Dhaka 6:00 am, Saturday, 26 September 2026
News Title :
পাঁচবিবির উপজেলা ৮নং আওলায় ইউনিয়নে খেলাধুলায় উৎসাহ দিতে ফুটবল বিতরণ করেন ৬নং ওয়ার্ড মেম্বার প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন।  মাদকমুক্ত ‎আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া পুলিশের পক্ষে মাদক নিয়ন্ত্রণে সম্ভব না, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেন। কুড়িগ্রামে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের দায়িত্বশীল সমাবেশ অনুষ্ঠিত। ফরিদপুরে নিখোঁজ নারী উদ্ধার, নারী নির্যাতন, মাদক ও চুরি মামলায় ৩ আসামি গ্রেপ্তার। জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু ও বৈশ্বিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা। জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিজিবি কর্তৃক রাজশাহী সীমান্তে অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ। কাহারোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবায় ডিজিটাল যুগের সূচনা অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল মেশিন, উন্নত সেবা পাবেন কাহারোলবাসী। ‎কাহারোল উপজেলা চত্বরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ধূমপান ও সড়ক পরিবহন আইনে জরিমানা। পাবনায় ‘মাদকাসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব ও করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত।

জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এস এ বাংলা নিউজ ডেস্ক।।

বিশ্বশান্তি, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু ন্যায়বিচার ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা তুলে ধরলেন

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের (UNGA) অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের General Assembly Hall-এ তিনি বাংলাদেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অগ্রাধিকার তুলে ধরেন। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোরে ভাষণটি প্রচারিত হয়।

ভাষণের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি স্বাধীনতার পর গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মত্যাগকারীদের স্মরণ করেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি।

জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে নিজের পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তাঁর বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়াও জাতিসংঘের এই মঞ্চে বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে বক্তব্য রেখেছিলেন। একই ধারাবাহিকতায় তিনি বাংলাদেশের জনগণ ও দেশের স্বার্থের কথা তুলে ধরতে এখানে দাঁড়িয়েছেন বলে জানান।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট, জ্বালানি নিরাপত্তা ও মূল্যস্ফীতির প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংঘাতের সমাধান হতে হবে আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে। রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থ, সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ভাষণে নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থনও পুনরায় তুলে ধরেন।

রোহিঙ্গা সংকটকে বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ১২ লাখের বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। তিনি তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা কামনা করেন এবং প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় জলবায়ু ন্যায়বিচার, অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা, নারীর শিক্ষা ও কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের ‘Recovery, Restoration and Reconstruction’—৩-আর কৌশল তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই কৌশলের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক রূপান্তর এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভাষণের শেষদিকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার, যেখানে তরুণরা নির্ভয়ে নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাবে এবং প্রতিটি শিশু তার সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পাবে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে—‘বাংলাদেশ সবার আগে: সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই প্রত্যয়।

জাতিসংঘের নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বানের মধ্য দিয়ে ভাষণ শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

পাঁচবিবির উপজেলা ৮নং আওলায় ইউনিয়নে খেলাধুলায় উৎসাহ দিতে ফুটবল বিতরণ করেন ৬নং ওয়ার্ড মেম্বার প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন। 

জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

Update Time : 11:58:20 pm, Thursday, 24 September 2026

এস এ বাংলা নিউজ ডেস্ক।।

বিশ্বশান্তি, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু ন্যায়বিচার ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা তুলে ধরলেন

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের (UNGA) অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের General Assembly Hall-এ তিনি বাংলাদেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অগ্রাধিকার তুলে ধরেন। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোরে ভাষণটি প্রচারিত হয়।

ভাষণের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি স্বাধীনতার পর গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মত্যাগকারীদের স্মরণ করেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি।

জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে নিজের পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তাঁর বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়াও জাতিসংঘের এই মঞ্চে বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে বক্তব্য রেখেছিলেন। একই ধারাবাহিকতায় তিনি বাংলাদেশের জনগণ ও দেশের স্বার্থের কথা তুলে ধরতে এখানে দাঁড়িয়েছেন বলে জানান।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট, জ্বালানি নিরাপত্তা ও মূল্যস্ফীতির প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংঘাতের সমাধান হতে হবে আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে। রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থ, সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ভাষণে নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থনও পুনরায় তুলে ধরেন।

রোহিঙ্গা সংকটকে বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ১২ লাখের বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। তিনি তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা কামনা করেন এবং প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় জলবায়ু ন্যায়বিচার, অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা, নারীর শিক্ষা ও কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের ‘Recovery, Restoration and Reconstruction’—৩-আর কৌশল তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই কৌশলের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক রূপান্তর এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভাষণের শেষদিকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার, যেখানে তরুণরা নির্ভয়ে নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাবে এবং প্রতিটি শিশু তার সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পাবে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে—‘বাংলাদেশ সবার আগে: সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই প্রত্যয়।

জাতিসংঘের নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বানের মধ্য দিয়ে ভাষণ শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।