

রাজবাড়ী প্রতিনিধি: রাজবাড়ীর সদর উপজেলায় ঘুমন্ত অবস্থায় এক সেনা সদস্যের বিশেষ অঙ্গ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই সেনা সদস্য বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের পার শাইলকাঠি গ্রামে, সেনা সদস্য ইমান মোল্লার শ্বশুরবাড়িতে।
আহত ইমান মোল্লা (২৮) সুলতানপুর ইউনিয়নের লক্ষণদিয়া গ্রামের এখলাছ মোল্লার ছেলে। তার স্ত্রী রোকসানা বেগম একই ইউনিয়নের পার শাইলকাঠি গ্রামের নুর ইসলাম শেখের মেয়ে। তাদের চার বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছয় বছর আগে ভালোবেসে খালাতো বোন রোকসানা বেগমকে বিয়ে করেন ইমান মোল্লা। বিয়ের পর রোকসানা বাবার বাড়িতেই বসবাস করতেন। দাম্পত্য জীবনের শুরুটা স্বাভাবিক থাকলেও গত তিন বছর ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ১০ দিনের ছুটিতে বাড়িতে আসেন ইমান। অভিযোগ অনুযায়ী, ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ছেলের অসুস্থতার কথা বলে রোকসানা তাকে বাবার বাড়িতে ডাকেন। সেখানে রাতের খাবার শেষে ঘুমিয়ে পড়েন ইমান।
ইমানের অভিযোগ, রাত আনুমানিক ২টার দিকে তার স্ত্রী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গোপন অঙ্গে আঘাত করেন। বাধা দিতে গেলে তার হাতেও আঘাত করা হয়। পরে তিনি চিৎকার করলে পরিবারের সদস্যরা এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার শরীরে একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইমান বলেন, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেছেন এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।
ইমানের মা রহিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, এ ঘটনায় তার ছেলের জীবন বিপন্ন হয়েছে। তিনি অভিযুক্তের শাস্তি দাবি করেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Reporter Name