Dhaka 3:41 am, Friday, 5 June 2026
News Title :
দিনাজপুরের বিরামপুরে রাতের আঁধারে ৫০ মণ বোরো ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের ইসলামী ব্যাংক রক্ষায় রাঙামাটিতে গ্রাহকদের বিশাল মানববন্ধন: এমডি ওমর ফারুককে পুনর্বহাল ও এস আলমের বিচারের দাবি পাটগ্রাম বিএম কলেজের শিক্ষক নিয়োগের প্রতীবাদে সংবাদ সম্মেলন টুরিস্টদের রাতভর অপেক্ষা, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ও ক্ষোভ: প্রশ্নের মুখে কোনাবাড়ীর ‘চিল ট্যুরিজম ’ আত্মীয়ের সঙ্গে বিয়ে কি নিরাপদ? গবেষণায় উঠে এল নতুন তথ্য নবীগঞ্জে কথিত ডাকাতের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, বসতঘরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ‎ ফুটবল মাঠ নিয়ে সংঘর্ষে উত্তপ্ত বানিয়াচং ‎ওসিসহ আহত অন্তত ৩০ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করল জাতীয়তাবাদী রিকশা, ভ্যান ও অটো চালক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি গাজীপুরে সাংবাদিক নির্যাতন : অপহরণ, মারধরে গ্রেফতার পাঁচজন অভিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের অভিযোগ: এনসিপির সহযোগী সংগঠনের নেতাকে পুলিশে সোপর্দ

দিনাজপুরের বিরামপুরে রাতের আঁধারে ৫০ মণ বোরো ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের

মোঃ নয়ন মিয়া দিনাজপুর

জেলা প্রতিনিধি

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে রাতের আঁধারে প্রায় ৫০ মণ বোরো ধান কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দাবি করে বিরামপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব জগন্নাথপুর এলাকার বাসিন্দা মোঃ মাসুদ রানা বিরামপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিরামপুর পৌর এলাকার পুরাতন বাজার মন্দিরের পিছন এলাকার বাসিন্দা মোঃ মাহমুদুল হক ও তার সহযোগীদের সঙ্গে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।অভিযোগকারী দাবি করেন, চড়াইভিটা মৌজার জেএল নং-৮২, খতিয়ান নং-২০৯, দাগ নং-৫১০-এর ৬৬ শতক জমির বৈধ মালিক তিনি এবং জমিটির সকল হালনাগাদ কাগজপত্র তার কাছে রয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে,জমিটি অভিযোগকারীর বসতবাড়ি থেকে দূরে হওয়ায় তিনি স্থানীয় কৃষক মোঃ বুলবুল আহম্মেদের কাছে বর্গা হিসেবে চাষাবাদের জন্য দেন। চলতি ইরি মৌসুমে ওই জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয় এবং সম্প্রতি ধান কর্তনের উপযোগী হয়ে ওঠে।

অভিযোগ অনুযায়ী,গত ১ জুন দিবাগত গভীর রাতে বিবাদীপক্ষ হারভেস্টার মেশিন নিয়ে জমিতে প্রবেশ করে ধান কাটতে শুরু করে। গভীর রাতে হারভেস্টার মেশিনের শব্দ শুনে বর্গা চাষি মোঃ বুলবুল ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান,কয়েকজন ব্যক্তি হারভেস্টার দিয়ে ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,জমিতে থাকা বাবু জিরা জাতের ধানের পরিমাণ ছিল আনুমানিক ৫০ মণ,যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা। অভিযোগকারী দাবি করেন, তার অনুমতি ছাড়াই এসব ধান কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে বর্গা চাষি তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে বিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ঘটনার সত্যতা যাচাই করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন, ঘটনার পর বিবাদীপক্ষ তাকে এবং তার পক্ষে থাকা বর্গা চাষি ও অন্যান্য লোকজনকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিবাদ বা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করলে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষী হিসেবে চড়াইভিটা গ্রামের মোঃ বুলবুল এবং মঙ্গলপুর এলাকার মোঃ দিলদারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও স্থানীয় আরও অনেকে ঘটনাটি দেখেছেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী মোঃ মাসুদ রানা বলেন,“আমি বৈধভাবে জমিটির মালিক। জমির সব কাগজপত্র আমার কাছে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিবাদীপক্ষ জোরপূর্বক জমিটি দখলের চেষ্টা করে আসছে। অবশেষে রাতের অন্ধকারে আমার জমির ধান কেটে নিয়ে গেছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করছি।”

অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে। এ বিষয়ে বিরামপুর থানার দায়িত্বশীল সূত্র জানায়,লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে প্রায়ই বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত, ফসল নষ্ট ও দখলচেষ্টার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ করা জরুরি বলে তারা মনে করেন। বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

 

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

দিনাজপুরের বিরামপুরে রাতের আঁধারে ৫০ মণ বোরো ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের

দিনাজপুরের বিরামপুরে রাতের আঁধারে ৫০ মণ বোরো ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের

Update Time : 09:10:46 pm, Wednesday, 3 June 2026

মোঃ নয়ন মিয়া দিনাজপুর

জেলা প্রতিনিধি

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে রাতের আঁধারে প্রায় ৫০ মণ বোরো ধান কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দাবি করে বিরামপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব জগন্নাথপুর এলাকার বাসিন্দা মোঃ মাসুদ রানা বিরামপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিরামপুর পৌর এলাকার পুরাতন বাজার মন্দিরের পিছন এলাকার বাসিন্দা মোঃ মাহমুদুল হক ও তার সহযোগীদের সঙ্গে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।অভিযোগকারী দাবি করেন, চড়াইভিটা মৌজার জেএল নং-৮২, খতিয়ান নং-২০৯, দাগ নং-৫১০-এর ৬৬ শতক জমির বৈধ মালিক তিনি এবং জমিটির সকল হালনাগাদ কাগজপত্র তার কাছে রয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে,জমিটি অভিযোগকারীর বসতবাড়ি থেকে দূরে হওয়ায় তিনি স্থানীয় কৃষক মোঃ বুলবুল আহম্মেদের কাছে বর্গা হিসেবে চাষাবাদের জন্য দেন। চলতি ইরি মৌসুমে ওই জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয় এবং সম্প্রতি ধান কর্তনের উপযোগী হয়ে ওঠে।

অভিযোগ অনুযায়ী,গত ১ জুন দিবাগত গভীর রাতে বিবাদীপক্ষ হারভেস্টার মেশিন নিয়ে জমিতে প্রবেশ করে ধান কাটতে শুরু করে। গভীর রাতে হারভেস্টার মেশিনের শব্দ শুনে বর্গা চাষি মোঃ বুলবুল ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান,কয়েকজন ব্যক্তি হারভেস্টার দিয়ে ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,জমিতে থাকা বাবু জিরা জাতের ধানের পরিমাণ ছিল আনুমানিক ৫০ মণ,যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা। অভিযোগকারী দাবি করেন, তার অনুমতি ছাড়াই এসব ধান কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে বর্গা চাষি তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে বিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ঘটনার সত্যতা যাচাই করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন, ঘটনার পর বিবাদীপক্ষ তাকে এবং তার পক্ষে থাকা বর্গা চাষি ও অন্যান্য লোকজনকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিবাদ বা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করলে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষী হিসেবে চড়াইভিটা গ্রামের মোঃ বুলবুল এবং মঙ্গলপুর এলাকার মোঃ দিলদারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও স্থানীয় আরও অনেকে ঘটনাটি দেখেছেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী মোঃ মাসুদ রানা বলেন,“আমি বৈধভাবে জমিটির মালিক। জমির সব কাগজপত্র আমার কাছে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিবাদীপক্ষ জোরপূর্বক জমিটি দখলের চেষ্টা করে আসছে। অবশেষে রাতের অন্ধকারে আমার জমির ধান কেটে নিয়ে গেছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করছি।”

অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে। এ বিষয়ে বিরামপুর থানার দায়িত্বশীল সূত্র জানায়,লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে প্রায়ই বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত, ফসল নষ্ট ও দখলচেষ্টার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ করা জরুরি বলে তারা মনে করেন। বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।