Dhaka 11:39 pm, Wednesday, 3 June 2026
News Title :
ইসলামী ব্যাংক রক্ষায় রাঙামাটিতে গ্রাহকদের বিশাল মানববন্ধন: এমডি ওমর ফারুককে পুনর্বহাল ও এস আলমের বিচারের দাবি পাটগ্রাম বিএম কলেজের শিক্ষক নিয়োগের প্রতীবাদে সংবাদ সম্মেলন টুরিস্টদের রাতভর অপেক্ষা, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ও ক্ষোভ: প্রশ্নের মুখে কোনাবাড়ীর ‘চিল ট্যুরিজম ’ আত্মীয়ের সঙ্গে বিয়ে কি নিরাপদ? গবেষণায় উঠে এল নতুন তথ্য নবীগঞ্জে কথিত ডাকাতের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, বসতঘরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ‎ ফুটবল মাঠ নিয়ে সংঘর্ষে উত্তপ্ত বানিয়াচং ‎ওসিসহ আহত অন্তত ৩০ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করল জাতীয়তাবাদী রিকশা, ভ্যান ও অটো চালক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি গাজীপুরে সাংবাদিক নির্যাতন : অপহরণ, মারধরে গ্রেফতার পাঁচজন অভিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের অভিযোগ: এনসিপির সহযোগী সংগঠনের নেতাকে পুলিশে সোপর্দ জঙ্গল সলিমপুরে কারাগার স্থাপনের পরিকল্পনা, অপরাধ দমনে কঠোর বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না প্রথম স্ত্রীর অনুমতি: হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদন, এস এ বাংলা নিউজ।।

মুসলিম আইনানুযায়ী পুরুষের জন্য দ্বিতীয় বিয়ে জায়েজ থাকলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তা ছিল গুরুত্বর অপরাধ ও নৈতিকতার লঙ্ঘন। তবে এবার হাইকোর্ট দিয়েছেন, বাংলাদেশের কোনো মুসলিম পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক নয়।

 

শনিবার (১০ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত ২৪ পৃষ্ঠার একটি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত।

 

মুসলিম পারিবারিক আইন সংক্রান্ত একটি রিটের প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত বলেছেন, ‘দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতির বিষয়টি স্ত্রী নয়, বরং সংশ্লিষ্ট আরবিট্রেশন কাউন্সিলের এখতিয়ারভুক্ত। ফলে স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ—এমন কোনো বিধান প্রচলিত আইনে নেই।’

 

রায়ে বলা হয়, ‘মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুযায়ী দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে পুরুষকে অবশ্যই আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু এই আইনে কোথাও প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেওয়াকে বাধ্যতামূলক শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে যে ধারণা প্রচলিত ছিল—স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে অবৈধ, তা আইনের সরাসরি ব্যাখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও রায়ে মন্তব্য করা হয়।

 

আদালত বলেন, ‘দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা যেহেতু আরবিট্রেশন কাউন্সিলের হাতে ন্যস্ত, সেহেতু স্ত্রী অনুমতি না দিলেই বিয়ে অবৈধ হয়ে যাবে—এমন ব্যাখ্যা আইনি কাঠামোর বাইরে গিয়ে তৈরি হয়েছে। কাউন্সিল সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য, আর্থিক সক্ষমতা ও পারিবারিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে—এটাই আইনের মূল উদ্দেশ্য।’

 

আইনগত প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আদালত উল্লেখ করেন, দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪৯৪ ধারায় দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও, ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ার পর পুরুষের ক্ষেত্রে সেই কঠোরতা শিথিল করা হয়। নতুন আইনে দ্বিতীয় বিয়েকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ না করে তা আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল করা হয়। অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা ১০ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

 

এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের ঘোষণা দিয়েছেন রিটকারীরা। তাদের মতে, এ সিদ্ধান্তের ফলে বহুবিবাহের ক্ষেত্রে নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হতে পারে। নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে সমান অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই তাঁরা রিট করেছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ইসলামী ব্যাংক রক্ষায় রাঙামাটিতে গ্রাহকদের বিশাল মানববন্ধন: এমডি ওমর ফারুককে পুনর্বহাল ও এস আলমের বিচারের দাবি

দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না প্রথম স্ত্রীর অনুমতি: হাইকোর্ট

Update Time : 08:59:12 am, Sunday, 11 January 2026

নিজস্ব প্রতিবেদন, এস এ বাংলা নিউজ।।

মুসলিম আইনানুযায়ী পুরুষের জন্য দ্বিতীয় বিয়ে জায়েজ থাকলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তা ছিল গুরুত্বর অপরাধ ও নৈতিকতার লঙ্ঘন। তবে এবার হাইকোর্ট দিয়েছেন, বাংলাদেশের কোনো মুসলিম পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক নয়।

 

শনিবার (১০ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত ২৪ পৃষ্ঠার একটি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত।

 

মুসলিম পারিবারিক আইন সংক্রান্ত একটি রিটের প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত বলেছেন, ‘দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতির বিষয়টি স্ত্রী নয়, বরং সংশ্লিষ্ট আরবিট্রেশন কাউন্সিলের এখতিয়ারভুক্ত। ফলে স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ—এমন কোনো বিধান প্রচলিত আইনে নেই।’

 

রায়ে বলা হয়, ‘মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুযায়ী দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে পুরুষকে অবশ্যই আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু এই আইনে কোথাও প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেওয়াকে বাধ্যতামূলক শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে যে ধারণা প্রচলিত ছিল—স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে অবৈধ, তা আইনের সরাসরি ব্যাখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও রায়ে মন্তব্য করা হয়।

 

আদালত বলেন, ‘দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা যেহেতু আরবিট্রেশন কাউন্সিলের হাতে ন্যস্ত, সেহেতু স্ত্রী অনুমতি না দিলেই বিয়ে অবৈধ হয়ে যাবে—এমন ব্যাখ্যা আইনি কাঠামোর বাইরে গিয়ে তৈরি হয়েছে। কাউন্সিল সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য, আর্থিক সক্ষমতা ও পারিবারিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে—এটাই আইনের মূল উদ্দেশ্য।’

 

আইনগত প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আদালত উল্লেখ করেন, দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪৯৪ ধারায় দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও, ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ার পর পুরুষের ক্ষেত্রে সেই কঠোরতা শিথিল করা হয়। নতুন আইনে দ্বিতীয় বিয়েকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ না করে তা আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল করা হয়। অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা ১০ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

 

এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের ঘোষণা দিয়েছেন রিটকারীরা। তাদের মতে, এ সিদ্ধান্তের ফলে বহুবিবাহের ক্ষেত্রে নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হতে পারে। নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে সমান অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই তাঁরা রিট করেছিলেন।