
এস এ বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট
সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত আঞ্চলিক দৈনিক সাতনদী পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হাবিবুর রহমান একটি হত্যা মামলায় আসামি হয়ে প্রায় ১০ মাস কারাভোগের পর বর্তমানে জামিনে মুক্ত রয়েছেন। মামলাটি ঘিরে সাংবাদিকতা, সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং বিচারাধীন একজন আসামির আইনি অধিকার নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার খলিশাখালী এলাকার একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা করা হয়। মামলায় তাকে অন্য আসামিদের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন এবং আদালতে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত আদালতের চূড়ান্ত রায়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
মামলার পটভূমিতে খলিশাখালী এলাকার জমিজমা ও মৎস্যঘেরকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ, দখলদারিত্ব, সংঘর্ষ ও উত্তেজনার বিষয় সামনে এসেছে। এসব ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে যৌথ বাহিনীর অভিযানের সময় কামরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার স্ত্রী হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটিতে হাবিবুর রহমানের নাম আসার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে সংবাদ প্রকাশের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা এবং মামলায় তাকে আসামি করার কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্যে ঘটনাটিকে ঘিরে গণপিটুনি, অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের মতো বিভিন্ন অভিযোগের কথাও উঠে এসেছে।
আইনজীবীদের মতে, মামলার প্রকৃত সত্য নির্ধারণের দায়িত্ব তদন্তকারী সংস্থা ও আদালতের। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেই তিনি অপরাধী হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন না। বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আইনগতভাবে তিনি নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার অধিকার রাখেন।
জানা গেছে, মামলায় জামিনের আবেদন করা হলেও বিভিন্ন পর্যায়ে শুনানি বিলম্বিত হয়। একপর্যায়ে হাবিবুর রহমানকে কারাগারে থাকতে হয় এবং প্রায় ১০ মাস পর উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন তিনি। বর্তমানে তিনি মুক্ত অবস্থায় আদালতের কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন এবং আইনজীবীদের মাধ্যমে নিজের পক্ষে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
সাংবাদিক সমাজের প্রশ্ন—জনস্বার্থে কোনো সংবাদ প্রকাশের কারণে একজন সম্পাদক যদি পরবর্তীতে ফৌজদারি মামলার আসামি হন, তাহলে সেই মামলায় তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও প্রত্যক্ষ প্রমাণ কী, সেটি স্বচ্ছভাবে অনুসন্ধান করা জরুরি। একই সঙ্গে কোনো সাংবাদিক বা সম্পাদক আইনের ঊর্ধ্বে নন—অভিযোগের সত্যতা থাকলে তাকেও প্রচলিত আইনে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া যেন কোনো ধরনের রাজনৈতিক, পেশাগত বা ব্যক্তিগত প্রভাবমুক্ত থাকে। কারণ একটি মামলার চূড়ান্ত সত্য নির্ধারণ হওয়া উচিত কেবল সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনের ভিত্তিতে।
বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিকের আইনের সমান সুরক্ষা ও ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়টিও সাংবিধানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা হলে যেমন নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন, তেমনি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে তাকেও আইনের আওতায় আনা জরুরি।
হাবিবুর রহমানের মামলাটিও এখন আদালতের বিচারাধীন বিষয়। তাই আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে তাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি অভিযোগকে উপেক্ষা করাও উচিত নয়। প্রয়োজন দ্রুত, নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক বিচার।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, মামলাটির বিচার দ্রুত শেষ হবে এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে; আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তিনি পূর্ণ আইনি প্রতিকার পাওয়ার অধিকার রাখেন।
এস এ বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট