

বিশেষ প্রতিনিধি: মোঃ দেলোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় ব্যাটারিচালিত অটো-রিকশার ভাড়া হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিদ্যুতের মূল্য, ব্যাটারি ও যন্ত্রাংশের দাম বৃদ্ধিকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে চালকরা আগের তুলনায় বেশি ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকার নির্ধারিত কোনো ভাড়ার তালিকা না থাকায় বিভিন্ন রুটে ইচ্ছামতো ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে যাত্রীপ্রতি নির্ধারিত ভাড়ায় চলাচল করা হলেও এখন যাত্রী কম থাকলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এতে প্রতিদিন যাতায়াতকারী চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী ও দিনমজুরদের মাসিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।
ধনবাড়ী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী রিয়া আক্তার বলেন, “আগে বাসা থেকে কলেজে যাতায়াতে ২০ টাকা লাগত। এখন ৪০ টাকা দিতে হচ্ছে। মাসে প্রায় ৬০০ টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে, যা পরিবারের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।”
যদুনাথপুর ইউনিয়নের দিনমজুর আব্দুল মালেক বলেন, “আমি দিনে ৪০০ টাকা আয় করি। শুধু অটো ভাড়াই দিতে হয় প্রায় ১০০ টাকা। চাল-ডালের দাম বাড়ার পর এই অতিরিক্ত ভাড়া আমাদের জন্য বড় কষ্টের।”
একজন চাকরিজীবী অভিযোগ করে বলেন, অনেক চালক ৫ টাকা ফেরত দেন না। ১০ টাকা দিলেও বাকি টাকা না দিয়ে খারাপ আচরণ করেন। এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন।
অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অটোচালক জানান, ব্যাটারির দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একটি ব্যাটারির মূল্য প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিল, টায়ার, মবিল ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের দামও বেড়েছে। ফলে ভাড়া সমন্বয় করা ছাড়া তাদের সামনে অন্য কোনো উপায় ছিল না।
ধনবাড়ী অটো-রিকশা মালিক সমিতির এক নেতা দাবি করেন, প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেই একটি যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুরজাহান আক্তার সাথী বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খুব দ্রুত অটো-রিকশা মালিক সমিতি, চালক ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে একটি ভাড়া নির্ধারণী সভা আয়োজন করা হবে। সেখানে সবার মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
এদিকে সাধারণ মানুষের দাবি, প্রতিটি অটো-রিকশা ও স্ট্যান্ডে সরকারি অনুমোদিত ভাড়ার তালিকা টানিয়ে দিতে হবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করতে হবে এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
ধনবাড়ী বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, “দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে ভাড়া কিছুটা বাড়তে পারে। তবে তা অবশ্যই সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে থাকতে হবে। প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।”
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে অটো-রিকশা ভাড়া বৃদ্ধি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলেছে। যাত্রীদের স্বার্থ ও চালকদের যৌক্তিক দাবি—উভয় দিক বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত একটি স্বচ্ছ ও নির্ধারিত ভাড়া কাঠামো প্রণয়ন এবং তা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বিশেষ প্রতিনিধি: মোঃ দেলোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইল