Dhaka 6:31 pm, Friday, 31 July 2026
News Title :
উচ্ছেদের দুই বছর না পেরোতেই আবারও দখলে বনভূমি, বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ সাংবাদিকদের নিবন্ধন নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে: বিএমএসএফ কেন্দ্রীয় সভাপতি বাঁশখালীতে বন্যাদুর্গতদের টেকসই পুনর্বাসনে বাড়ি বাড়ি জেলা প্রশাসক, দ্রুত নতুন ঘর নির্মাণের আশ্বাস সরকারি অনুদানের গরু আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার, সংবাদ সম্মেলনে জিয়াউল ফেরদৌস রাইটের প্রতিবাদ গাজীপুর থেকে বাউফলগামী তরুণ নিখোঁজ, ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব গাজীপুর মহানগর শাখার সাংগঠনিক উন্নয়ন সভা, সাংবিধানিক প্রশিক্ষণ ও গ্রীষ্মকালীন ফল উৎসব অনুষ্ঠিত পীরগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩০ বোতল দেশি মদ উদ্ধার কারাগারে থাকা প্রিন্স মামুনকে আত্মহত্যার চেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ আশ্রয়ণ প্রকল্পে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে ১৮ পরিবার, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রশাসনের নবীগঞ্জে আম গাছে থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার 

দিনাজপুরের বিরামপুরে মাদকদ্রব্যের রমরমা ব্যবসা,স্থানীয় প্রশাসন নীরব—উদ্বেগে পরিবারগুলো 

মোঃ নয়ন মিয়া দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি

বিরামপুর পৌর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকদ্রব্যের প্রকাশ্য সরবরাহ ও কেনাবেচা চললেও কার্যকর প্রতিরোধ দেখা যাচ্ছে না—এমন অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে দিনের পর দিন মাদকের আসর বসছে বলে জানা গেছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকার কেডিসি রোডে অন্তত ৫ থেকে ৬টি স্পটে নিয়মিতভাবে মাদকের লেনদেন হয়। এছাড়া সারগোডাউনের পশ্চিম ও উত্তর পাশ, কলাবাগান, গরুহাটি, ঘাটপাড় ব্রিজ এলাকা, মামুদপুর, থানার পেছনের লিচুবাগান আদিবাসী পাড়া, শান্তিনগর, মির্জাপুর, শিমুলতলি ও ঘোড়াঘাট রেলঘুমটি সংলগ্ন এলাকাসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সন্ধ্যা নামলেই এসব স্থানে অসাধু চক্রের আনাগোনা বেড়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, সংঘবদ্ধ একটি চক্র কৌশলে কিশোর ও তরুণদের টার্গেট করে মাদকের জালে জড়াচ্ছে। স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ উঠতি বয়সের যুবকদের মধ্যে ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদক সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। ফলে পরিবারগুলো গভীর উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে। অনেক অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,“আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে। চোখের সামনে তারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আমরা কার্যকর কোনো অভিযান দেখতে পাচ্ছি না।”সচেতন মহল বলছে, মাদক ব্যবসা শুধু ব্যক্তি বা পরিবারকে নয়, পুরো সমাজ ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং, পারিবারিক সহিংসতাসহ নানা সামাজিক অপরাধের পেছনে মাদকের প্রভাব স্পষ্ট। শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ইতোমধ্যে ছোটখাটো অপরাধ বৃদ্ধির আশঙ্কাও করছেন অনেকে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।এলাকাবাসীর দাবি, মাঝে মাঝে ছোটখাটো অভিযান পরিচালিত হলেও মূল হোতারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। ফলে ব্যবসা বন্ধ না হয়ে উল্টো আরও বিস্তৃত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—কার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এমন প্রকাশ্য মাদক বাণিজ্য চলতে পারে?

সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, অবিলম্বে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে চিহ্নিত স্পটগুলোতে নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে। একইসঙ্গে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, যুব সমাজকে সচেতন করতে সামাজিক উদ্যোগ এবং পরিবারভিত্তিক নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিরামপুরবাসীর প্রত্যাশা—মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও সুস্থ সমাজ গঠনে প্রশাসন দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবে। উঠতি প্রজন্মকে রক্ষা করতে এখনই কঠোর অবস্থান নেওয়া সময়ের দাবি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

উচ্ছেদের দুই বছর না পেরোতেই আবারও দখলে বনভূমি, বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ

দিনাজপুরের বিরামপুরে মাদকদ্রব্যের রমরমা ব্যবসা,স্থানীয় প্রশাসন নীরব—উদ্বেগে পরিবারগুলো 

Update Time : 03:07:20 am, Saturday, 21 February 2026

মোঃ নয়ন মিয়া দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি

বিরামপুর পৌর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকদ্রব্যের প্রকাশ্য সরবরাহ ও কেনাবেচা চললেও কার্যকর প্রতিরোধ দেখা যাচ্ছে না—এমন অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে দিনের পর দিন মাদকের আসর বসছে বলে জানা গেছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকার কেডিসি রোডে অন্তত ৫ থেকে ৬টি স্পটে নিয়মিতভাবে মাদকের লেনদেন হয়। এছাড়া সারগোডাউনের পশ্চিম ও উত্তর পাশ, কলাবাগান, গরুহাটি, ঘাটপাড় ব্রিজ এলাকা, মামুদপুর, থানার পেছনের লিচুবাগান আদিবাসী পাড়া, শান্তিনগর, মির্জাপুর, শিমুলতলি ও ঘোড়াঘাট রেলঘুমটি সংলগ্ন এলাকাসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সন্ধ্যা নামলেই এসব স্থানে অসাধু চক্রের আনাগোনা বেড়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, সংঘবদ্ধ একটি চক্র কৌশলে কিশোর ও তরুণদের টার্গেট করে মাদকের জালে জড়াচ্ছে। স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ উঠতি বয়সের যুবকদের মধ্যে ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদক সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। ফলে পরিবারগুলো গভীর উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে। অনেক অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,“আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে। চোখের সামনে তারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আমরা কার্যকর কোনো অভিযান দেখতে পাচ্ছি না।”সচেতন মহল বলছে, মাদক ব্যবসা শুধু ব্যক্তি বা পরিবারকে নয়, পুরো সমাজ ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং, পারিবারিক সহিংসতাসহ নানা সামাজিক অপরাধের পেছনে মাদকের প্রভাব স্পষ্ট। শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ইতোমধ্যে ছোটখাটো অপরাধ বৃদ্ধির আশঙ্কাও করছেন অনেকে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।এলাকাবাসীর দাবি, মাঝে মাঝে ছোটখাটো অভিযান পরিচালিত হলেও মূল হোতারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। ফলে ব্যবসা বন্ধ না হয়ে উল্টো আরও বিস্তৃত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—কার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এমন প্রকাশ্য মাদক বাণিজ্য চলতে পারে?

সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, অবিলম্বে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে চিহ্নিত স্পটগুলোতে নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে। একইসঙ্গে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, যুব সমাজকে সচেতন করতে সামাজিক উদ্যোগ এবং পরিবারভিত্তিক নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিরামপুরবাসীর প্রত্যাশা—মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও সুস্থ সমাজ গঠনে প্রশাসন দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবে। উঠতি প্রজন্মকে রক্ষা করতে এখনই কঠোর অবস্থান নেওয়া সময়ের দাবি।