

আলফাডাঙ্গা সংবাদদাতা:
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বকেয়া বেতনের টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ইয়াসিন সরদার পলাশ (২৪) নামে এক যুবককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় তাঁর কাছ থেকে নগদ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে আলফাডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীর ভাই গোলাম রাব্বী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইয়াসিন সরদার পলাশ একটি দোকানে কর্মচারী হিসেবে প্রায় দুই মাস কাজ করেন। দুই মাস আগে তিনি দোকানের যাবতীয় হিসাব বুঝিয়ে দিয়ে চাকরি ছেড়ে দেন বলে তাঁর দাবি। তবে চাকরি ছাড়ার প্রায় দুই মাস পর দোকানে লোকসান হয়েছে দাবি করে তাঁর কাছে টাকা চাওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিককে জানান ইয়াসিন সরদার পলাশ বলেন, “সুরুজের সঙ্গে আমার একটু ঝামেলা হচ্ছে। আমি তাঁর দোকানে কর্মচারী হিসেবে দুই মাস কাজ করেছিলাম। দুই মাস আগে তাঁর দোকানের সব হিসাব বুঝিয়ে দিয়ে চাকরি ছেড়ে দিই। কিন্তু এখন দুই মাস পরে এসে সে বলছে দোকানে অনেক টাকা লস হয়েছে। ওই টাকার দাবি করলে আমি দিতে রাজি না হওয়ায় সুরুজ ও কামারগ্রামের হাবিব তাদের লোকজন নিয়ে আমাকে মারধর করেছে।”ভুক্তভোগীর অভিযোগ, দোকানের লোকসানের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোকে কেন্দ্র করে সুরুজ, হাবিবসহ কয়েকজন তাঁকে মারধর করেন। এ সময় তাঁকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তাঁর কাছ থেকে নগদ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ারও দাবি করেন তিনি।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও বিরোধের সমাধান হয়নি। বরং ভুক্তভোগীর কাছে দোকানের লোকসানের কথা বলে ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগকারীর দাবি।অভিযোগ অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টা ৩০ মিনিটে সময় আলফাডাঙ্গা বাজারের বাঁকাইল রোড এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। পরে রাত ১০টার দিকে আহত ইয়াসিন সরদার পলাশকে চিকিৎসার জন্য আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই গোলাম রাব্বী আলফাডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে ঘটনার তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।অভিযুক্ত হাবিবের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, “অভিযোগ হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি চলমান আছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
আলফাডাঙ্গা সংবাদদাতা: