Dhaka 12:21 am, Saturday, 31 October 2026
News Title :
সাঁথিয়ায় মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন এমপি নাজিবুর রহমান মোমেন। মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত উন্নত মৌগাছি গঠনে চেয়ারম্যান মেজর আলী বিশ্বাসের প্রশংসনীয় পদক্ষেপ পীরগঞ্জে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।  পাঁচবিবিতে অটোভ্যান চালককে হত্যা করে অটো ছিনতাই ‎বকশীগঞ্জে ঝোপের আড়ালে মিলল গৃহবধূর পচাগলা লাশ, আটক ৪ ঘোড়াঘাটে মায়ের সাথে অভিমান করে কিশোরীর আত্মহত্যা ময়মনসিংহ জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি ঈশ্বরগঞ্জ থানার মো. সাজ্জাদ রোমন পুংগলী ইউনিয়ন যুব ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে খেলার সামগ্রী বিতরণ। কুলিয়ারচরে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ বিষয়ক অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত কেরানীগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে ৩ জনের কারাদণ্ড ও জরিমানা

কালিয়াকৈরে দফায় দফায় হামলা-হুমকির অভিযোগ, নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাকের আইস মার্কেট এলাকায় পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক যুবক ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর দফায় দফায় হামলা, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। হামলায় ওই যুবকের এক হাত ভেঙে যাওয়াসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় নিরাপত্তা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আহত যুবকের মা মোসাঃ ইয়াসমিন বেগম।

শনিবার (২২ আগস্ট) আইস মার্কেট এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইয়াসমিন বেগম অভিযোগ করেন, প্রায় দুই বছর আগে তার ছেলে ইয়াসিন আরাফাত ইমন (৩২) সনিয়া নামের এক নারীকে বিয়ে করেন। ইমনের পূর্বের সংসার ও সন্তান থাকার বিষয়টি জানার পরও ওই বিয়ে হয় বলে দাবি করেন তিনি। তবে দাম্পত্য কলহের জেরে প্রায় ছয় মাস আগে সনিয়া নিজেই ইমনকে তালাক দেন বলে জানান ইয়াসমিন।

ইয়াসমিনের অভিযোগ, বিচ্ছেদের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইমন ও তার বর্তমান স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে অনধিকার প্রবেশ করে বিভিন্ন ধরনের কুরুচিপূর্ণ পোস্ট, মন্তব্য ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সনিয়া বা তার পরিবারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

লিখিত বক্তব্যে ইয়াসমিন আরও বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে আইস মার্কেট এলাকায় গাড়ি পার্কিংয়ের সময় ইমন মুঠোফোনে তার বর্তমান স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় সনিয়ার মা ঘটনাটি ভুল বুঝে তার ছেলে ফিরোজকে ডেকে আনেন। পরে ফিরোজ ও তার মা ইমনকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এতে ইমনের একটি হাত ভেঙে যায়। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে সৌরভ নামের আরেক যুবকও আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সফিপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এরপর হামলার কারণ জানতে ইমনের বাবা আমির হোসেন সনিয়ার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে ফিরোজ ও শাহেদের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন ইয়াসমিন। এ সময় তাকে রক্ষা করতে গিয়ে তুহিন, আলমসহ পরিবারের আরও কয়েকজন আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে।

ইয়াসমিনের অভিযোগ, পরদিন শুক্রবার দুপুরে শাহেদ, ইসমাইল, কাশেম ও আসিফের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে ইমন ও তার ছোট ভাইকে খুঁজতে থাকে। এ সময় পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ এবং এলাকা ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। বাইরে বের হলে সবাইকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ছাড়া ওই দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে আহত স্বজনদের হাসপাতালে দেখে ফেরার পথে আইস মার্কেট মসজিদের সামনে তাদের বহনকারী গাড়ি ঘিরে ধরার চেষ্টা করা হয় বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। পরে চালক দ্রুত গাড়ি ঘুরিয়ে বিকল্প সড়ক দিয়ে তাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান বলে জানান ইয়াসমিন।

সংবাদ সম্মেলনে ইয়াসমিন বেগম বলেন, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির কারণে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা বাড়িতে ফিরতে পারছেন না। তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। তিনি হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার, আহতদের উন্নত চিকিৎসা এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার কালিয়াকৈর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনধিকার প্রবেশ ও অপপ্রচারের অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার পুলিশের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে পুলিশ জানায়, বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সাঁথিয়ায় মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন এমপি নাজিবুর রহমান মোমেন।

কালিয়াকৈরে দফায় দফায় হামলা-হুমকির অভিযোগ, নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

Update Time : 12:47:39 pm, Saturday, 22 August 2026

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাকের আইস মার্কেট এলাকায় পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক যুবক ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর দফায় দফায় হামলা, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। হামলায় ওই যুবকের এক হাত ভেঙে যাওয়াসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় নিরাপত্তা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আহত যুবকের মা মোসাঃ ইয়াসমিন বেগম।

শনিবার (২২ আগস্ট) আইস মার্কেট এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইয়াসমিন বেগম অভিযোগ করেন, প্রায় দুই বছর আগে তার ছেলে ইয়াসিন আরাফাত ইমন (৩২) সনিয়া নামের এক নারীকে বিয়ে করেন। ইমনের পূর্বের সংসার ও সন্তান থাকার বিষয়টি জানার পরও ওই বিয়ে হয় বলে দাবি করেন তিনি। তবে দাম্পত্য কলহের জেরে প্রায় ছয় মাস আগে সনিয়া নিজেই ইমনকে তালাক দেন বলে জানান ইয়াসমিন।

ইয়াসমিনের অভিযোগ, বিচ্ছেদের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইমন ও তার বর্তমান স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে অনধিকার প্রবেশ করে বিভিন্ন ধরনের কুরুচিপূর্ণ পোস্ট, মন্তব্য ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সনিয়া বা তার পরিবারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

লিখিত বক্তব্যে ইয়াসমিন আরও বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে আইস মার্কেট এলাকায় গাড়ি পার্কিংয়ের সময় ইমন মুঠোফোনে তার বর্তমান স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় সনিয়ার মা ঘটনাটি ভুল বুঝে তার ছেলে ফিরোজকে ডেকে আনেন। পরে ফিরোজ ও তার মা ইমনকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এতে ইমনের একটি হাত ভেঙে যায়। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে সৌরভ নামের আরেক যুবকও আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সফিপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এরপর হামলার কারণ জানতে ইমনের বাবা আমির হোসেন সনিয়ার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে ফিরোজ ও শাহেদের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন ইয়াসমিন। এ সময় তাকে রক্ষা করতে গিয়ে তুহিন, আলমসহ পরিবারের আরও কয়েকজন আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে।

ইয়াসমিনের অভিযোগ, পরদিন শুক্রবার দুপুরে শাহেদ, ইসমাইল, কাশেম ও আসিফের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে ইমন ও তার ছোট ভাইকে খুঁজতে থাকে। এ সময় পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ এবং এলাকা ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। বাইরে বের হলে সবাইকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ছাড়া ওই দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে আহত স্বজনদের হাসপাতালে দেখে ফেরার পথে আইস মার্কেট মসজিদের সামনে তাদের বহনকারী গাড়ি ঘিরে ধরার চেষ্টা করা হয় বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। পরে চালক দ্রুত গাড়ি ঘুরিয়ে বিকল্প সড়ক দিয়ে তাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান বলে জানান ইয়াসমিন।

সংবাদ সম্মেলনে ইয়াসমিন বেগম বলেন, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির কারণে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা বাড়িতে ফিরতে পারছেন না। তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। তিনি হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার, আহতদের উন্নত চিকিৎসা এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার কালিয়াকৈর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনধিকার প্রবেশ ও অপপ্রচারের অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার পুলিশের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে পুলিশ জানায়, বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।