

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ৪নং সুবিল ইউনিয়নের বুড়িরপাড় গ্রামের পুরাতন বাজারে কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র, বিএসটিআই-এর অনুমোদন এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে ‘মেসার্স নূর জাহান বেকারী’। এ বেকারিতে উৎপাদিত বিস্কুট, রুটি, কেকসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের গায়ে থাকে না উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ। ফলে প্রতিনিয়ত মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, খাদ্যপণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়মনীতি অনুযায়ী যেসব লাইসেন্স ও ছাড়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক, তার সিকিভাগও নেই এই প্রতিষ্ঠানটির। খাদ্যপণ্যের মতো সংবেদনশীল ব্যবসা পরিচালনার জন্য যেসকল কাগজপত্র আবশ্যক, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (BSTI)-এর মান সনদ, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, ফায়ার সার্ভিস লাইসেন্স, কারখানা লাইসেন্স, এবং জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় বা স্বাস্থ্য বিভাগের খাদ্য প্রস্তুতকারক স্বাস্থ্য সনদ। কিন্তু ‘মেসার্স নূর জাহান বেকারী’-এর স্বত্বাধিকারী মো. কুতুব উদ্দিন কোনো ধরনের প্রশাসনিক অনুমোদন বা ছাড়পত্র ছাড়াই দেদারছে এসব অবৈধ খাদ্যপণ্য বাজারে সরবরাহ করে যাচ্ছেন। স্থানীয় এলাকাবাসী ও ক্রেতাদের অভিযোগ, এই বেকারিতে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে পণ্য তৈরি করা হয়। অনেক সময় পচা, বাসি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি করা হয় বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী। পণ্যের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ না থাকায় ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন। বিশেষ করে কোমলমতি শিশু ও শিক্ষার্থীরা এসব বিষাক্ত ও ভেজাল খাবার খেয়ে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে। আইন অনুযায়ী একটি বৈধ বেকারি পরিচালনার জন্য বিএসটিআই লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন, পরিবেশ ছাড়পত্র, স্বাস্থ্য সনদ এবং ফায়ার সার্ভিস লাইসেন্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র থাকা আবশ্যক হলেও, এই প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তার প্রায় সবগুলোই অনুপস্থিত রয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে এই অবৈধ বেকারির বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় বড় ধরনের স্বাস্থ্য বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে এই প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
স্টাফ রিপোর্টার: