Dhaka 3:56 am, Thursday, 29 October 2026
News Title :
সাঁথিয়ায় মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন এমপি নাজিবুর রহমান মোমেন। মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত উন্নত মৌগাছি গঠনে চেয়ারম্যান মেজর আলী বিশ্বাসের প্রশংসনীয় পদক্ষেপ পীরগঞ্জে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।  পাঁচবিবিতে অটোভ্যান চালককে হত্যা করে অটো ছিনতাই ‎বকশীগঞ্জে ঝোপের আড়ালে মিলল গৃহবধূর পচাগলা লাশ, আটক ৪ ঘোড়াঘাটে মায়ের সাথে অভিমান করে কিশোরীর আত্মহত্যা ময়মনসিংহ জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি ঈশ্বরগঞ্জ থানার মো. সাজ্জাদ রোমন পুংগলী ইউনিয়ন যুব ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে খেলার সামগ্রী বিতরণ। কুলিয়ারচরে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ বিষয়ক অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত কেরানীগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে ৩ জনের কারাদণ্ড ও জরিমানা

কন্যাশিশু: বোঝা নয়, সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি।

নাগেশ্বরী উপজেলা, প্রতিনিধি,:

আজ ৩০ শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি: জাতীয় কন্যা দিবস। একটি কন্যাশিশুর জন্ম থেকে বেড়ে ওঠা, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও স্বপ্নপূরণের অধিকার নিয়ে নতুন করে ভাবার দিন। কন্যাশিশুকে কেবল পরিবারের দায়িত্ব কিংবা বোঝা হিসেবে নয়, বরং একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ শক্তি হিসেবে দেখার সময় এসেছে।

একটি কন্যাশিশু যখন জন্ম নেয়, তখন তার চোখে থাকে অসংখ্য স্বপ্ন। সে পড়াশোনা করতে চায়, নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়, সমাজে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে চায়। কিন্তু বাস্তবতা হলো—অনেক কন্যাশিশু এখনো নানা বৈষম্য, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, সহিংসতা, হয়রানি, শিক্ষাবঞ্চনা ও সামাজিক কুসংস্কারের শিকার হয়। কোথাও অর্থনৈতিক সংকট, কোথাও নিরাপত্তাহীনতা, আবার কোথাও পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা তাদের স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য শুরু হয় অনেক সময় পরিবার থেকেই। ছেলের পড়াশোনাকে বিনিয়োগ এবং মেয়ের পড়াশোনাকে খরচ হিসেবে দেখার মানসিকতা এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। অথচ একজন শিক্ষিত ও আত্মনির্ভর কন্যা ভবিষ্যতে শুধু নিজের জীবনই বদলায় না, একটি পরিবার এবং পরবর্তী প্রজন্মকেও আলোকিত করতে পারে।

কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে নিরাপদ পরিবেশ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হয়রানি প্রতিরোধ, অনলাইনে নিরাপত্তা এবং পরিবারে সচেতনতা—সব ক্ষেত্রেই কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ বন্ধে পরিবার, সমাজ, প্রশাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, মাধ্যমিক পর্যায়ে ছেলেদের ঝরে পড়ার হার প্রায় ৩০ দশমিক ৬৩ শতাংশ। মেয়েদের ক্ষেত্রে এই হার আরও বেশি—৩৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

কন্যাশিশুর স্বপ্নকে সীমাবদ্ধ না করে তাকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে। বিজ্ঞান, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশাসন, সাংবাদিকতা, ব্যবসা, খেলাধুলা কিংবা প্রযুক্তি—সব ক্ষেত্রেই মেয়েদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

জাতীয় কন্যা দিবস শুধু একটি দিবস পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এই দিনটি হোক আমাদের অঙ্গীকারের দিন—কোনো কন্যাশিশু যেন শুধু মেয়ে হওয়ার কারণে পিছিয়ে না পড়ে। তার শিক্ষা, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও স্বপ্নের অধিকার নিশ্চিত করতে পরিবার থেকেই পরিবর্তনের সূচনা করতে হবে।

মনে রাখতে হবে, কন্যাশিশুর হাতে বই তুলে দেওয়া মানে শুধু একজন শিশুকে শিক্ষিত করা নয়; বরং একটি পরিবার, একটি সমাজ এবং একটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আলোকিত করার পথ তৈরি করা।

কন্যারা বোঝা নয়—তারা সম্ভাবনা। তাদের স্বপ্নের ডানা মেলে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের সবার।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সাঁথিয়ায় মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন এমপি নাজিবুর রহমান মোমেন।

কন্যাশিশু: বোঝা নয়, সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি।

Update Time : 01:30:21 am, Thursday, 1 October 2026

নাগেশ্বরী উপজেলা, প্রতিনিধি,:

আজ ৩০ শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি: জাতীয় কন্যা দিবস। একটি কন্যাশিশুর জন্ম থেকে বেড়ে ওঠা, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও স্বপ্নপূরণের অধিকার নিয়ে নতুন করে ভাবার দিন। কন্যাশিশুকে কেবল পরিবারের দায়িত্ব কিংবা বোঝা হিসেবে নয়, বরং একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ শক্তি হিসেবে দেখার সময় এসেছে।

একটি কন্যাশিশু যখন জন্ম নেয়, তখন তার চোখে থাকে অসংখ্য স্বপ্ন। সে পড়াশোনা করতে চায়, নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়, সমাজে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে চায়। কিন্তু বাস্তবতা হলো—অনেক কন্যাশিশু এখনো নানা বৈষম্য, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, সহিংসতা, হয়রানি, শিক্ষাবঞ্চনা ও সামাজিক কুসংস্কারের শিকার হয়। কোথাও অর্থনৈতিক সংকট, কোথাও নিরাপত্তাহীনতা, আবার কোথাও পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা তাদের স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য শুরু হয় অনেক সময় পরিবার থেকেই। ছেলের পড়াশোনাকে বিনিয়োগ এবং মেয়ের পড়াশোনাকে খরচ হিসেবে দেখার মানসিকতা এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। অথচ একজন শিক্ষিত ও আত্মনির্ভর কন্যা ভবিষ্যতে শুধু নিজের জীবনই বদলায় না, একটি পরিবার এবং পরবর্তী প্রজন্মকেও আলোকিত করতে পারে।

কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে নিরাপদ পরিবেশ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হয়রানি প্রতিরোধ, অনলাইনে নিরাপত্তা এবং পরিবারে সচেতনতা—সব ক্ষেত্রেই কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ বন্ধে পরিবার, সমাজ, প্রশাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, মাধ্যমিক পর্যায়ে ছেলেদের ঝরে পড়ার হার প্রায় ৩০ দশমিক ৬৩ শতাংশ। মেয়েদের ক্ষেত্রে এই হার আরও বেশি—৩৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

কন্যাশিশুর স্বপ্নকে সীমাবদ্ধ না করে তাকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে। বিজ্ঞান, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশাসন, সাংবাদিকতা, ব্যবসা, খেলাধুলা কিংবা প্রযুক্তি—সব ক্ষেত্রেই মেয়েদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

জাতীয় কন্যা দিবস শুধু একটি দিবস পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এই দিনটি হোক আমাদের অঙ্গীকারের দিন—কোনো কন্যাশিশু যেন শুধু মেয়ে হওয়ার কারণে পিছিয়ে না পড়ে। তার শিক্ষা, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও স্বপ্নের অধিকার নিশ্চিত করতে পরিবার থেকেই পরিবর্তনের সূচনা করতে হবে।

মনে রাখতে হবে, কন্যাশিশুর হাতে বই তুলে দেওয়া মানে শুধু একজন শিশুকে শিক্ষিত করা নয়; বরং একটি পরিবার, একটি সমাজ এবং একটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আলোকিত করার পথ তৈরি করা।

কন্যারা বোঝা নয়—তারা সম্ভাবনা। তাদের স্বপ্নের ডানা মেলে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের সবার।