

এনামুল হক, ফরিদপুর উপজেলা (পাবনা) প্রতিনিধি:
পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর ১২ জন রোগীর অপারেশনের ক্ষতস্থানে যক্ষ্মা শনাক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আল-মদিনা ল্যাব এন্ড হাসপাতালে গত প্রায় তিন মাসে বিভিন্ন রোগীর অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর কয়েকজন রোগীর ক্ষতস্থান নির্ধারিত সময়ে শুকায়নি। পরবর্তীতে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তাদের ক্ষতস্থানে যক্ষ্মা শনাক্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী মোছা. রাবেয়া আয়েশা গত ৩১ মে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। সিজারিয়ান অপারেশনের পর তার ক্ষতস্থান দীর্ঘদিনেও শুকায়নি। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করালে ক্ষতস্থানে যক্ষ্মা শনাক্ত হয় বলে তিনি জানান। একই ধরনের সমস্যায় আরও ১১ জন রোগী ভুগছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর ক্ষতস্থানে জটিলতা দেখা দেওয়ার বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করে এর প্রকৃত কারণ বের করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে আল-মদিনা ল্যাব এন্ড হাসপাতালের পরিচালক মো. মাসুদ রানা বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “ঘটনার বিষয়টি জানার পর থেকেই আমরা সব ধরনের অপারেশন বন্ধ রেখেছি। হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারসহ প্রয়োজনীয় স্থান জীবাণুমুক্ত করার কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত রোগীদের নিজস্ব অর্থায়নে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এমন ঘটনায় আমরা দুঃখিত।”
ফরিদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুল হাসান শাওন বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরিস্থিতি ও রোগীদের আসা-যাওয়া পর্যালোচনা করে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে গত ২৪ আগস্ট ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ইমামা বানিন ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা আল-মদিনা ল্যাব এন্ড হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, অপারেশনের কাজে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ নতুন করে কিনে স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন না করা পর্যন্ত সেখানে কোনো ধরনের অপারেশন করা যাবে না।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপারেশনের পর রোগীদের ক্ষতস্থানে যক্ষ্মা শনাক্ত হওয়ার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।
এনামুল হক, ফরিদপুর উপজেলা (পাবনা) প্রতিনিধি: