Dhaka 7:53 am, Friday, 4 September 2026
News Title :
ফরিদপুরে সারের সংকট নেই, কৃষকের চাহিদা পূরণে তৎপর কৃষি বিভাগ।  মাধবপুরে অসামাজিক কার্যকলাপে আবাসিক হোটেলে পুলিশের অভিযান, গ্রেপ্তার ১০ নারী-পুরুষ।  মুমিনের জন্য জুম্মা: রহমত, বরকত ও ক্ষমার দিন। সৈয়দপুরে ৯ দফা দাবিতে মালিক-শ্রমিকদের সংবাদ সম্মেলন বৈষম্য বন্ধ না হলে বাস চলাচলে অচলাবস্থার হুঁশিয়ারি।  কুড়িগ্রামে ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ কেলেঙ্কারি: আত্মসাতের অভিযোগের জবাবে ইঞ্জি: আব্দুস ছালামের কড়া প্রতিবাদ ও চ্যালেঞ্জ। রূপগঞ্জে শীর্ষ সন্ত্রাসী কাইল্লা সবুজ গ্রেপ্তার, ৭ হত্যা মামলাসহ ২৬ মামলার আসামি। ওসি মঞ্জুরুল হাসান মাসুদের নেতৃত্বে অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ আটক-৩। চন্দনাইশে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকার সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ।  বিশেষ সভায় বিভাগীয় কমিশনার : রাজশাহী বিভাগে সারের কোনো ঘাটতি নেই।  নওগাঁর মান্দায় ৯৫ লিটার চোলাই মদসহ এক নারীগ্রেফতার । 

ফরিদপুরে সারের সংকট নেই, কৃষকের চাহিদা পূরণে তৎপর কৃষি বিভাগ। 

এনামুল হক ফরিদপুর (পাবনা) প্রতিনিধি:

পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ, বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং ডিলারদের কার্যক্রম নজরদারির মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। ফলে চলতি মৌসুমে সার নিয়ে কৃষকদের মধ্যে বড় ধরনের কোনো সংকট বা উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে না।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডিলারদের বরাদ্দ, সার উত্তোলন ও কৃষকদের কাছে বিতরণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কৃষকেরা যাতে নির্ধারিত মূল্যে প্রয়োজনীয় সার পান, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আল ইমরান কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম তদারকি করছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার মোট জনসংখ্যার ২৫৯১৫ কৃষক। কৃষি কাজের সাথে জরিত প্রায় ৭০% লোক। ফরিদপুর উপজেলায় মোট ছয়টি ইউনিয়নে বি এ ডি সি সার ডিলার ১৫ টি, বি সি আই সি সার ডিলার ৮ টি, খুচরা বাজারে সার বিক্রেতা সংখ্যা ২৭ জন। ফরিদপুর উপজেলায় মোট সারের চাহিদা ইউরিয়া ৪৪৩০মেট্রিক টন , বরাদ্দ ৪৪২৮মেট্রিক টন, টিএসপি চাহিদা ৮৩৫মেট্রিক টন বরাদ্দ ৮২৫ মেট্রিক টন, ডিএপি চাহিদা ২৭৭০মেট্রিক টন বরাদ্দ ২৭৬৭ মেট্রিক টন, এম ও পি সারের চাহিদা ১৯০মেট্রিক টন, বরাদ্দ ২৭৬৭ মেট্রিক টন

উপজেলায় প্রধান কৃষি ফসলগুলো ধান, গম, সরিষা, পাট, শাকসবজি এছাড়া ঘাস, মসুর ও মাসকলায় অন্যতম

কৃষকদের ভাষ্য, সময়মতো সার পাওয়া গেলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। বিশেষ করে ধান, সবজি, পাটসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদে সারের প্রয়োজনীয়তা থাকায় বাজারে সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা কৃষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে গত ২৯ আগস্ট ফরিদপুরে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় কৃষি ও মৎস্য-প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, দেশে সারের কোনো সংকট নেই। তিনি কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সময়মতো সার ও কৃষি উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বেশি দামে সার বিক্রির চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

মেসার্স হাসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকার হাসান আলী বিএসসি বলেন, আমার গোডাউনে পর্যাপ্ত সার রয়েছে সার সংকটের কোন সম্ভাবনা নেই । খাগড়বাড়িয়া গ্রামের কৃষক হাফেজ আইয়ুব আলী বলেন আমার ১০-১২ বিঘা জমির ফসল পলিয়েছি সারের সমস্যা হয়নি। আমি ডিলারদের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে সার কিনেছি। একই কথা বলেন ডেমরা গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল, বাঙ্গাবারিয়া গ্রামের কৃষক নাদের আলী, আরকান্দি গ্রামের কৃষক হাফেজ আব্দুল মমিন, সাভার গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক। তারা সবাই স্বীকার করেছে আমরা যথাসময়ে সার পেয়েছি সারর কোন সমস্যা হয়নি।

আজ বুধবার বেলা ১টার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে ইমামা বানিন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল ইমরান বাজারে সার ডিলারদের দোকানে অভিযান পরিচালনা করেন । দোকানগুলোতে পূর্বের বিক্রয়কৃত সারের হিসাব ধরে কৃষকদের সাথে সরাসরি মোবাইলে ফোন দিয়ে সত্যতা যাচাই করেন। বাজারে সার বিক্রয়ে কোথাও কোন অনিয়ম হচ্ছে না।

ফরিদপুর উপজেলা কৃষি বিভাগের এমন তৎপরতায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি হয়েছে। কৃষকদের প্রত্যাশা, আগামী দিনেও সার সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে। এতে একদিকে যেমন কৃষক ন্যায্যমূল্যে প্রয়োজনীয় সার পাবেন, অন্যদিকে সময়মতো কৃষি উপকরণ নিশ্চিত হওয়ায় ফসল উৎপাদনও স্বাভাবিক থাকবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ফরিদপুরে সারের সংকট নেই, কৃষকের চাহিদা পূরণে তৎপর কৃষি বিভাগ। 

ফরিদপুরে সারের সংকট নেই, কৃষকের চাহিদা পূরণে তৎপর কৃষি বিভাগ। 

Update Time : 01:35:43 pm, Thursday, 3 September 2026

এনামুল হক ফরিদপুর (পাবনা) প্রতিনিধি:

পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ, বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং ডিলারদের কার্যক্রম নজরদারির মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। ফলে চলতি মৌসুমে সার নিয়ে কৃষকদের মধ্যে বড় ধরনের কোনো সংকট বা উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে না।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডিলারদের বরাদ্দ, সার উত্তোলন ও কৃষকদের কাছে বিতরণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কৃষকেরা যাতে নির্ধারিত মূল্যে প্রয়োজনীয় সার পান, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আল ইমরান কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম তদারকি করছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার মোট জনসংখ্যার ২৫৯১৫ কৃষক। কৃষি কাজের সাথে জরিত প্রায় ৭০% লোক। ফরিদপুর উপজেলায় মোট ছয়টি ইউনিয়নে বি এ ডি সি সার ডিলার ১৫ টি, বি সি আই সি সার ডিলার ৮ টি, খুচরা বাজারে সার বিক্রেতা সংখ্যা ২৭ জন। ফরিদপুর উপজেলায় মোট সারের চাহিদা ইউরিয়া ৪৪৩০মেট্রিক টন , বরাদ্দ ৪৪২৮মেট্রিক টন, টিএসপি চাহিদা ৮৩৫মেট্রিক টন বরাদ্দ ৮২৫ মেট্রিক টন, ডিএপি চাহিদা ২৭৭০মেট্রিক টন বরাদ্দ ২৭৬৭ মেট্রিক টন, এম ও পি সারের চাহিদা ১৯০মেট্রিক টন, বরাদ্দ ২৭৬৭ মেট্রিক টন

উপজেলায় প্রধান কৃষি ফসলগুলো ধান, গম, সরিষা, পাট, শাকসবজি এছাড়া ঘাস, মসুর ও মাসকলায় অন্যতম

কৃষকদের ভাষ্য, সময়মতো সার পাওয়া গেলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। বিশেষ করে ধান, সবজি, পাটসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদে সারের প্রয়োজনীয়তা থাকায় বাজারে সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা কৃষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে গত ২৯ আগস্ট ফরিদপুরে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় কৃষি ও মৎস্য-প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, দেশে সারের কোনো সংকট নেই। তিনি কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সময়মতো সার ও কৃষি উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বেশি দামে সার বিক্রির চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

মেসার্স হাসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকার হাসান আলী বিএসসি বলেন, আমার গোডাউনে পর্যাপ্ত সার রয়েছে সার সংকটের কোন সম্ভাবনা নেই । খাগড়বাড়িয়া গ্রামের কৃষক হাফেজ আইয়ুব আলী বলেন আমার ১০-১২ বিঘা জমির ফসল পলিয়েছি সারের সমস্যা হয়নি। আমি ডিলারদের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে সার কিনেছি। একই কথা বলেন ডেমরা গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল, বাঙ্গাবারিয়া গ্রামের কৃষক নাদের আলী, আরকান্দি গ্রামের কৃষক হাফেজ আব্দুল মমিন, সাভার গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক। তারা সবাই স্বীকার করেছে আমরা যথাসময়ে সার পেয়েছি সারর কোন সমস্যা হয়নি।

আজ বুধবার বেলা ১টার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে ইমামা বানিন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল ইমরান বাজারে সার ডিলারদের দোকানে অভিযান পরিচালনা করেন । দোকানগুলোতে পূর্বের বিক্রয়কৃত সারের হিসাব ধরে কৃষকদের সাথে সরাসরি মোবাইলে ফোন দিয়ে সত্যতা যাচাই করেন। বাজারে সার বিক্রয়ে কোথাও কোন অনিয়ম হচ্ছে না।

ফরিদপুর উপজেলা কৃষি বিভাগের এমন তৎপরতায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি হয়েছে। কৃষকদের প্রত্যাশা, আগামী দিনেও সার সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে। এতে একদিকে যেমন কৃষক ন্যায্যমূল্যে প্রয়োজনীয় সার পাবেন, অন্যদিকে সময়মতো কৃষি উপকরণ নিশ্চিত হওয়ায় ফসল উৎপাদনও স্বাভাবিক থাকবে।