

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ৬ নম্বর ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদে অবৈধ টাকার বিনিময়ে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের ভুয়া জন্ম নিবন্ধন সনদ দেওয়ার ঘটনাটি সরকারি তদন্তে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে। গত ৬ আগস্ট কুমিল্লার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে ভুয়া সনদের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। পুরো ঘটনার অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই জালিয়াতি ও রাষ্ট্রবিরোধী অপকর্মের মূল কারিগর ও একক মাস্টারমাইন্ড ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ইউপি সচিব) মো. নজরুল ইসলাম।অভিযোগে জানা গেছে, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং সরকারি সার্ভারের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রেখে সচিব নজরুল ইসলাম এই চক্রটি গড়ে তোলেন। ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সালাহ উদ্দিন রুহুলকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে এবং ভুয়া তথ্য ও ইউপি সদস্যদের তথাকথিত প্রত্যয়নপত্রের অজুহাত দেখিয়ে তিনি এই জালিয়াতি সম্পন্ন করেন। চেয়ারম্যানকে বিভ্রান্ত করে ও প্রশাসনিক সরলতার সুযোগ নিয়ে তিনি রোহিঙ্গাদের ভুয়া সনদ সার্ভারে এন্ট্রি ও অনুমোদন করাতে বাধ্য করেন। মোটা অঙ্কের অবৈধ আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে তিনি একাই এই জালিয়াতি পরিচালনা করেছেন। জেলা প্রশাসনের তদন্তে সাইমুন ইসলাম সাজ্জাদ, মুবিনা খাতুন ও হাফিছা নামের ৩ রোহিঙ্গার জন্মসনদ সম্পূর্ণ ভুয়া হিসেবে শনাক্ত হয়েছে এবং তা বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিকভাবে ৩টির কথা সামনে এলেও এই সচিবের হাত ধরে একইভাবে আরও বহু ভুয়া জন্মসনদ ইস্যু করা হয়েছে বলে জানা গেছে। একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে প্রশাসনিক পদে থেকে ইউপি সচিব মো. নজরুল ইসলাম যেভাবে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করেছেন, তা সরাসরি গুরুতর অপরাধ। এ বিষয়ে ২৩ আগস্ট (রোববার) সচিব নজরুল ইসলামের বক্তব্য নিতে একাধিকবার যোগোযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি। তদন্তে তার এই ভয়াবহ কারসাজি উন্মোচিত হওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে এখনো দৃশ্যমান কোনো ফৌজদারি ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। অবিলম্বে জালিয়াতির মূল হোতা সাবেক সচিব নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ ও তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল।
স্টাফ রিপোর্টার: