

রাজু আহমেদ,নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হতেই দেশের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে নতুন হিসাব-নিকাশ।এরই ধারাবাহিকতায় নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলাতেও বইতে শুরু করেছে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের হাওয়া। হাট-বাজার,চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক আড্ডায় এখন আলোচনার বিষয়-কে হবেন আগামী নির্বাচনে যোগ্য চেয়ারম্যান প্রার্থী এ নিয়ে চলছে চুল-ছেঁড়া বিশ্লেষণ।
সৈয়দপুর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নেই সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন।তবে কামারপুকুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ব্যবসায়ী ও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ মো.রাজু আহমেদকে ঘিরে আলোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি প্রার্থীর ব্যক্তিগত সততা, যোগ্যতা,গ্রহণযোগ্যতা ও মানুষের পাশে থাকার মানসিকতাকেও গুরুত্ব দিতে চান ভোটাররা। এসব বিবেচনায় রাজু আহমেদকে সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে দেখছেন অনেকে।কামারপুকুর বাজারের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন,রাজু আহমেদ ভালো ছেলে হিসেবে এলাকায় পরিচিত।তিনি নির্বাচনে অংশ নিলে দল-মত নির্বিশেষে অনেক মানুষের সমর্থন পাবেন বলে আমরা মনে করি।
তরুণ ভোটার সাগর বলেন,ইউনিয়ন পরিষদে এমন একজন চেয়ারম্যান দরকার,যার সঙ্গে সাধারণ মানুষ ও তরুণরা সহজে কথা বলতে পারে।রাজু ভাই নিরহংকারী মানুষ। তিনি প্রার্থী হলে তরুণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়বে।
স্থানীয় শিক্ষক সাদেকুল ইসলাম বলেন,বর্তমানে অনেক ভোটার দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি প্রার্থীর সততা,যোগ্যতা ও এলাকার উন্নয়নে তার ভূমিকা বিবেচনা করছেন। বিএনপি রাজু আহমেদকে প্রার্থী করলে তিনি দলীয় সমর্থনের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদেরও আকৃষ্ট করতে পারবেন বলে আমার ধারণা।
স্থানীয়দের দাবি,রাজু আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করে আসছেন।ব্যবসার পাশাপাশি বেকার তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং অসহায় মানুষের সহযোগিতায় ভূমিকা রাখায় স্থানীয়দের একটি অংশের কাছে তিনি ইতোমধ্যে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন।তাদের মতে, সাহসী, সৎ, নিষ্ঠাবান ও মেধাবী নেতৃত্বের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজে মিশতে পারার গুণ একজন জনপ্রতিনিধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে কামারপুকুর ইউনিয়নে রাজু আহমেদকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে অনেকে এগিয়ে রাখছেন।তারা আরও বলেন বিএনপি যদি রাজু আহমেদকে কামারপুকুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেন তাহলে দলমত নির্বিশেষে বিপুল ভোটে জয়লাভ করতে পারবে।
এদিকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রত্যাশার কথা জানিয়ে রাজু আহমেদ বলেন,আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির আদর্শকে মনে-প্রাণে ধারণ করি এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী।তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ও ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে-ময়দানে কাজ করে যাচ্ছি।সেই ধারাবাহিকতায় দলীয়ভাবে মনোনয়ন পেলে কামারপুকুর ইউনিয়নকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চেয়ারম্যান উপহার দিতে পারবো ইনশাআল্লাহ।আর আমি যদি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারি ইউনিয়নের নাগরিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত পৌঁছে দেওয়া,ভোগান্তি কমানো এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।পাশাপাশি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সাড়া পেয়েই দীর্ঘদিন ধরে গণসংযোগ করছি।জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি এবং ভবিষ্যতেও করে যেতে চাই।আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং জনগণের প্রত্যাশাকে বিবেচনায় নিয়ে দল আমাকে মূল্যায়ন করবে-এটাই আমার বিশ্বাস।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে,নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে,সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা ততই বাড়বে।তবে কামারপুকুর ইউনিয়নে রাজু আহমেদের নাম ইতোমধ্যে আলোচনার অন্যতম কেন্দ্র বিন্দুতে পরিনত হয়েছে।তার সামাজিক কর্মকাণ্ড,ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ আগামী নির্বাচনে তাকে অনেক অংশে সাপোর্ট দিবে।
স্থানীয় ভোটারদের অনেকেই মনে করছেন, দলীয় মনোনয়ন পেলে রাজু আহমেদ শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত প্রার্থী মনোনয়ন,নির্বাচনী পরিবেশ ও ভোটারদের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে কামারপুকুর ইউনিয়নের নেতৃত্ব কার হাতে যাচ্ছে।
রাজু আহমেদ,নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি।