

ঢাকা প্রতিনিধি:
রাজধানীর সাতটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অন্তত ১৪টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত মালিবাগ, আগারগাঁও, মহাখালী, যাত্রাবাড়ী, বাবুবাজার, মগবাজার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবনের বিপরীত সড়কে এসব বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। একই রাতে কাফরুল থানার সামনে একটি ফাঁকা বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনায় যাত্রাবাড়ীতে ইবাদুর রহমান নামে এক রিকশাচালক আহত হয়েছেন। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যান্য স্থানে বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
দুপুরে জুমার নামাজের পর মালিবাগ রেলগেটসংলগ্ন সড়কে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যার দিকে মহাখালী ও আগারগাঁও বেতার ভবনের সামনেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।
এরপর সন্ধ্যার পর যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান ফটকের সামনে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। রাত পৌনে ৮টার দিকে বিস্ফোরণের মধ্যে ইবাদুর রহমান আহত হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
রাত ৮টার দিকে বাবুবাজার ব্রিজের নিচেও একটি ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল জানান, বিস্ফোরণের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
রাত সোয়া ৯টার দিকে মগবাজার মোড় জামে মসজিদের পাশে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। হাতিরঝিল থানার ওসি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
রাত ১১টার দিকে বিটিভির প্রধান ফটকের বিপরীত পাশের সড়কে জোড়া ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে।
এদিকে রাত ১০টা ১৪ মিনিটের দিকে কাফরুল থানার সামনে একটি ফাঁকা বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে কে বা কারা বাসটিতে আগুন দিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণের ঘটনাগুলোর বিষয়ে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত করা হবে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজের আগে গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের ঝটিকা মিছিল এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছিল। ওই ঘটনায় পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপের অভিযোগও ওঠে। পরে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি তাজা ককটেল উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ ৮৩ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে।
ওই ঘটনার পর ১৬ সেপ্টেম্বর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ও সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। এর কয়েক দিনের মধ্যেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটল।
ঘটনাগুলোর পেছনে কারা জড়িত এবং এর মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা প্রতিনিধি: