Dhaka 6:21 am, Monday, 2 November 2026
News Title :
সাঁথিয়ায় মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন এমপি নাজিবুর রহমান মোমেন। মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত উন্নত মৌগাছি গঠনে চেয়ারম্যান মেজর আলী বিশ্বাসের প্রশংসনীয় পদক্ষেপ পীরগঞ্জে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।  পাঁচবিবিতে অটোভ্যান চালককে হত্যা করে অটো ছিনতাই ‎বকশীগঞ্জে ঝোপের আড়ালে মিলল গৃহবধূর পচাগলা লাশ, আটক ৪ ঘোড়াঘাটে মায়ের সাথে অভিমান করে কিশোরীর আত্মহত্যা ময়মনসিংহ জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি ঈশ্বরগঞ্জ থানার মো. সাজ্জাদ রোমন পুংগলী ইউনিয়ন যুব ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে খেলার সামগ্রী বিতরণ। কুলিয়ারচরে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ বিষয়ক অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত কেরানীগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে ৩ জনের কারাদণ্ড ও জরিমানা

ধরলার কড়াল গ্রাসে ভিটেমাটি হারাচ্ছে চর মেখলী: স্থায়ী বাঁধের দাবিতে কুড়িগ্রামে রাজপথে ভুক্তভোগীরা

মোঃ ইসমাইল হোসাইন ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

​কুড়িগ্রামের ধরলা নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে অবিলম্বে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন নদীভাঙনকবলিত এলাকার অর্ধেকেরও বেশি দিশেহারা মানুষ। বৃহস্পতিবারে (২০ আগস্ট) সকাল ১১টায় কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন বোর্ডের সামনে ফুলবাড়ী উপজেলার ৪ নম্বর বড়ভিটা ইউনিয়নের ১ নম্বর চর মেখলী ওয়ার্ডের অধিবাসীদের আয়োজনে এবং ‘অ্যাক্টিভিস্টা কুড়িগ্রাম’-এর সহযোগিতায় এ প্রতিবাদসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন।আশ্বাস নয়, চাই টেকসই প্রতিরোধ

​মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগীরা আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, ধরলা নদীর অনবরত ভাঙনে ইতোমধ্যে তাদের বসতভিটা, বহু আবাদি জমিসহ শত শত বিঘা সম্পত্তি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। বর্তমানে স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়গুলো চরম হুমকির মুখে। প্রতি বছরই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হলেও টেকসই কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। দ্রুততম সময়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মিত না হলে অবশিষ্ট ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় থাকবে না।

​প্রতিবেশীদের উন্নয়ন হলেও বৈষম্যের শিকার চর মেখলী।বক্তারা অভিযোগ করেন, ধরলা নদীসংলগ্ন পার্শ্ববর্তী লালমনিরহাট জেলা এবং কুড়িগ্রামের অন্যান্য তিনটি উপজেলায় নদী তীরবর্তী বাঁধ নির্মাণ করে ভাঙন রোদের ব্যবস্থা করা হলেও ফুলবাড়ী উপজেলার চর মেখলীসহ আশপাশের এলাকাগুলোকে দীর্ঘদিন ধরে এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। এই ভৌগোলিক বৈষম্য দূর করে জরুরি ভিত্তিতে চর মেখলী এলাকায় নদী তীর রক্ষায় স্থায়ী টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য তারা সরকারের সর্বোচ্চ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।স্থানীয় প্রতিনিধি ও অ্যাক্টিভিস্টদের তীব্র ক্ষোভ

​আরজু খাতুন (প্রতিনিধি, অ্যাক্টিভিস্টা কুড়িগ্রাম): “চর মেখলী অত্যন্ত অবহেলিত একটি অঞ্চল। নদীভাঙনের হাত থেকে এই জনপদকে রক্ষা করতে হলে অবিলম্বে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

​এম রশিদ আলী (সাধারণ সম্পাদক, কুড়িগ্রাম হাব): “একই ধরলা নদী চারটি উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেলেও অন্য তিন উপজেলায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। অথচ এই নির্দিষ্ট উপজেলায় কোনো সুরক্ষামূলক উদ্যোগই নেওয়া হয়নি। আমরা এই বৈষম্যের অবসান ও দ্রুত বাঁধের দাবি জানাচ্ছি।”

​ইলিয়াস আলী (ইউপি সদস্য, ১ নম্বর চর মেখলী ওয়ার্ড): “জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচনের সময় মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর চোখের সামনে শত শত বিঘা জমি, দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীতে বিলীন হতে দেখছি। বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ ও বারবার মানববন্ধন করেও কোনো সুফল মেলেনি। দ্রুত এ দুর্দশা নিরসনে আমরা প্রশাসন ও সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ চাই।”

​মানববন্ধন থেকে ফুলবাড়ী উপজেলার চর মেখলীসহ পুরো এলাকায় অবিলম্বে টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং ভিটেমাটিহারা পরিবারগুলোকে রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সাঁথিয়ায় মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন এমপি নাজিবুর রহমান মোমেন।

ধরলার কড়াল গ্রাসে ভিটেমাটি হারাচ্ছে চর মেখলী: স্থায়ী বাঁধের দাবিতে কুড়িগ্রামে রাজপথে ভুক্তভোগীরা

Update Time : 08:53:05 am, Thursday, 20 August 2026

মোঃ ইসমাইল হোসাইন ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

​কুড়িগ্রামের ধরলা নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে অবিলম্বে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন নদীভাঙনকবলিত এলাকার অর্ধেকেরও বেশি দিশেহারা মানুষ। বৃহস্পতিবারে (২০ আগস্ট) সকাল ১১টায় কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন বোর্ডের সামনে ফুলবাড়ী উপজেলার ৪ নম্বর বড়ভিটা ইউনিয়নের ১ নম্বর চর মেখলী ওয়ার্ডের অধিবাসীদের আয়োজনে এবং ‘অ্যাক্টিভিস্টা কুড়িগ্রাম’-এর সহযোগিতায় এ প্রতিবাদসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন।আশ্বাস নয়, চাই টেকসই প্রতিরোধ

​মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগীরা আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, ধরলা নদীর অনবরত ভাঙনে ইতোমধ্যে তাদের বসতভিটা, বহু আবাদি জমিসহ শত শত বিঘা সম্পত্তি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। বর্তমানে স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়গুলো চরম হুমকির মুখে। প্রতি বছরই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হলেও টেকসই কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। দ্রুততম সময়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মিত না হলে অবশিষ্ট ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় থাকবে না।

​প্রতিবেশীদের উন্নয়ন হলেও বৈষম্যের শিকার চর মেখলী।বক্তারা অভিযোগ করেন, ধরলা নদীসংলগ্ন পার্শ্ববর্তী লালমনিরহাট জেলা এবং কুড়িগ্রামের অন্যান্য তিনটি উপজেলায় নদী তীরবর্তী বাঁধ নির্মাণ করে ভাঙন রোদের ব্যবস্থা করা হলেও ফুলবাড়ী উপজেলার চর মেখলীসহ আশপাশের এলাকাগুলোকে দীর্ঘদিন ধরে এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। এই ভৌগোলিক বৈষম্য দূর করে জরুরি ভিত্তিতে চর মেখলী এলাকায় নদী তীর রক্ষায় স্থায়ী টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য তারা সরকারের সর্বোচ্চ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।স্থানীয় প্রতিনিধি ও অ্যাক্টিভিস্টদের তীব্র ক্ষোভ

​আরজু খাতুন (প্রতিনিধি, অ্যাক্টিভিস্টা কুড়িগ্রাম): “চর মেখলী অত্যন্ত অবহেলিত একটি অঞ্চল। নদীভাঙনের হাত থেকে এই জনপদকে রক্ষা করতে হলে অবিলম্বে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

​এম রশিদ আলী (সাধারণ সম্পাদক, কুড়িগ্রাম হাব): “একই ধরলা নদী চারটি উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেলেও অন্য তিন উপজেলায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। অথচ এই নির্দিষ্ট উপজেলায় কোনো সুরক্ষামূলক উদ্যোগই নেওয়া হয়নি। আমরা এই বৈষম্যের অবসান ও দ্রুত বাঁধের দাবি জানাচ্ছি।”

​ইলিয়াস আলী (ইউপি সদস্য, ১ নম্বর চর মেখলী ওয়ার্ড): “জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচনের সময় মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর চোখের সামনে শত শত বিঘা জমি, দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীতে বিলীন হতে দেখছি। বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ ও বারবার মানববন্ধন করেও কোনো সুফল মেলেনি। দ্রুত এ দুর্দশা নিরসনে আমরা প্রশাসন ও সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ চাই।”

​মানববন্ধন থেকে ফুলবাড়ী উপজেলার চর মেখলীসহ পুরো এলাকায় অবিলম্বে টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং ভিটেমাটিহারা পরিবারগুলোকে রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়।