

মোঃ নাসিরউদ্দিন সটাফ রিপোর্টার
মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে দেশের অন্যতম প্রধান অঞ্চলে পরিণত হয়েছে রাজশাহী। এ অঞ্চলে উৎপাদিত বিভিন্ন প্রজাতির মাছ স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশের প্রায় ২৫টি জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এমনকি রাজশাহীর উৎপাদিত ও প্রক্রিয়াজাত কিছু মাছ প্রতিবেশী দেশ ভারতেও রপ্তানি হচ্ছে।
মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় প্রায় ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৬৫৩টি পুকুরে মাছ চাষ হচ্ছে। এসব জলাশয় থেকে বছরে ৫ লাখ টনেরও বেশি মাছ উৎপাদিত হয়। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন মাছ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।
মাছ চাষ ও বিপণনকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলে বিপুল মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার মানুষ সরাসরি মাছ চাষের সঙ্গে যুক্ত এবং এ খাতকে কেন্দ্র করে প্রায় ৩ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
রাজশাহী অঞ্চলে কার্পজাতীয় মাছের পাশাপাশি পাবদা, শিং, কই ও মাগুরসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছের বাণিজ্যিক চাষও দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে পবা উপজেলার পারিলা এলাকা থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জীবন্ত মাছ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়। বিশেষ ব্যবস্থায় অক্সিজেনযুক্ত পানিতে মাছ পরিবহনের কারণে দূরবর্তী বাজারেও রাজশাহীর মাছের চাহিদা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃষিপণ্যের তুলনায় মাছ চাষে লাভের সম্ভাবনা থাকায় অনেক কৃষক ও উদ্যোক্তা বাণিজ্যিকভাবে পুকুরে মাছ চাষের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে রাজশাহী অঞ্চলে মাছ উৎপাদন, পরিবহন, পাইকারি ও খুচরা বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও সম্প্রসারিত হচ্ছে।
মৎস্য খাতের এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাতের পোনা, মানসম্মত খাদ্য, রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং বাজারজাতকরণে আরও কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে রাজশাহীর মিঠা পানির মাছের উৎপাদন ও বাজার আরও সম্প্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।
মোঃ নাসিরউদ্দিন সটাফ রিপোর্টার