

মোঃ মাইনুল ইসলাম মাহিন, রূপগঞ্জ থানা প্রতিনিধি।
ঢাকার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় এবার নতুন চমক হিসেবে উঠে এসেছে ব্যাটারিচালিত স্বল্পক্ষমতার প্রাইভেটকার। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে কম খরচে যাতায়াতের বিকল্প হিসেবে এই গাড়িগুলো দর্শনার্থীদের কৌতূহল ও আগ্রহ তৈরি করেছে। মেলার বিভিন্ন স্টলে প্রদর্শিত এসব গাড়ি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন ক্রেতা ও প্রযুক্তিপ্রেমীরা।
প্রদর্শনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, শহরের অভ্যন্তরীণ চলাচলের কথা বিবেচনায় রেখেই এই গাড়িগুলো বাজারে আনা হয়েছে। অফিস যাতায়াত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া কিংবা স্বল্প দূরত্বের পারিবারিক প্রয়োজনে এগুলো কার্যকর হতে পারে। বিক্রেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎচালিত হওয়ায় প্রতিকিলোমিটারে খরচ অত্যন্ত কম, যা সাধারণ জ্বালানিচালিত গাড়ির তুলনায় অনেক সাশ্রয়ী।
এই গাড়িগুলো ঘরের সাধারণ বিদ্যুৎ সংযোগ থেকেই চার্জ দেওয়া যায়। একবার সম্পূর্ণ চার্জে গাড়িভেদে প্রায় ৮০ থেকে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলাচল সম্ভব বলে জানানো হয়েছে। ইঞ্জিনবিহীন হওয়ায় শব্দ ও ধোঁয়ামুক্ত চলাচল নিশ্চিত হয়, যা শহরের পরিবেশ দূষণ কমাতে সহায়ক হতে পারে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে এসব গাড়িতে ব্যবহৃত হচ্ছে লিথিয়াম অথবা উন্নতমানের ব্যাটারি, সঙ্গে অপেক্ষাকৃত কম ক্ষমতার বৈদ্যুতিক মোটর। নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় অনেক মডেলে ডিস্ক ব্রেক, রিভার্স ক্যামেরা ও অ্যালার্ম সিস্টেম যুক্ত করা হয়েছে। কিছু গাড়িতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও ডিজিটাল ডিসপ্লেও দেখা গেছে, যা ব্যবহারকারীদের বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।
মেলায় প্রদর্শিত গাড়িগুলোর দাম আসনসংখ্যা ও ফিচার অনুযায়ী ভিন্ন। দুই আসনের গাড়ির মূল্য তুলনামূলক কম হলেও চার আসনের গাড়ির দাম কিছুটা বেশি। মেলার সময় বিশেষ বুকিং সুবিধা ও ছাড় দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের গাড়ি কেনার আগে কিছু বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। ছোট বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে নিবন্ধন ও আইনি অনুমোদন নিয়ে জটিলতা থাকতে পারে। এছাড়া ব্যাটারি পরিবর্তনের খরচ, খুচরা যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা এবং বিক্রয়োত্তর সেবার বিষয়েও নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
মেলায় আসা এক দর্শনার্থী বলেন, “দৈনন্দিন ছোটখাটো যাতায়াতের জন্য গাড়িটি বেশ উপযোগী মনে হয়েছে। তবে কেনার আগে আইনগত বিষয়গুলো পরিষ্কার হওয়া দরকার।”
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের ভবিষ্যৎ ইলেকট্রিক যানবাহন নীতিমালার সঙ্গে সমন্বয় হলে এ ধরনের গাড়ি শহুরে যাতায়াতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। পরিবেশবান্ধব ও স্বল্প ব্যয়ের এই উদ্যোগ কতটা জনপ্রিয় হয়, তা নির্ভর করবে বাস্তব ব্যবহার ও নীতিগত সহায়তার ওপর।
মোঃ মাইনুল ইসলাম মাহিন রূপগঞ্জ থানা প্রতিনিধি।