

মুফতি মাওলানা শামীম আহমেদ:
ইসলাম শুধু ইবাদত-বন্দেগির ধর্ম নয়; বরং মানুষের কল্যাণ, সহযোগিতা ও পরোপকারেরও মহান শিক্ষা দেয়। একজন মুমিনের জীবনের অন্যতম সৌন্দর্য হলো—সে নিজে ভালো থাকার পাশাপাশি অন্যের উপকারে এগিয়ে আসে। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, ক্ষুধার্তকে খাবার দেওয়া, বিপদগ্রস্তকে সহযোগিতা করা এবং মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করা ইসলামে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ কাজ।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেন, “তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো।” (সূরা আল-মায়িদা: ২)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, মানুষের কল্যাণে একে অপরকে সহযোগিতা করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। পরোপকার শুধু অর্থ দিয়ে করতে হয় না; সুন্দর কথা বলা, বিপদে সাহস দেওয়া, অসুস্থের খোঁজ নেওয়া, পথহারা মানুষকে পথ দেখানো কিংবা কারও প্রয়োজনীয় কাজে সহযোগিতা করাও পরোপকারের অন্তর্ভুক্ত।
হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়ার একটি কষ্ট দূর করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার একটি কষ্ট দূর করবেন।” (সহিহ মুসলিম)
অন্যের কষ্ট দূর করার প্রতিদান আল্লাহ তাআলা আখিরাতে দান করবেন—এটি একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত বড় সুসংবাদ। তাই মানুষের উপকার করার সুযোগকে কখনো ছোট করে দেখা উচিত নয়।
পরোপকারের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো, এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতা সৃষ্টি হয়। একজন মানুষ যখন নিঃস্বার্থভাবে অন্যের পাশে দাঁড়ায়, তখন সমাজে পারস্পরিক আস্থা ও মানবিকতা বৃদ্ধি পায়। বিপরীতে স্বার্থপরতা ও মানুষের প্রতি উদাসীনতা সমাজকে দুর্বল করে দেয়।
ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয়—মানুষের প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়াতে হবে। বিশেষ করে এতিম, দরিদ্র, অসহায়, অসুস্থ ও বিপদগ্রস্ত মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া মুমিনের দায়িত্ব। পরোপকারের ক্ষেত্রে লোক দেখানো নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টিই হওয়া উচিত প্রধান উদ্দেশ্য।
তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসা। অর্থ দিয়ে সম্ভব না হলে শ্রম দিয়ে, শ্রম দিয়ে সম্ভব না হলে ভালো কথা ও সুন্দর আচরণের মাধ্যমে অন্যের উপকার করা। কারণ একটি ছোট্ট ভালো কাজও আল্লাহর কাছে অনেক বড় হয়ে উঠতে পারে।
পরোপকারী মানুষ শুধু মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেয় না; বরং আল্লাহর রহমত ও সন্তুষ্টি লাভের পথও সুগম করে। তাই আসুন, আমরা নিজেদের জীবনে পরোপকারের অভ্যাস গড়ে তুলি এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে একটি সুন্দর, মানবিক ও কল্যাণময় সমাজ গড়ে।
মুফতি মাওলানা শামীম আহমেদ: