

শাহীন সুলতানা, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে দোকান থেকে প্রায় ছয় লাখ টাকা মূল্যের মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা চুরির অভিযোগে রেজাউল করিম শাওন নামে এক কর্মচারীকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রায় তিন সপ্তাহ পর ময়মনসিংহ থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচটি মোবাইল ফোন ও একটি ব্যাগ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে চুরি যাওয়া সব মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ ও দোকান মালিক সূত্রে জানা গেছে, কুলিয়ারচর উপজেলার সালুয়া ইউনিয়নের ডুমরাকান্দা বাজারে ‘স্মার্ট টেলিকম’ নামের দোকানে গত ৫ আগস্ট রাতে চুরির এ ঘটনা ঘটে। ওই রাতে আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে দোকানের মালিক কর্মচারী রেজাউল করিম শাওনকে দোকানে রেখে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে যান।
পরদিন ৬ আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দোকান খুলে ভেতরে প্রবেশ করে মালিক দেখতে পান, দোকানের সিসি ক্যামেরা ও মনিটর ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। মালামালও ছিল এলোমেলো। মোবাইল রাখার র্যাক থেকে বেশ কিছু সেট উধাও হয়ে যায়। এছাড়া ক্যাশ বাক্সে রাখা প্রায় দেড় লাখ টাকাও পাওয়া যায়নি।
দোকান মালিকের অভিযোগ, চুরি যাওয়া মোবাইল ফোনের মধ্যে Vivo Y500, Oppo A6, Realme 16, ZTE, Walton P18 Buttonসহ বিভিন্ন মডেলের সেট রয়েছে। এর মধ্যে নতুন মোবাইলের পাশাপাশি গ্রাহকদের সার্ভিসিংয়ের জন্য দোকানে জমা রাখা ২৮টি স্মার্টফোন ও একটি বাটন ফোনও ছিল। সব মিলিয়ে চুরি যাওয়া মোবাইল ফোন ও নগদ টাকার আনুমানিক মূল্য প্রায় ছয় লাখ টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই দোকানের কর্মচারী রেজাউল করিম শাওনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তিনি আর দোকানে না ফেরায় তার বিরুদ্ধে সন্দেহ তৈরি হয়। এ ঘটনায় গত ২৩ আগস্ট কুলিয়ারচর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
এরপর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে শাওনের অবস্থান শনাক্ত করে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ। পরে ২৪ আগস্ট ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানা পুলিশের সহায়তায় ময়মনসিংহ থেকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাওন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পাঁচটি মোবাইল ফোন ও একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। তবে চুরি যাওয়া সব মোবাইল ফোন, অন্যান্য আলামত ও নগদ টাকা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
কুলিয়ারচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শারফিন মিয়া বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে অভিযুক্ত শাওনের অবস্থান শনাক্ত করে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানা পুলিশের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পাঁচটি মোবাইল ফোন ও একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। চুরি যাওয়া অন্যান্য মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও জানান, আটক রেজাউল করিম শাওনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
শাহীন সুলতানা, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি :