Dhaka 1:18 am, Thursday, 17 September 2026
News Title :
আমদিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইএম মেহেদী হাসানকে ঘিরে আলোচনা। বাঘায় ১২৫ বোতল ফেনসিডিলসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার। পাবনার ফরিদপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ঘি উৎপাদন, ২ লাখ টাকা জরিমানা। জবই বিল প্রকল্পে নিষেধাজ্ঞা শেষে মান্দার তিন বিলে ফের মৎস্য আহরণ শুরু। পাবনায় নিখোঁজের ৭দিন পর কামরুন্নাহার কলির খণ্ডবিখণ্ড লাশ উদ্ধার। ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের আহ্বান, আক্রান্তদের পাশে মানবিকতার হাত বাড়ালেন আলহাজ্ব সাজ্জাদুর রহমান মামুন। দেওয়ালিয়াবাড়ী আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে মজিবুর রহমানকে চান শিক্ষার্থী-এলাকাবাসী সাগর-রুনি হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন। ফরিদপুরে শিশু শাকিব হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার, অটোভ্যান উদ্ধার। নওগাঁর মান্দা কসবা ঠাকুরমান্দা গ্রামে ২১০৫ লিটার চোলাইমদ তৈরির ওয়াশসহ এক নারী গ্রেপ্তার।

নয় বছরেও এসিড মামলার বিচার হয়নি, বিচার পাওয়ার আগেই আমেনা খাতুনের মৃত্যু

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: মো. জুবাইর আহমেদ খান রোহান।

দীর্ঘ নয় বছর ধরে এসিড নিক্ষেপের ঘটনায় বিচারপ্রত্যাশী ছিলেন আমেনা খাতুন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার না পেয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট ২০২৬) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর বলে হাসপাতালের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ী ইউনিয়নের বড় কমলাবাড়ী এলাকায় আমেনা খাতুনের ওপর এসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মামলা করা হয়। মামলার এজাহারে আবজাল হোসেন, পিতা মো. মুসা মিয়া, মুসা মিয়াসহ অন্যদের আসামি করা হয়েছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

মামলার এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, পারিবারিক ও যৌতুক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আসামিদের সঙ্গে বাদীপক্ষের বিরোধ চলছিল। এজাহারে যৌতুকের টাকা দাবি, চাপ প্রয়োগ এবং পরবর্তীতে আমেনা খাতুনের ওপর এসিড নিক্ষেপের অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৯ সালের ২ মার্চ রাতে আসামিরা বাড়িতে যাওয়ার পর বাদিনীর সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে আমেনা খাতুনের ওপর এসিড নিক্ষেপ এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার পর স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলে। এ ঘটনায় আদিতমারী থানায় মামলা করা হয় এবং পরবর্তীতে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার কথাও নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

স্বজনদের অভিযোগ, মামলা হওয়ার পর প্রায় নয় বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁরা কাঙ্ক্ষিত বিচার পাননি। বিচার দাবিতে বিভিন্ন সময়ে একাধিক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির সংবাদপত্রের কাটিং স্বজনদের কাছে রয়েছে।

পরিবারের দাবি, এসিড হামলার পর থেকেই আমেনা খাতুন নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর আক্রান্ত স্থানে ক্যান্সার দেখা দেয় বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে দেওয়া ‘মেডিকেল সার্টিফিকেট অব কজ অব ডেথ’-এ আমেনা খাতুনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে “Acute Multi Organ Failure” উল্লেখ করা হয়েছে। এর সঙ্গে Anemia, Heart Failure, Septicemia এবং genitourinary tract-এ আঘাতজনিত জটিলতার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

মৃত্যুসনদ অনুযায়ী, শুক্রবার (২১ আগস্ট) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর পর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আমেনা খাতুনের মরদেহ তাঁর নানির বাড়ি লালমনিরহাট শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের তালুক খোটামারা এলাকায় নিয়ে আসা হয়েছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এলাকাবাসী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা দীর্ঘদিনের মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

তাদের দাবি, একজন নারী এসিড হামলার শিকার হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসা ও দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে জীবন কাটিয়েছেন। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার কারণে শেষ পর্যন্ত বিচার পাওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এখন অন্তত তাঁর মৃত্যুর পর মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

আমদিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইএম মেহেদী হাসানকে ঘিরে আলোচনা।

নয় বছরেও এসিড মামলার বিচার হয়নি, বিচার পাওয়ার আগেই আমেনা খাতুনের মৃত্যু

Update Time : 02:31:54 am, Sunday, 23 August 2026

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: মো. জুবাইর আহমেদ খান রোহান।

দীর্ঘ নয় বছর ধরে এসিড নিক্ষেপের ঘটনায় বিচারপ্রত্যাশী ছিলেন আমেনা খাতুন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার না পেয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট ২০২৬) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর বলে হাসপাতালের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ী ইউনিয়নের বড় কমলাবাড়ী এলাকায় আমেনা খাতুনের ওপর এসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মামলা করা হয়। মামলার এজাহারে আবজাল হোসেন, পিতা মো. মুসা মিয়া, মুসা মিয়াসহ অন্যদের আসামি করা হয়েছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

মামলার এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, পারিবারিক ও যৌতুক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আসামিদের সঙ্গে বাদীপক্ষের বিরোধ চলছিল। এজাহারে যৌতুকের টাকা দাবি, চাপ প্রয়োগ এবং পরবর্তীতে আমেনা খাতুনের ওপর এসিড নিক্ষেপের অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৯ সালের ২ মার্চ রাতে আসামিরা বাড়িতে যাওয়ার পর বাদিনীর সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে আমেনা খাতুনের ওপর এসিড নিক্ষেপ এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার পর স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলে। এ ঘটনায় আদিতমারী থানায় মামলা করা হয় এবং পরবর্তীতে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার কথাও নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

স্বজনদের অভিযোগ, মামলা হওয়ার পর প্রায় নয় বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁরা কাঙ্ক্ষিত বিচার পাননি। বিচার দাবিতে বিভিন্ন সময়ে একাধিক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির সংবাদপত্রের কাটিং স্বজনদের কাছে রয়েছে।

পরিবারের দাবি, এসিড হামলার পর থেকেই আমেনা খাতুন নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর আক্রান্ত স্থানে ক্যান্সার দেখা দেয় বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে দেওয়া ‘মেডিকেল সার্টিফিকেট অব কজ অব ডেথ’-এ আমেনা খাতুনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে “Acute Multi Organ Failure” উল্লেখ করা হয়েছে। এর সঙ্গে Anemia, Heart Failure, Septicemia এবং genitourinary tract-এ আঘাতজনিত জটিলতার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

মৃত্যুসনদ অনুযায়ী, শুক্রবার (২১ আগস্ট) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর পর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আমেনা খাতুনের মরদেহ তাঁর নানির বাড়ি লালমনিরহাট শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের তালুক খোটামারা এলাকায় নিয়ে আসা হয়েছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এলাকাবাসী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা দীর্ঘদিনের মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

তাদের দাবি, একজন নারী এসিড হামলার শিকার হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসা ও দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে জীবন কাটিয়েছেন। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার কারণে শেষ পর্যন্ত বিচার পাওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এখন অন্তত তাঁর মৃত্যুর পর মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।