

মোঃ কামরুল ইসলাম, রাঙামাটি প্রতিনিধি:-
রাঙামাটি রাজস্থলী সড়কে যাত্রীবাহী পিকআপ ও জীপ চলাচলে বাধা, গাড়ি আটকে যাত্রী নামিয়ে দেওয়া এবং চালক-মালিকদের হুমকির প্রতিবাদে নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন চলাচলের দাবি জানিয়েছে পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো। এ দাবিতে বুধবার রাঙামাটি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। রাঙামাটি যাত্রীবাহী পিকআপ মালিক সমবায় সমিতি লিমিটেড এবং রাঙামাটি জেলা কার, মাইক্রোবাস ও পিকআপ-জীপ গাড়ি চালক শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা যৌথভাবে এই স্মারকলিপি দেন। জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. মোবারক হোসেন। এছাড়া পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম-এর কাছেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, প্রায় দুই থেকে তিন বছর ধরে রাঙামাটি থেকে রাজস্থলী রুটে নিয়মিত যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে কাপ্তাই ও রাজস্থলী উপজেলার সাধারণ মানুষ সরকারি-বেসরকারি কাজ ও জরুরি প্রয়োজনে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে দুই সংগঠন যৌথভাবে গত ১৬ আগস্ট থেকে পর্যটকবাহী পিকআপ ও জীপের মাধ্যমে রাঙামাটি–রাজস্থলী রুটে যাত্রী পরিবহন চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। তবে অভিযোগে বলা হয়, ওই দিন সকাল ৭টার দিকে চট্টগ্রাম ও রাউজান থেকে আসা কিছু ব্যক্তি এবং চট্টগ্রাম–রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতি ও চালক সমিতির লোকজন সড়কে বাস দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। পিকআপ ও জীপ থেকে যাত্রী নামিয়ে দেওয়া হয় এবং কয়েকটি গাড়ি আটকে রাখা হয়। একই দিন রাজস্থলী থেকে রাঙামাটির উদ্দেশে আসা একটি পিকআপ-জীপকে কাপ্তাইয়ের রাইখালী এলাকায় থামিয়ে যাত্রী নামিয়ে হয়রানি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। ১৭ আগস্টও একই এলাকায় গাড়ি আটকে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। সংগঠনগুলোর নেতারা দাবি করেন, পিকআপ-জীপ চলাচল অব্যাহত থাকলে বড় দুর্ঘটনা ঘটানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাঙামাটি থেকে কোনো কার, মাইক্রোবাস বা অন্যান্য যানবাহন রাউজানের ওপর দিয়ে চলতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে মালিক-চালকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্মারকলিপিতে প্রশ্ন তোলা হয়, জেলার অভ্যন্তরে এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় যাত্রী পরিবহনে স্থানীয় মালিক-শ্রমিকদের কেন বাধা দেওয়া হচ্ছে। যাত্রীসেবা দিতে গিয়ে সম্ভাব্য হামলা ও দুর্ঘটনা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করে পিকআপ-জীপ চলাচলের জন্য প্রশাসন ও পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নেতারা।
তবে স্মারকলিপিতে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে চট্টগ্রাম–রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতি বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি যাত্রীবাহী পিকআপ মালিক সমিতির উপদেষ্টা মোহাম্মদ শাহিন আল মামুন ও নির্মল বড়ুয়া মিলন, সভাপতি প্রজেশ চাকমা, সাধারণ সম্পাদক লিটন চাকমা, রাঙামাটি জেলা কার, মাইক্রোবাস ও জীপ গাড়ি চালক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ ইসমাইল, সাধারণ সম্পাদক মো. দিদারুল আলম, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. হোসেন, লাইন সম্পাদক বাবু টুলু বড়ুয়া এবং প্রচার সম্পাদক মো. আরাফাত হোসেনসহ অন্যরা।
মোঃ কামরুল ইসলাম, রাঙামাটি প্রতিনিধি: