

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: মো. জুবাইর আহমেদ খান রোহান।
দীর্ঘ নয় বছর ধরে এসিড নিক্ষেপের ঘটনায় বিচারপ্রত্যাশী ছিলেন আমেনা খাতুন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার না পেয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট ২০২৬) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর বলে হাসপাতালের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ী ইউনিয়নের বড় কমলাবাড়ী এলাকায় আমেনা খাতুনের ওপর এসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মামলা করা হয়। মামলার এজাহারে আবজাল হোসেন, পিতা মো. মুসা মিয়া, মুসা মিয়াসহ অন্যদের আসামি করা হয়েছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।
মামলার এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, পারিবারিক ও যৌতুক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আসামিদের সঙ্গে বাদীপক্ষের বিরোধ চলছিল। এজাহারে যৌতুকের টাকা দাবি, চাপ প্রয়োগ এবং পরবর্তীতে আমেনা খাতুনের ওপর এসিড নিক্ষেপের অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৯ সালের ২ মার্চ রাতে আসামিরা বাড়িতে যাওয়ার পর বাদিনীর সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে আমেনা খাতুনের ওপর এসিড নিক্ষেপ এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলে। এ ঘটনায় আদিতমারী থানায় মামলা করা হয় এবং পরবর্তীতে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার কথাও নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
স্বজনদের অভিযোগ, মামলা হওয়ার পর প্রায় নয় বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁরা কাঙ্ক্ষিত বিচার পাননি। বিচার দাবিতে বিভিন্ন সময়ে একাধিক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির সংবাদপত্রের কাটিং স্বজনদের কাছে রয়েছে।
পরিবারের দাবি, এসিড হামলার পর থেকেই আমেনা খাতুন নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর আক্রান্ত স্থানে ক্যান্সার দেখা দেয় বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে দেওয়া ‘মেডিকেল সার্টিফিকেট অব কজ অব ডেথ’-এ আমেনা খাতুনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে “Acute Multi Organ Failure” উল্লেখ করা হয়েছে। এর সঙ্গে Anemia, Heart Failure, Septicemia এবং genitourinary tract-এ আঘাতজনিত জটিলতার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
মৃত্যুসনদ অনুযায়ী, শুক্রবার (২১ আগস্ট) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর পর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আমেনা খাতুনের মরদেহ তাঁর নানির বাড়ি লালমনিরহাট শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের তালুক খোটামারা এলাকায় নিয়ে আসা হয়েছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা দীর্ঘদিনের মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তাদের দাবি, একজন নারী এসিড হামলার শিকার হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসা ও দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে জীবন কাটিয়েছেন। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার কারণে শেষ পর্যন্ত বিচার পাওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এখন অন্তত তাঁর মৃত্যুর পর মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।
লালমনিরহাট প্রতিনিধি: মো. জুবাইর আহমেদ খান রোহান।