Dhaka 7:53 am, Friday, 4 September 2026
News Title :
ফরিদপুরে সারের সংকট নেই, কৃষকের চাহিদা পূরণে তৎপর কৃষি বিভাগ।  মাধবপুরে অসামাজিক কার্যকলাপে আবাসিক হোটেলে পুলিশের অভিযান, গ্রেপ্তার ১০ নারী-পুরুষ।  মুমিনের জন্য জুম্মা: রহমত, বরকত ও ক্ষমার দিন। সৈয়দপুরে ৯ দফা দাবিতে মালিক-শ্রমিকদের সংবাদ সম্মেলন বৈষম্য বন্ধ না হলে বাস চলাচলে অচলাবস্থার হুঁশিয়ারি।  কুড়িগ্রামে ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ কেলেঙ্কারি: আত্মসাতের অভিযোগের জবাবে ইঞ্জি: আব্দুস ছালামের কড়া প্রতিবাদ ও চ্যালেঞ্জ। রূপগঞ্জে শীর্ষ সন্ত্রাসী কাইল্লা সবুজ গ্রেপ্তার, ৭ হত্যা মামলাসহ ২৬ মামলার আসামি। ওসি মঞ্জুরুল হাসান মাসুদের নেতৃত্বে অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ আটক-৩। চন্দনাইশে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকার সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ।  বিশেষ সভায় বিভাগীয় কমিশনার : রাজশাহী বিভাগে সারের কোনো ঘাটতি নেই।  নওগাঁর মান্দায় ৯৫ লিটার চোলাই মদসহ এক নারীগ্রেফতার । 

মুমিনের জন্য জুম্মা: রহমত, বরকত ও ক্ষমার দিন।

মুফতি মাওলানা শামীম আহমেদ, পাবনা

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর জন্য সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে জুম্মার দিনকে বিশেষ মর্যাদা ও সম্মান দান করেছেন। জুম্মা শুধু একটি দিনের নাম নয়; এটি মুসলমানদের জন্য রহমত, বরকত, ইবাদত, দোয়া ও ক্ষমা লাভের এক মহামূল্যবান সুযোগ। এ দিনটি মুসলিম উম্মাহর সাপ্তাহিক ঈদের দিন হিসেবেও পরিচিত।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা জুম্মার নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরে ইরশাদ করেছেন, অর্থাৎ—হে মুমিনগণ! জুম্মার দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা বন্ধ রাখো। তোমরা যদি জানতে, তবে এটাই তোমাদের জন্য উত্তম।

(সুরা আল-জুমুআ: ৯)

এই আয়াত থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, জুম্মার নামাজ মুসলমানদের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষদের জন্য যথাযথ শর্তসাপেক্ষে জুম্মার নামাজ আদায় করা অত্যন্ত গুরুত্বের বিষয়।

জুম্মার দিনের অন্যতম বিশেষত্ব হলো—এই দিনে এমন একটি বরকতময় সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলমান আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার আশা করা যায়। তাই জুম্মার দিন বেশি বেশি দোয়া, জিকির, ইস্তিগফার ও দরুদ শরিফ পাঠ করা মুমিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাসুলুল্লাহ (সা.) জুম্মার দিনের মর্যাদা সম্পর্কে বলেছেন যে, সূর্য উদিত হওয়া দিনগুলোর মধ্যে জুম্মার দিন সর্বোত্তম। এই দিনেই হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এই দিনেই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে। তাই জুম্মার দিন মুসলিম ইতিহাস ও মানবজাতির জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

জুম্মার দিনে পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা, গোসল করা, সুন্দর ও পরিষ্কার পোশাক পরিধান করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, মসজিদে আগে যাওয়ার চেষ্টা করা এবং মনোযোগ সহকারে খুতবা শোনা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। খুতবার সময় কথা বলা বা অন্য কাজে মনোযোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।

এ দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ মুমিনের হৃদয়কে প্রশান্ত করে এবং আল্লাহর রহমত লাভের মাধ্যম হয়। পাশাপাশি সুরা কাহফ তিলাওয়াত করাও জুম্মার দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে মুসলিম সমাজে ব্যাপকভাবে পালন করা হয়।

বর্তমান সময়ে মানুষ দুনিয়ার ব্যস্ততা, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা ও নানা সমস্যার মধ্যে আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। জুম্মার দিন আমাদের সেই ভুলে যাওয়া দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সপ্তাহে অন্তত একদিন মুসলমানরা একত্রিত হয়ে আল্লাহর ইবাদত করে, দ্বীনি আলোচনা শোনে এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করে।

জুম্মার নামাজ শুধু ব্যক্তিগত ইবাদত নয়; এটি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও সামাজিক সংহতির এক মহান প্রতীক। ধনী-গরিব, ছোট-বড়, কর্মকর্তা-কর্মচারী—সবাই একই কাতারে দাঁড়িয়ে আল্লাহর সামনে নিজেদের সমর্পণ করে। এর মাধ্যমে ইসলামের সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবতার মহান শিক্ষা ফুটে ওঠে।

আমাদের উচিত জুম্মার দিনকে শুধু একটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন হিসেবে না দেখে আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা। এ দিনে সময়মতো মসজিদে যাওয়া, নামাজ আদায় করা, কোরআন তিলাওয়াত করা, বেশি বেশি ইস্তিগফার করা এবং নিজের ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করা উচিত।

আসুন, আমরা পবিত্র জুম্মার দিনের মর্যাদা রক্ষা করি এবং এ দিনের রহমত, বরকত ও ক্ষমা লাভের জন্য আন্তরিকভাবে আল্লাহর দিকে ফিরে আসি। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে জুম্মার দিনের ফজিলতপূর্ণ আমলগুলো যথাযথভাবে পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ভূমিকাটি আরও আবেগঘন করুন

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ফরিদপুরে সারের সংকট নেই, কৃষকের চাহিদা পূরণে তৎপর কৃষি বিভাগ। 

মুমিনের জন্য জুম্মা: রহমত, বরকত ও ক্ষমার দিন।

Update Time : 01:16:44 pm, Thursday, 3 September 2026

মুফতি মাওলানা শামীম আহমেদ, পাবনা

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর জন্য সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে জুম্মার দিনকে বিশেষ মর্যাদা ও সম্মান দান করেছেন। জুম্মা শুধু একটি দিনের নাম নয়; এটি মুসলমানদের জন্য রহমত, বরকত, ইবাদত, দোয়া ও ক্ষমা লাভের এক মহামূল্যবান সুযোগ। এ দিনটি মুসলিম উম্মাহর সাপ্তাহিক ঈদের দিন হিসেবেও পরিচিত।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা জুম্মার নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরে ইরশাদ করেছেন, অর্থাৎ—হে মুমিনগণ! জুম্মার দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা বন্ধ রাখো। তোমরা যদি জানতে, তবে এটাই তোমাদের জন্য উত্তম।

(সুরা আল-জুমুআ: ৯)

এই আয়াত থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, জুম্মার নামাজ মুসলমানদের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষদের জন্য যথাযথ শর্তসাপেক্ষে জুম্মার নামাজ আদায় করা অত্যন্ত গুরুত্বের বিষয়।

জুম্মার দিনের অন্যতম বিশেষত্ব হলো—এই দিনে এমন একটি বরকতময় সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলমান আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার আশা করা যায়। তাই জুম্মার দিন বেশি বেশি দোয়া, জিকির, ইস্তিগফার ও দরুদ শরিফ পাঠ করা মুমিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাসুলুল্লাহ (সা.) জুম্মার দিনের মর্যাদা সম্পর্কে বলেছেন যে, সূর্য উদিত হওয়া দিনগুলোর মধ্যে জুম্মার দিন সর্বোত্তম। এই দিনেই হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এই দিনেই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে। তাই জুম্মার দিন মুসলিম ইতিহাস ও মানবজাতির জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

জুম্মার দিনে পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা, গোসল করা, সুন্দর ও পরিষ্কার পোশাক পরিধান করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, মসজিদে আগে যাওয়ার চেষ্টা করা এবং মনোযোগ সহকারে খুতবা শোনা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। খুতবার সময় কথা বলা বা অন্য কাজে মনোযোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।

এ দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ মুমিনের হৃদয়কে প্রশান্ত করে এবং আল্লাহর রহমত লাভের মাধ্যম হয়। পাশাপাশি সুরা কাহফ তিলাওয়াত করাও জুম্মার দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে মুসলিম সমাজে ব্যাপকভাবে পালন করা হয়।

বর্তমান সময়ে মানুষ দুনিয়ার ব্যস্ততা, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা ও নানা সমস্যার মধ্যে আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। জুম্মার দিন আমাদের সেই ভুলে যাওয়া দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সপ্তাহে অন্তত একদিন মুসলমানরা একত্রিত হয়ে আল্লাহর ইবাদত করে, দ্বীনি আলোচনা শোনে এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করে।

জুম্মার নামাজ শুধু ব্যক্তিগত ইবাদত নয়; এটি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও সামাজিক সংহতির এক মহান প্রতীক। ধনী-গরিব, ছোট-বড়, কর্মকর্তা-কর্মচারী—সবাই একই কাতারে দাঁড়িয়ে আল্লাহর সামনে নিজেদের সমর্পণ করে। এর মাধ্যমে ইসলামের সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবতার মহান শিক্ষা ফুটে ওঠে।

আমাদের উচিত জুম্মার দিনকে শুধু একটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন হিসেবে না দেখে আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা। এ দিনে সময়মতো মসজিদে যাওয়া, নামাজ আদায় করা, কোরআন তিলাওয়াত করা, বেশি বেশি ইস্তিগফার করা এবং নিজের ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করা উচিত।

আসুন, আমরা পবিত্র জুম্মার দিনের মর্যাদা রক্ষা করি এবং এ দিনের রহমত, বরকত ও ক্ষমা লাভের জন্য আন্তরিকভাবে আল্লাহর দিকে ফিরে আসি। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে জুম্মার দিনের ফজিলতপূর্ণ আমলগুলো যথাযথভাবে পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ভূমিকাটি আরও আবেগঘন করুন