

আলমগীর হোসেন স্টাফ রিপোর্টার।।
দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর একের পর এক হামলার ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি। গত দুই দিনে শরীয়তপুর, কুমিল্লা ও রাজধানীর উত্তরায় পৃথক ঘটনায় অন্তত ৯ সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠন দুটি।
বুধবার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর এলাকার শ্রীমন্তপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তিন সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আহতরা হলেন—যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার ও কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের নির্বাহী সদস্য খোকন চৌধুরী, ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের কুমিল্লা প্রতিনিধি ও কুমিল্লা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের নির্বাহী সদস্য তানভীর দীপু এবং স্টার নিউজের কুমিল্লা প্রতিনিধি ও কুমিল্লা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের তথ্যপ্রযুক্তি ও আপ্যায়ন সম্পাদক মারুফ।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তারা আহত হন।
এর আগে ২৫ আগস্ট শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তিন সাংবাদিক হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়। তারা হলেন ডেইলি স্টারের শরীয়তপুর ও মাদারীপুর প্রতিনিধি জাহিদ হাসান রনি, নিউজ টোয়েন্টিফোরের জেলা প্রতিনিধি বিধান মজুমদার অনি এবং দৈনিক এদিন-এর প্রতিনিধি বরকত উল্লাহ।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের অভিযোগ, শরীয়তপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মোল্লাসহ কয়েকজন তাদের ওপর হামলা করেন। হামলায় তারা গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে বুধবার রাজধানীর উত্তরার আজমপুর বটতলা এলাকায় অবৈধ নির্মাণসংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে গ্রীন টিভির তিন সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কাজী আরিফ হাসান ও আজমীর হোসেন অমিতসহ কয়েকজন সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ।
এ সময় সংবাদকর্মীদের মারধর এবং তাদের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে ক্যামেরা ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিকদের উদ্ধার করে। তবে এ ঘটনায় উত্তরা পূর্ব থানায় মামলা নিতে গড়িমসির অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সাংবাদিকদের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর।
তিনি বলেন, দেশে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন না থাকায় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের দ্বারা সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত হামলা ও মামলার শিকার হচ্ছেন। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কার্যকর সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন।
আহমেদ আবু জাফর সাংবাদিকদের ওপর হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরের মধ্যে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন জাতীয় সংসদে পাস করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
আলমগীর হোসেন স্টাফ রিপোর্টার