। প্রাথমিক তদন্তে সাইমুন ইসলাম সাজ্জাদ, মুবিনা খাতুন ও হাফিছা নামের তিন ব্যক্তিকে নিয়মবহির্ভূতভাবে জন্মসনদ দেওয়ার বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আসে। তদন্তে দেখা যায়, এই তিনজনের কেউই ফতেহাবাদ ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা নন। ​তবে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র ও গণমাধ্যমের দাবি, জালিয়াতির ব্যাপ্তি কেবল এই তিনজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অভিযোগ রয়েছে, অর্থের বিনিময়ে অন্তত ২৪ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে অবৈধভাবে জন্মসনদ দেওয়া হয়েছে এই ইউনিয়ন থেকে। প্রতিটি সনদের বিপরীতে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। তৎকালীন ইউপি সচিবের আইডি ব্যবহার করে উপযুক্ত যাচাই-বাছাই ছাড়াই এসব সনদ অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সালাহউদ্দিন রুহুলের বিরুদ্ধে।​শুধু জন্মসনদ জালিয়াতিই নয়, সালাহউদ্দিন রুহুলের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাতেরও গুরুতর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে প্রশাসনে। মাহদী হাসান নামের এক বাসিন্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর দেওয়া এক লিখিত অভিযোগে দাবি করেছেন, সালাহউদ্দিন রুহুল ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থাকাকালে কাগজে-কলমে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ​অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, একই খালের খননকাজ দুটি ভিন্ন প্রকল্পের নামে দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়ে তিনি নিজ এলাকায় কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ করেছেন। ​গত ৩ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তৎকালীন ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মো. নজরুল ইসলামকে দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে যার মেয়াদে এবং যার প্রত্যক্ষ অনুমোদনে এই রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ, সেই সালাহউদ্দিন রুহুল এখনো ইউপি সদস্য পদে বহাল আছেন। জেলা প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে জালিয়াতির সত্যতা পাওয়ার পর স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ বা পদ বাতিলের উদ্যোগ কবে নাগাদ দৃশ্যমান হবে, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল রয়েছে। ​স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, একই ঘটনায় একজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ হলেও জনপ্রতিনিধির ক্ষেত্রে বিলম্ব হওয়ায় জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। গুরুতর অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার পর আইনের যথাযথ ও দ্রুত প্রয়োগ নিশ্চিত করা হলে প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। এই বিষয়ে জানতে মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।