Dhaka 5:57 am, Wednesday, 29 July 2026
News Title :
আশ্রয়ণ প্রকল্পে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে ১৮ পরিবার, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রশাসনের নবীগঞ্জে আম গাছে থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার  রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পথে হামলা, ছিনতাইয়ের অভিযোগ; গণপিটুনিতে আহত সন্দেহভাজন হাসপাতালে বিএমএসএফ কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি জসিম, সম্পাদক নাজিম নির্বাচিত ভারতে এক যুবককে একসঙ্গে বিয়ে করলেন তিন বোন, সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার ঝড় রাজশাহীর কাটাখালীতে ২০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার গণভোট, জুলাই সনদ ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল রাঙামাটিতে পারিবারিক কলহের জেরে মর্মান্তিক ঘটনা: মায়ের কোপে প্রাণ গেল মাদকাসক্ত ছেলের গাজীপুর মহানগর কৃষক দলের ৬ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা জয়পুরহাটে র‍্যাব-৫ এর অভিযানে অস্ত্র, গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

মা-মেয়েকে ধর্ষণের মামলায় দুজনের যাবজ্জীবন, একজনের ১০ বছরের কারাদণ্ড

এস এ বাংলা নিউজ ডেস্ক রিপোর্ট

ফেনীর দাগনভূঞায় মা-মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং অপর এক আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার (৫ জুলাই) ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এন এম মোর্শেদ খান এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে পলাতক প্রধান আসামি সাইফুল ইসলামকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সাজা দেওয়া হয়েছে অপর আসামি নিপু কুমার দাসকে। এছাড়া আসামি মো. আজাদকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, দণ্ডপ্রাপ্ত তিনজনই দাগনভূঞা উপজেলার বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় নিপু কুমার দাস ও মো. আজাদ আদালতে উপস্থিত থাকলেও প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম পলাতক ছিলেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী প্রবাসে থাকায় তিনি তার ১২ বছর বয়সী মেয়ে ও ৭ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট গভীর রাতে তিন আসামি তাদের বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ঘরে প্রবেশ করে এবং ভুক্তভোগীদের ওপর নির্যাতন চালায়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, একপর্যায়ে প্রধান আসামি গৃহবধূকে আলাদা কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় বাধা দিতে এলে তার মাকেও জোরপূর্বক বাড়ির বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বাড়ির পাশের একটি স্থানে তাকে ধর্ষণ করা হয় এবং অপর আসামি এ ঘটনায় সহযোগিতা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

ঘটনার তিন দিন পর, ২০১৮ সালের ১১ আগস্ট ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে দাগনভূঞা থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ২০ জানুয়ারি তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট সাহাব উদ্দিন আহমেদ জানান, মামলায় সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন এবং অপর আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

আশ্রয়ণ প্রকল্পে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে ১৮ পরিবার, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রশাসনের

মা-মেয়েকে ধর্ষণের মামলায় দুজনের যাবজ্জীবন, একজনের ১০ বছরের কারাদণ্ড

Update Time : 10:49:30 am, Sunday, 5 July 2026

এস এ বাংলা নিউজ ডেস্ক রিপোর্ট

ফেনীর দাগনভূঞায় মা-মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং অপর এক আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার (৫ জুলাই) ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এন এম মোর্শেদ খান এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে পলাতক প্রধান আসামি সাইফুল ইসলামকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সাজা দেওয়া হয়েছে অপর আসামি নিপু কুমার দাসকে। এছাড়া আসামি মো. আজাদকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, দণ্ডপ্রাপ্ত তিনজনই দাগনভূঞা উপজেলার বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় নিপু কুমার দাস ও মো. আজাদ আদালতে উপস্থিত থাকলেও প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম পলাতক ছিলেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী প্রবাসে থাকায় তিনি তার ১২ বছর বয়সী মেয়ে ও ৭ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট গভীর রাতে তিন আসামি তাদের বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ঘরে প্রবেশ করে এবং ভুক্তভোগীদের ওপর নির্যাতন চালায়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, একপর্যায়ে প্রধান আসামি গৃহবধূকে আলাদা কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় বাধা দিতে এলে তার মাকেও জোরপূর্বক বাড়ির বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বাড়ির পাশের একটি স্থানে তাকে ধর্ষণ করা হয় এবং অপর আসামি এ ঘটনায় সহযোগিতা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

ঘটনার তিন দিন পর, ২০১৮ সালের ১১ আগস্ট ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে দাগনভূঞা থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ২০ জানুয়ারি তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট সাহাব উদ্দিন আহমেদ জানান, মামলায় সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন এবং অপর আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন।