Dhaka 3:52 am, Thursday, 17 September 2026
News Title :
আমদিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইএম মেহেদী হাসানকে ঘিরে আলোচনা। বাঘায় ১২৫ বোতল ফেনসিডিলসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার। পাবনার ফরিদপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ঘি উৎপাদন, ২ লাখ টাকা জরিমানা। জবই বিল প্রকল্পে নিষেধাজ্ঞা শেষে মান্দার তিন বিলে ফের মৎস্য আহরণ শুরু। পাবনায় নিখোঁজের ৭দিন পর কামরুন্নাহার কলির খণ্ডবিখণ্ড লাশ উদ্ধার। ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের আহ্বান, আক্রান্তদের পাশে মানবিকতার হাত বাড়ালেন আলহাজ্ব সাজ্জাদুর রহমান মামুন। দেওয়ালিয়াবাড়ী আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে মজিবুর রহমানকে চান শিক্ষার্থী-এলাকাবাসী সাগর-রুনি হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন। ফরিদপুরে শিশু শাকিব হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার, অটোভ্যান উদ্ধার। নওগাঁর মান্দা কসবা ঠাকুরমান্দা গ্রামে ২১০৫ লিটার চোলাইমদ তৈরির ওয়াশসহ এক নারী গ্রেপ্তার।

ঈশ্বরদীতে মাদকাসক্ত ছিন্নমূল কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু  

আব্দুল্লাহ আল মামুন পিয়াস স্টাফ রিপোর্টার

পাবনার ঈশ্বরদীতে দীর্ঘ ২ বছর ধরে নিখোঁজ থাকা রুহুল আমিন (১৫) নামের এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।

অতিরিক্ত মাদকাসক্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহত কিশোর পাবনা সদর থানার গাছপাড়া গ্রামের সাইদুল ইসলামের ছেলে।

নিহত কিশোরের পারিবার ও চাচাতো ভাই সজীবের থেকে জানা যায়, পারিবারিক বিভিন্ন কারণে অভিমান করে ২০২৪ সালের শুরুর দিকে বাসা থেকে পালিয়ে যায় রুহুল আমিন। এরপর থেকেই পরিবার তাকে ঢাকা থেকে রাজশাহী পর্যন্ত বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশনে হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে জানতে পারেন সে ঈশ্বরদী রেলওয়ে স্টেশনে রয়েছে। পরে পরিবার তাকে স্টেশনের ড্যান্ডি ও অন্যান্য নেশায় আসক্ত কিশোরদের সঙ্গ থেকে উদ্ধার করে বাড়িতে ফিরিয়ে আনে।

কিছুদিন ভালো থাকার পর সে আবারও পরিবারের অজান্তে বাসা থেকে পালিয়ে যায় এবং ঈশ্বরদী এলাকার বখাটে ও মাদকাসক্ত কিশোরদের সংস্পর্শে এসে ড্যান্ডি ও অন্যান্য নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে। পরিবারের পক্ষ থেকে রেলওয়ে স্টেশন ও বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়েও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

অবশেষে গত ১৪ আগস্ট রাতে ফেসবুকে একটি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের পোস্ট দেখে পরিবারের সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে নিহতের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ সজীব হোসেন ঈশ্বরদী থানা ও হাসপাতালে যোগাযোগ করে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করেন।

প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের বরাতে জানা যায়, অতিরিক্ত মাদক সেবনের ফলে রুহুল আমিনের কিডনি নষ্ট হয়ে যায় এবং লিভারে পানি জমে তার মৃত্যু হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হলে আজ ১৬ আগস্ট দুপুর আড়াইটার দিকে জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।

এবিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন , দীর্ঘদিন যাবতই ঈশ্বরদীতে ছিন্নমূল শিশুদের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে এবং তারা বিভিন্ন নেশায় আসক্ত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে থানা পুলিশ এবং রেলওয়ে পুলিশকে বিষয়টা অবগত করা হয়েছে তারা যেন এই বিষয়টি দেখেন। একটি জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে এই শিশুগুলোর বয়স ১২ থেকে ১৫ এর মধ্যে তাদের ভ্রাম্যমান আদালত করাও সম্ভব হচ্ছে না এটা নিয়ে একটু জটিলতা রয়েছে তারপরেও আমরা দেখি এদের কোন ব্যবস্থা করতে পারি কিনা।

এবিষয়ে ঈশ্বরদী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান আসাদ বলেন, বাচ্চাটাকে অসুস্থ অবস্থায় স্থানীয় কোন এক লোক তাকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এরপরে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় বাচ্চাটা মৃত্যু হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে আমাকে খবর দেয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংবাদের প্রেক্ষিতে বাচ্চাটার সুরতহাল কার্যক্রম এবং পোস্টমর্টেম কমপ্লিট করা হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা পরিবারের কোনো খোঁজ পাইনি। এরমধ্যে মিডিয়াতেও ছবি দেওয়া হয়, তারাও প্রচারণা চালায়, আমরাও ফেসবুকে প্রচারণা চালায়। পোস্টমর্টেম হওয়ার পরেরদিন আমরা যখন ‘আঞ্জুমানে মফিদুল’ এর কাছে হস্তান্তর করব তার আগে, হঠাৎ করে তার পরিবারের একজন যোগাযোগ করেন। ফেসবুক থেকেই নিহত কিশোরের ছবিটা দেখে তারা মূলত চিনতে পারে। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছে, ঈশ্বরদী স্টেশন ও এর আশপাশের এলাকায় কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ড্যান্ডি ও অন্যান্য মাদকের ভয়ংকর বিস্তার ঘটছে। মাদকাসক্তির কারণে যেন আর কোনো তরতাজা প্রাণ ঝরে না যায়, সে বিষয়ে প্রশাসন ও অভিভাবক মহলকে আরও কঠোর ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

আমদিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইএম মেহেদী হাসানকে ঘিরে আলোচনা।

ঈশ্বরদীতে মাদকাসক্ত ছিন্নমূল কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু  

Update Time : 06:58:33 am, Monday, 17 August 2026

আব্দুল্লাহ আল মামুন পিয়াস স্টাফ রিপোর্টার

পাবনার ঈশ্বরদীতে দীর্ঘ ২ বছর ধরে নিখোঁজ থাকা রুহুল আমিন (১৫) নামের এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।

অতিরিক্ত মাদকাসক্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহত কিশোর পাবনা সদর থানার গাছপাড়া গ্রামের সাইদুল ইসলামের ছেলে।

নিহত কিশোরের পারিবার ও চাচাতো ভাই সজীবের থেকে জানা যায়, পারিবারিক বিভিন্ন কারণে অভিমান করে ২০২৪ সালের শুরুর দিকে বাসা থেকে পালিয়ে যায় রুহুল আমিন। এরপর থেকেই পরিবার তাকে ঢাকা থেকে রাজশাহী পর্যন্ত বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশনে হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে জানতে পারেন সে ঈশ্বরদী রেলওয়ে স্টেশনে রয়েছে। পরে পরিবার তাকে স্টেশনের ড্যান্ডি ও অন্যান্য নেশায় আসক্ত কিশোরদের সঙ্গ থেকে উদ্ধার করে বাড়িতে ফিরিয়ে আনে।

কিছুদিন ভালো থাকার পর সে আবারও পরিবারের অজান্তে বাসা থেকে পালিয়ে যায় এবং ঈশ্বরদী এলাকার বখাটে ও মাদকাসক্ত কিশোরদের সংস্পর্শে এসে ড্যান্ডি ও অন্যান্য নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে। পরিবারের পক্ষ থেকে রেলওয়ে স্টেশন ও বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়েও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

অবশেষে গত ১৪ আগস্ট রাতে ফেসবুকে একটি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের পোস্ট দেখে পরিবারের সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে নিহতের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ সজীব হোসেন ঈশ্বরদী থানা ও হাসপাতালে যোগাযোগ করে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করেন।

প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের বরাতে জানা যায়, অতিরিক্ত মাদক সেবনের ফলে রুহুল আমিনের কিডনি নষ্ট হয়ে যায় এবং লিভারে পানি জমে তার মৃত্যু হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হলে আজ ১৬ আগস্ট দুপুর আড়াইটার দিকে জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।

এবিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন , দীর্ঘদিন যাবতই ঈশ্বরদীতে ছিন্নমূল শিশুদের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে এবং তারা বিভিন্ন নেশায় আসক্ত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে থানা পুলিশ এবং রেলওয়ে পুলিশকে বিষয়টা অবগত করা হয়েছে তারা যেন এই বিষয়টি দেখেন। একটি জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে এই শিশুগুলোর বয়স ১২ থেকে ১৫ এর মধ্যে তাদের ভ্রাম্যমান আদালত করাও সম্ভব হচ্ছে না এটা নিয়ে একটু জটিলতা রয়েছে তারপরেও আমরা দেখি এদের কোন ব্যবস্থা করতে পারি কিনা।

এবিষয়ে ঈশ্বরদী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান আসাদ বলেন, বাচ্চাটাকে অসুস্থ অবস্থায় স্থানীয় কোন এক লোক তাকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এরপরে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় বাচ্চাটা মৃত্যু হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে আমাকে খবর দেয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংবাদের প্রেক্ষিতে বাচ্চাটার সুরতহাল কার্যক্রম এবং পোস্টমর্টেম কমপ্লিট করা হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা পরিবারের কোনো খোঁজ পাইনি। এরমধ্যে মিডিয়াতেও ছবি দেওয়া হয়, তারাও প্রচারণা চালায়, আমরাও ফেসবুকে প্রচারণা চালায়। পোস্টমর্টেম হওয়ার পরেরদিন আমরা যখন ‘আঞ্জুমানে মফিদুল’ এর কাছে হস্তান্তর করব তার আগে, হঠাৎ করে তার পরিবারের একজন যোগাযোগ করেন। ফেসবুক থেকেই নিহত কিশোরের ছবিটা দেখে তারা মূলত চিনতে পারে। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছে, ঈশ্বরদী স্টেশন ও এর আশপাশের এলাকায় কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ড্যান্ডি ও অন্যান্য মাদকের ভয়ংকর বিস্তার ঘটছে। মাদকাসক্তির কারণে যেন আর কোনো তরতাজা প্রাণ ঝরে না যায়, সে বিষয়ে প্রশাসন ও অভিভাবক মহলকে আরও কঠোর ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।