Dhaka 9:59 am, Friday, 18 September 2026
News Title :
সাংবাদিক জনি ফারুককে হেয়প্রতিপন্ন করতে ভিত্তিহীন ভুয়া সংবাদপত্রের কাটিং বানিয়ে অপপ্রচার, তীব্র প্রতিবাদ। ঠাকূরগাঁওয়ে ৭১ সারের ডিলার লাইসেন্সের বিপরীতে ৮৮৯টি আবেদন।  সৈয়দপুরে প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত। ঠাকূরগাঁওয়ে গভীর রাতে জুয়ার আসর থেকে পাঁচ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার।    মমেক হাস পাতালের অগ্নিকান্ড ঘটনাস্হল পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসাইন।  আমদিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইএম মেহেদী হাসানকে ঘিরে আলোচনা। বাঘায় ১২৫ বোতল ফেনসিডিলসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার। পাবনার ফরিদপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ঘি উৎপাদন, ২ লাখ টাকা জরিমানা। জবই বিল প্রকল্পে নিষেধাজ্ঞা শেষে মান্দার তিন বিলে ফের মৎস্য আহরণ শুরু। পাবনায় নিখোঁজের ৭দিন পর কামরুন্নাহার কলির খণ্ডবিখণ্ড লাশ উদ্ধার।

কোনাবাড়ীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, ৬০০ টাকার পাওনাকে ঘিরে সংঘর্ষ; ফয়সাল সরকারসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার: আলমগীর হোসেন

গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানাধীন ভান্ডারী গলিতে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধ নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ মাত্র ৬০০ টাকার পাওনা আদায়কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় বারেক সরকারের ছেলে ফয়সাল সরকারসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে কোনাবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের বিরোধকে ঘিরে কিশোর ও তরুণদের সংঘবদ্ধ তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

কোনাবাড়ী থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে মোছা. মরজিনা খাতুন দাবি করেন, তার স্বামী রইজ উদ্দিনের কাছ থেকে অভিযুক্ত রাসেল প্রায় ১০-১৫ দিন আগে ৬০০ টাকা ধার নেন। গত ২৫ জুন বিকেলে পাওনা টাকা চাইলে রাসেল টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে রাহিম, নুর নবী, রাসেল ও জুয়েল সংঘবদ্ধভাবে রইজ উদ্দিনকে মারধর করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার কিছুক্ষণ পর ফয়সাল সরকার বিচার করার কথা বলে রইজ উদ্দিনকে ভান্ডারী গলির সামনে ডাকেন। সেখানে পৌঁছালে ফয়সাল সরকারসহ অভিযুক্তরা আবারও হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা ও পারিবারিক পরামর্শের কারণে অভিযোগ দায়ের করতে বিলম্ব হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অনুসন্ধানে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভান্ডারী গলিতে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি পক্ষ ‘ময়মনসিংহ গ্রুপ’ নামে পরিচিত। অপরদিকে, কোনাবাড়ী থানা বিএনপির সহ-সভাপতি বারেক সরকারের ছেলে ফয়সাল সরকারের অনুসারীদের নিয়ে আরেকটি পক্ষ সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, রাহিমের সঙ্গে রইজ উদ্দিনের কথাকাটাকাটির পর বিষয়টি ফয়সাল সরকারকে জানানো হয়। পরে তিনি কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে এসে হামলায় অংশ নেন। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ঘটনার ভিডিও ফুটেজেও ফয়সাল সরকারকে দেখা যায়।

ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত রাহিম প্রতিবেদকের কাছে দাবি করেন, “রইজউদ্দিনকে আমি নিজেই মারধর করেছি। ফয়সাল ভাই ঘটনাস্থলে ছিলেন।” যদিও তিনি ঘটনার পেছনে নিজের ব্যাখ্যাও তুলে ধরেন।

অন্যদিকে ফয়সাল সরকার তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ উঠে এসেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একদল কিশোর ও তরুণ প্রকাশ্যে মোটরসাইকেল শোডাউন, মহড়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে। এসব কর্মকাণ্ডে নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগের সবকটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে তথ্য সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নিতে গিয়ে প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে ফয়সাল সরকার “বিষয়টি দেখে নেওয়া হবে” বলে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন প্রতিবেদক। এ ঘটনায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিককে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, কোনাবাড়ী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযোগের সত্যতা যাচাই, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা দমন এবং প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সাংবাদিক জনি ফারুককে হেয়প্রতিপন্ন করতে ভিত্তিহীন ভুয়া সংবাদপত্রের কাটিং বানিয়ে অপপ্রচার, তীব্র প্রতিবাদ।

কোনাবাড়ীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, ৬০০ টাকার পাওনাকে ঘিরে সংঘর্ষ; ফয়সাল সরকারসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

Update Time : 10:38:37 am, Sunday, 28 June 2026

স্টাফ রিপোর্টার: আলমগীর হোসেন

গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানাধীন ভান্ডারী গলিতে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধ নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ মাত্র ৬০০ টাকার পাওনা আদায়কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় বারেক সরকারের ছেলে ফয়সাল সরকারসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে কোনাবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের বিরোধকে ঘিরে কিশোর ও তরুণদের সংঘবদ্ধ তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

কোনাবাড়ী থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে মোছা. মরজিনা খাতুন দাবি করেন, তার স্বামী রইজ উদ্দিনের কাছ থেকে অভিযুক্ত রাসেল প্রায় ১০-১৫ দিন আগে ৬০০ টাকা ধার নেন। গত ২৫ জুন বিকেলে পাওনা টাকা চাইলে রাসেল টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে রাহিম, নুর নবী, রাসেল ও জুয়েল সংঘবদ্ধভাবে রইজ উদ্দিনকে মারধর করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার কিছুক্ষণ পর ফয়সাল সরকার বিচার করার কথা বলে রইজ উদ্দিনকে ভান্ডারী গলির সামনে ডাকেন। সেখানে পৌঁছালে ফয়সাল সরকারসহ অভিযুক্তরা আবারও হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা ও পারিবারিক পরামর্শের কারণে অভিযোগ দায়ের করতে বিলম্ব হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অনুসন্ধানে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভান্ডারী গলিতে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি পক্ষ ‘ময়মনসিংহ গ্রুপ’ নামে পরিচিত। অপরদিকে, কোনাবাড়ী থানা বিএনপির সহ-সভাপতি বারেক সরকারের ছেলে ফয়সাল সরকারের অনুসারীদের নিয়ে আরেকটি পক্ষ সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, রাহিমের সঙ্গে রইজ উদ্দিনের কথাকাটাকাটির পর বিষয়টি ফয়সাল সরকারকে জানানো হয়। পরে তিনি কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে এসে হামলায় অংশ নেন। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ঘটনার ভিডিও ফুটেজেও ফয়সাল সরকারকে দেখা যায়।

ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত রাহিম প্রতিবেদকের কাছে দাবি করেন, “রইজউদ্দিনকে আমি নিজেই মারধর করেছি। ফয়সাল ভাই ঘটনাস্থলে ছিলেন।” যদিও তিনি ঘটনার পেছনে নিজের ব্যাখ্যাও তুলে ধরেন।

অন্যদিকে ফয়সাল সরকার তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ উঠে এসেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একদল কিশোর ও তরুণ প্রকাশ্যে মোটরসাইকেল শোডাউন, মহড়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে। এসব কর্মকাণ্ডে নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগের সবকটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে তথ্য সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নিতে গিয়ে প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে ফয়সাল সরকার “বিষয়টি দেখে নেওয়া হবে” বলে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন প্রতিবেদক। এ ঘটনায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিককে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, কোনাবাড়ী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযোগের সত্যতা যাচাই, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা দমন এবং প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।