

এস.এম.জয়,বগুড়া :
বগুড়ায় নিজ সন্তানকে ধর্ষণের মতো ন্যক্কারজনক ও জঘন্য অপরাধের দায়ে পিতা আব্দুল খালেককে (৫১) মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২০শে আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মারুফ হোসেন জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল খালেক বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বাগড়া বস্তি এলাকার বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২০ সালের ২১শে অক্টোবর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার বাগড়া বস্তি এলাকায় নিজ বাড়িতে ভুক্তভোগী শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়। ওই সময় শিশুটির সৎ মা এলাকার একটি চাতালে কাজের জন্য বাইরে ছিলেন। এই সুযোগে পাষণ্ড বাবা নিজ সন্তানকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং ঘটনাটি কাউকে না বলতে হত্যার হুমকি দেয়।
ঘটনার পর থেকে মানসিক ট্রমার কারণে শিশুটির আচরণে পরিবর্তন আসে এবং সে সংসারের কাজকর্ম বন্ধ করে দেয়। এতে সত্যতা না জেনে তার সৎ মা তাকে শারীরিক নির্যাতন চালাতে থাকেন। একপর্যায়ে শিশুটি সৎ মায়ের কাছে বাবার কুকীর্তির কথা প্রকাশ করলেও তিনি তা বিশ্বাস না করে নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেন। পরবর্তীতে ক্রমাগত নির্যাতন সইতে না পেরে শিশুটি তার দুই সহপাঠীর কাছে ঘটনাটি খুলে বলে। সহপাঠীদের মাধ্যমে বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তীতে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
ঘটনার পরপরই ২০২০ সালের ৩১শে অক্টোবর ভুক্তভোগী শিশুটির মা (আসামির প্রথম স্ত্রী) বাদী হয়ে শেরপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলা পরিচালনা শেষে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি যুক্তি পর্যালোচনা করে বিচারক আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এ- রায় প্রদান করেন।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট আলী আসগর বলেন, “রক্তের সম্পর্ককে কলঙ্কিত করে নিজ সন্তানের ওপর এমন পাশবিক নির্যাতন একটি চরম মানবিক অপরাধ। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আমরা সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছিলাম। আদালতের এই রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সমাজে এটি দৃষ্টান্তমূলক বার্তা দেবে।”
রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনি প্রক্রিয়া শেষে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে কঠোর নিরাপত্তায় বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এস.এম.জয়,বগুড়া :