

সোহরাব উদ্দিন মন্ডল, গাজীপুর
গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুরে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বিভিন্ন অংশ দখল করে রিকশা, ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহনের ওপর ভাসমান দোকান বসিয়ে তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী বাজার। এসব দোকানকে কেন্দ্র করে সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে একের পর এক দোকানের সারি। ফলে ব্যস্ত সময়ে যানজট, পথচারীদের দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে দোকান বসানোর সুযোগ করে দিয়ে স্থানীয় একটি চক্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।
কাশিমপুর থেকে শ্রীপুরমুখী সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ চিত্র দেখা যায়। বারেন্ডা এলাকার ডিবিএল গ্রুপের ফ্যাক্টরির সামনের সড়ক, কাজী মার্কেট, সুলতান মার্কেট, স্কয়ার গেট পেরিয়ে হাজী মার্কেট এলাকায় সড়কের পাশে বিভিন্ন ধরনের ভাসমান ও অস্থায়ী দোকান বসানো হয়েছে। এসব দোকানে নানা ধরনের পণ্য সাজিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।
দোকানের পাশাপাশি ক্রেতাদের ভিড় ও যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকায় সড়কের চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
বিশেষ করে অফিস শুরু ও ছুটির সময় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা ও ছুটির সময়ে এসব এলাকায় যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হয় কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের। অনেক ক্ষেত্রে পথচারীদের ফুটপাত বা রাস্তার পাশের জায়গা ব্যবহার করতে না পেরে মূল সড়কে নেমে চলাচল করতে হয়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
অন্যদিকে কাশিমপুর থেকে জিরানীমুখী সড়কের জিতার মোড়, আলিম গার্মেন্টসের গেট, মোল্লা মার্কেট, হাতিমারা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের গেট, ঈদগাহ মাঠ, পানিশাইল ও মাছিহাতা এলাকাতেও সড়কের পাশে বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী দোকান বসানো হয়েছে। বিশেষ করে মাছিহাতা এলাকায় বিভিন্ন পণ্যের দোকান বসিয়ে সড়কের পাশের জায়গা দখলের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালীরা এসব দোকান বসানোর সুযোগ করে দিয়ে দোকানপ্রতি দৈনিক ৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে থাকে। ফলে সড়কের জায়গা দখল শুধু যানজটের কারণই হচ্ছে না, এর সঙ্গে একটি চাঁদাবাজির ব্যবস্থাও গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ডিবিএল ফ্যাক্টরির সামনের এলাকায় স্থানীয়ভাবে পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, টুটুল, টুটুলের অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী, শামিম এবং বাঘু নামের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দোকানদারদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ভাসমান দোকানগুলোর কারণে শুধু যানজট নয়, নানা ধরনের জনদুর্ভোগ তৈরি হচ্ছে। সড়কের জায়গা সংকুচিত হওয়ায় যানবাহনের গতি কমে যাচ্ছে, কোথাও কোথাও দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারী অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য যানবাহনও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গেটের সামনে দোকান ও ক্রেতাদের ভিড় থাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
এ ছাড়া দোকানের সামনে রিকশা, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল দাঁড়িয়ে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। দোকানগুলোতে পণ্য সাজিয়ে রাখার কারণে সড়কের পাশের জায়গা সংকুচিত হয় এবং পথচারীদের অনেক সময় যানবাহনের মাঝ দিয়েই চলাচল করতে হয়। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ছোট ব্যবসায়ীদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রশাসন চাইলে নির্দিষ্ট জায়গায় তাদের ব্যবসার সুযোগ করে দিতে পারে। কিন্তু কোনোভাবেই সরকারি সড়ক, ফুটপাত কিংবা জনসাধারণের চলাচলের জায়গা দখল করে বাজার গড়ে তোলার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুধু দোকান উচ্ছেদ করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। যারা এসব দোকান বসানোর সুযোগ করে দিচ্ছে এবং নিয়মিত টাকা আদায় করছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় এক জায়গা থেকে দোকান সরিয়ে অন্য জায়গায় বসানো এবং পুনরায় একই স্থানে দোকান গড়ে ওঠার ঘটনা চলতেই থাকবে।
সরেজমিনে ধারণ করা দৃশ্যেও দেখা যায়, ব্যস্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে ইজিবাইক, রিকশা ও ভ্যানের পাশাপাশি অস্থায়ী দোকান বসানো হয়েছে। কোথাও পণ্য নিয়ে ভ্যান দাঁড়িয়ে আছে, কোথাও দোকানের সামনে ক্রেতাদের ভিড়। এতে যানবাহন চলাচলের জায়গা আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে সড়কের পাশে পথচারীদের চলাচলের জায়গা কমে যাওয়ায় অনেককে যানবাহনের কাছাকাছি দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। রাতের ব্যস্ত সময়েও একই স্থানে যানবাহন, দোকানদার, ক্রেতা ও পথচারীদের উপস্থিতিতে সড়কের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার চিত্র দেখা যায়।
এ অবস্থায় কাশিমপুরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো দখলমুক্ত করতে দ্রুত কার্যকর অভিযান পরিচালনা, ভাসমান দোকান উচ্ছেদ এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে দোকান বসানোর নামে কারা চাঁদা আদায় করছে, তাদের চিহ্নিত করে তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোরালো দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, গাজীপুর সিটি করপোরেশন, কাশিমপুর থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সমন্বিতভাবে ব্যবস্থা নিলে সড়ক দখল, যানজট ও চাঁদাবাজির এই চক্র বন্ধ করা সম্ভব হবে। জনস্বার্থে দ্রুত এ বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
সোহরাব উদ্দিন মন্ডল, গাজীপুর