

এস এ বাংলা নিউজ, ডেস্ক রিপোর্ট
গাজীপুরের কালিয়াকৈর রেঞ্জের মৌচাক বন বিটের আওতাধীন ভান্নারা সাব-বিটের ভান্নারা মৌজায় উচ্ছেদকৃত বনভূমি পুনরায় দখল করে অস্থায়ী দোকানপাট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বন বিভাগের নিয়মিত তদারকির অভাব এবং কিছু অসাধু ব্যক্তির সহযোগিতায় আবারও বনভূমি দখলের ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে ভান্নারা মৌজায় বনের জমি দখল করে গড়ে ওঠা বটতলা বনফুল বাজারে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে বন বিভাগ। অভিযানে দখলমুক্ত হওয়া জমিতে খুঁটি গেড়ে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং বনায়নের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়। এরপর দীর্ঘদিন সেখানে কোনো দোকানপাট ছিল না।
তবে সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, কাঁটাতারের বেড়া কেটে খুঁটি সরিয়ে আবারও সড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে টিন ও ত্রিপল দিয়ে ছোট-বড় অস্থায়ী দোকানঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব দোকানঘর বন বিভাগের জমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, ভান্নারা সাব-বিটের গার্ড আমিনুল, জামাল ও মোবারকের যোগসাজশে পুনরায় দখলের ঘটনা ঘটছে। যদিও এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শুধু উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; বনভূমি রক্ষায় নিয়মিত নজরদারি, বেড়ার রক্ষণাবেক্ষণ এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় বনভূমি রক্ষা করা সম্ভব হবে না।
এ বিষয়ে মৌচাক বিটের ফরেস্ট অফিসার শাজাহানের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এই দায়িত্ব আপনাদের কে দিয়েছে? পারলে সবকিছু ভেঙে দেন।” এছাড়া তিনি সাংবাদিকদের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলেও অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।
বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সরকার যখন বিভিন্ন কার্যক্রম জোরদার করার কথা বলছে, তখন মাঠপর্যায়ে এমন অভিযোগ ও বনভূমি পুনর্দখলের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।
এস এ বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট