

ফারুক আহমেদ ভূঁইয়া, প্রতিনিধি
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) কর্তৃক নির্ধারিত জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চলের (ইজেড) ভেতরে অবস্থিত পশ্চিমপাড়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের দ্রুত পুনর্বাসনের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। “বাসস্থান মানুষের মৌলিক অধিকার”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এই মানববন্ধনে গ্রামবাসীর পক্ষে অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসনের জোরালো দাবি জানানো হয়।
শুক্রবার (২১ আগস্ট ২০২৬) অর্থনৈতিক অঞ্চল এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীর আয়োজনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পূর্বের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বেজা কর্তৃপক্ষ এলাকাবাসীর পৈত্রিক সম্পত্তির ১৮ একর জায়গা অধিগ্রহণ করবে এবং এর বিপরীতে একই ইজেডের উত্তর সীমানা ঘেঁষে সমপরিমাণ জায়গায় তাদের বাড়িঘর পুনর্বাসন করার কথা ছিল। মূলত এই চুক্তির ভিত্তিতেই ইজেডের ম্যাপ তৈরি করে সমস্ত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, প্রণীত ম্যাপ অনুযায়ী বাড়িঘর পূর্ণ পুনর্বাসনের সুব্যবস্থা এখনো বাস্তবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।
বক্তারা জোরালো দাবি জানিয়ে আরও বলেন, পুনর্বাসনের পূর্বে কোনো অবস্থাতেই জীবননাশের হুমকি বা আবদ্ধ করার মতো প্রাচীর বা দেওয়াল তৈরি করা যাবে না। “উচ্ছেদ নয়—পুনর্বাসন চাই” স্লোগান তুলে তারা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীর দ্রুত পুনর্বাসনের পাশাপাশি বেজা কর্তৃক তৈরি প্রথম ও দ্বিতীয় ম্যাপ অনুযায়ী পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া মানববন্ধনে বেশ কিছু জরুরি দাবি উত্থাপন করা হয়: পূর্ণবাসন এলাকায় মসজিদ, মাদ্রাসা, গোরস্থান এবং চলাচলের জন্য রাস্তার সুব্যবস্থা করা। ক্ষতিগ্রস্তদের শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, ফাউন্ডেশন করে বাড়িঘর নির্মাণসহ গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা, এবং কাগজ অনুযায়ী যার যতটুকু জমি রয়েছে, সমপরিমাণ জমি সাবকবলার মাধ্যমে একত্রে হস্তান্তর এবং ভূমিহীনদের ঘরের সুব্যবস্থা করা।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার আমাদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছিল, কিন্তু এখনও পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উত্তর পাশে জায়গা পাওয়ার কথা থাকলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি। আমরা অবিলম্বে পুনর্বাসন চাই।”
বক্তারা জানান, যেকোনো মূল্যে তাদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর ও বিশাল আন্দোলনের হুশিয়ারি প্রদান করেন।
উত্তেজনাপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে রক্ষা করতে এবং তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।
ফারুক আহমেদ ভূঁইয়া, প্রতিনিধি