Dhaka 7:26 pm, Friday, 18 September 2026
News Title :
নারীসহ অবরুদ্ধ সাবেক ওসি মাহবুবকে উদ্ধার: দরজা ভেঙে বের করল পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। প্রায় ২০ বছর ধরে সরকারি জায়গা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগ। বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে ১২ বছরের শিক্ষার্থী নিখোঁজ। কাশিরাম বেলপুকুরে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে আলোচনায় শেফালী বেগম। পীরগঞ্জে নজরুল বর্ষে পূরস্কার বিতরণ।  ফুলবাড়ীতে পতিত ওয়াপদা বাঁধে লাউয়ের সবুজ বিপ্লব, স্বাবলম্বী ছয় তরু। সাংবাদিক জনি ফারুককে হেয়প্রতিপন্ন করতে ভিত্তিহীন ভুয়া সংবাদপত্রের কাটিং বানিয়ে অপপ্রচার, তীব্র প্রতিবাদ। ঠাকূরগাঁওয়ে ৭১ সারের ডিলার লাইসেন্সের বিপরীতে ৮৮৯টি আবেদন।  সৈয়দপুরে প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত। ঠাকূরগাঁওয়ে গভীর রাতে জুয়ার আসর থেকে পাঁচ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার।   

গ্যাস সংকটে বৈদ্যুতিক চুলার দিকে নগরবাসীর আকর্ষণ: নতুন রান্নার যুগে প্রবেশ

এস. এম. সামজাত (বিশেষ প্রতিনবধি)–

বর্তমান গ্যাস সংকট নগরীর মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। লাইনে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া, বহু এলাকায় দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাস না থাকা এবং এলপিজি সিলিন্ডারের সংকট ও লাগামহীন দামের কারণে রান্না নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন নগরবাসী। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে অনেক পরিবার ঝুঁকছেন বৈদ্যুতিক চুলার দিকে।

 

ট্রেড মান্ডে, ব্যবসায়ীরা বলছেন, চলতি মাসে বৈদ্যুতিক চুলার বিক্রি অন্তত ২০ শতাংশ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে, সিলিন্ডার গ্যাসের সংকট গত দুই সপ্তাহে আরো তীব্র হয়েছে; ফলে গ্রাহকরা দোকানে গেলে সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে যেখানে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেও দামের বৃদ্ধি ঘটেছে। লাইনের গ্যাসের অবস্থা অত্যন্ত অনিয়মিত হয়ে পড়েছে, ফলে লোকজন বৈদ্যুতিক চুলার দিকে ঝুঁকছেন।

 

চান্দগাঁওয়ের বাসিন্দা মামুন হাসান বলেন, “গ্যাস সংকটের কারণে রান্না বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়েই বৈদ্যুতিক চুলা কিনেছি।” বিক্রেতাদের মতে, বর্তমানে বাজারে প্রাধান্য পাচ্ছে ইনডাকশন ও ইনফ্রারেড চুলা, যেখানে ইনফ্রারেড চুলার চাহিদা তুলনামূলক বেশি।

 

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বৈদ্যুতিক চুলার মজুদ দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, আগে যেখানে মাসে মাত্র কয়েকটি চুলা বিক্রি হতো, এখন গ্যাস সংকটের কারণে বিক্রি দ্বিগুণ বেড়ে গেছে।

 

নগরবাসীরা বলছেন, দিনের নির্দিষ্ট সময় ছাড়া গ্যাস পাওয়া যায় না এবং চাপ এত কম থাকে যে রান্না করা সম্ভব হয় না। তাই দ্রুততার সাথে রান্না শেষ করার জন্য বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার শুরু করেছেন তারা। বাকলিয়ার বাসিন্দা ফেরদৌসী আক্তার বলেন, “এখন গ্যাসের ওপর আর ভরসা করতে হয় না।”

 

গণনা করে দেখা যাচ্ছে, বৈদ্যুতিক চুলার দাম ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৭ হাজার টাকার মধ্যে। তবে অনেক ক্রেতা বিদ্যুৎ বিল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, তাদের আশঙ্কা—গ্যাস সংকট দীর্ঘ হলে বিদ্যুতের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।

 

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, শীতকাল হওয়ায় বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা তেমন বেশি নয়। তবে গ্যাস সংকটের কারণে বৈদ্যুতিক চুলার ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।

 

এভাবে গ্যাস সংকটের ভেতর দিয়ে নগরবাসী বৈদ্যুতিক চুলার দিকে ঝুঁকছেন, যা নতুন এক রান্নার যুগের সূচনা করছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

নারীসহ অবরুদ্ধ সাবেক ওসি মাহবুবকে উদ্ধার: দরজা ভেঙে বের করল পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।

গ্যাস সংকটে বৈদ্যুতিক চুলার দিকে নগরবাসীর আকর্ষণ: নতুন রান্নার যুগে প্রবেশ

Update Time : 04:27:39 am, Saturday, 31 January 2026

এস. এম. সামজাত (বিশেষ প্রতিনবধি)–

বর্তমান গ্যাস সংকট নগরীর মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। লাইনে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া, বহু এলাকায় দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাস না থাকা এবং এলপিজি সিলিন্ডারের সংকট ও লাগামহীন দামের কারণে রান্না নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন নগরবাসী। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে অনেক পরিবার ঝুঁকছেন বৈদ্যুতিক চুলার দিকে।

 

ট্রেড মান্ডে, ব্যবসায়ীরা বলছেন, চলতি মাসে বৈদ্যুতিক চুলার বিক্রি অন্তত ২০ শতাংশ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে, সিলিন্ডার গ্যাসের সংকট গত দুই সপ্তাহে আরো তীব্র হয়েছে; ফলে গ্রাহকরা দোকানে গেলে সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে যেখানে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেও দামের বৃদ্ধি ঘটেছে। লাইনের গ্যাসের অবস্থা অত্যন্ত অনিয়মিত হয়ে পড়েছে, ফলে লোকজন বৈদ্যুতিক চুলার দিকে ঝুঁকছেন।

 

চান্দগাঁওয়ের বাসিন্দা মামুন হাসান বলেন, “গ্যাস সংকটের কারণে রান্না বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়েই বৈদ্যুতিক চুলা কিনেছি।” বিক্রেতাদের মতে, বর্তমানে বাজারে প্রাধান্য পাচ্ছে ইনডাকশন ও ইনফ্রারেড চুলা, যেখানে ইনফ্রারেড চুলার চাহিদা তুলনামূলক বেশি।

 

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বৈদ্যুতিক চুলার মজুদ দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, আগে যেখানে মাসে মাত্র কয়েকটি চুলা বিক্রি হতো, এখন গ্যাস সংকটের কারণে বিক্রি দ্বিগুণ বেড়ে গেছে।

 

নগরবাসীরা বলছেন, দিনের নির্দিষ্ট সময় ছাড়া গ্যাস পাওয়া যায় না এবং চাপ এত কম থাকে যে রান্না করা সম্ভব হয় না। তাই দ্রুততার সাথে রান্না শেষ করার জন্য বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার শুরু করেছেন তারা। বাকলিয়ার বাসিন্দা ফেরদৌসী আক্তার বলেন, “এখন গ্যাসের ওপর আর ভরসা করতে হয় না।”

 

গণনা করে দেখা যাচ্ছে, বৈদ্যুতিক চুলার দাম ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৭ হাজার টাকার মধ্যে। তবে অনেক ক্রেতা বিদ্যুৎ বিল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, তাদের আশঙ্কা—গ্যাস সংকট দীর্ঘ হলে বিদ্যুতের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।

 

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, শীতকাল হওয়ায় বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা তেমন বেশি নয়। তবে গ্যাস সংকটের কারণে বৈদ্যুতিক চুলার ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।

 

এভাবে গ্যাস সংকটের ভেতর দিয়ে নগরবাসী বৈদ্যুতিক চুলার দিকে ঝুঁকছেন, যা নতুন এক রান্নার যুগের সূচনা করছে।