Dhaka 5:57 am, Wednesday, 29 July 2026
News Title :
আশ্রয়ণ প্রকল্পে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে ১৮ পরিবার, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রশাসনের নবীগঞ্জে আম গাছে থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার  রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পথে হামলা, ছিনতাইয়ের অভিযোগ; গণপিটুনিতে আহত সন্দেহভাজন হাসপাতালে বিএমএসএফ কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি জসিম, সম্পাদক নাজিম নির্বাচিত ভারতে এক যুবককে একসঙ্গে বিয়ে করলেন তিন বোন, সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার ঝড় রাজশাহীর কাটাখালীতে ২০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার গণভোট, জুলাই সনদ ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল রাঙামাটিতে পারিবারিক কলহের জেরে মর্মান্তিক ঘটনা: মায়ের কোপে প্রাণ গেল মাদকাসক্ত ছেলের গাজীপুর মহানগর কৃষক দলের ৬ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা জয়পুরহাটে র‍্যাব-৫ এর অভিযানে অস্ত্র, গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

এআই প্রযুক্তিতে সম্পাদিত ভিডিও ঘিরে চাঞ্চল্য: তিন মাসের শিশুর পা ভাঙার দাবি মিথ্যা, তদন্তে সুস্থ শিশুকে পেল পুলিশ

 

ক্রাইম রিপোর্টার: আলমগীর হোসেন

নরসিংদীর তিন মাস বয়সী এক শিশুর পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পাদনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও শিশুটির পরিবার। সরেজমিন তদন্তে গিয়ে পুলিশ শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় পেয়েছে এবং তার পা ভাঙার কোনো প্রমাণ মেলেনি।

জানা যায়, গত ১১ জুন নরসিংদী সদর উপজেলার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকাদি এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে ঘটনাটির সূত্রপাত হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জহিরুল মিয়া ও সায়মা আক্তার দম্পতির তিন মাস বয়সী ছেলে রিজিক জন্মের পর থেকেই অসুস্থ থাকায় কিছুদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। এ সময় পরিবারের সদস্য লতা বেগমকে বাড়ির অধিকাংশ কাজ একাই সামলাতে হওয়ায় পারিবারিকভাবে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়।

একপর্যায়ে ক্ষোভের বশে লতা বেগম শিশুটির পায়ে মোচড় দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটি শিশুটির মা মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরে ওই ভিডিওটি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পাদনা করে শিশুটির পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে—এমন দাবি যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) মাধবদী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত চালায়। তদন্তে শিশুটির শরীরে কোনো ধরনের গুরুতর আঘাত, পা ভাঙার আলামত কিংবা প্লাস্টার বা ব্যান্ডেজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। পুলিশ শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় দেখতে পায়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটির বাবা জহিরুল মিয়া ও মা সায়মা আক্তার জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিকৃত করা হয়েছে। তাদের সন্তানের পা ভাঙেনি এবং বর্তমানে সে সুস্থ রয়েছে। তারা আরও জানান, পারিবারিক বিরোধটি পরবর্তীতে উভয় পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে মীমাংসা হয়েছে। তাই এ ঘটনায় তারা কোনো আইনি অভিযোগ করেননি।

এ বিষয়ে মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, পারিবারিক মনোমালিন্যের জেরে শিশুর পায়ে মোচড় দেওয়ার একটি ঘটনা ঘটেছিল। পরে সেই ভিডিওটি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পাদনা করে বিভ্রান্তিকরভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় পেয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত যেকোনো ভিডিও বা তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া বিশ্বাস বা প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রবণতা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

আশ্রয়ণ প্রকল্পে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে ১৮ পরিবার, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রশাসনের

এআই প্রযুক্তিতে সম্পাদিত ভিডিও ঘিরে চাঞ্চল্য: তিন মাসের শিশুর পা ভাঙার দাবি মিথ্যা, তদন্তে সুস্থ শিশুকে পেল পুলিশ

Update Time : 10:54:11 pm, Tuesday, 14 July 2026

 

ক্রাইম রিপোর্টার: আলমগীর হোসেন

নরসিংদীর তিন মাস বয়সী এক শিশুর পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পাদনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও শিশুটির পরিবার। সরেজমিন তদন্তে গিয়ে পুলিশ শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় পেয়েছে এবং তার পা ভাঙার কোনো প্রমাণ মেলেনি।

জানা যায়, গত ১১ জুন নরসিংদী সদর উপজেলার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকাদি এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে ঘটনাটির সূত্রপাত হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জহিরুল মিয়া ও সায়মা আক্তার দম্পতির তিন মাস বয়সী ছেলে রিজিক জন্মের পর থেকেই অসুস্থ থাকায় কিছুদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। এ সময় পরিবারের সদস্য লতা বেগমকে বাড়ির অধিকাংশ কাজ একাই সামলাতে হওয়ায় পারিবারিকভাবে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়।

একপর্যায়ে ক্ষোভের বশে লতা বেগম শিশুটির পায়ে মোচড় দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটি শিশুটির মা মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরে ওই ভিডিওটি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পাদনা করে শিশুটির পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে—এমন দাবি যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) মাধবদী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত চালায়। তদন্তে শিশুটির শরীরে কোনো ধরনের গুরুতর আঘাত, পা ভাঙার আলামত কিংবা প্লাস্টার বা ব্যান্ডেজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। পুলিশ শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় দেখতে পায়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটির বাবা জহিরুল মিয়া ও মা সায়মা আক্তার জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিকৃত করা হয়েছে। তাদের সন্তানের পা ভাঙেনি এবং বর্তমানে সে সুস্থ রয়েছে। তারা আরও জানান, পারিবারিক বিরোধটি পরবর্তীতে উভয় পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে মীমাংসা হয়েছে। তাই এ ঘটনায় তারা কোনো আইনি অভিযোগ করেননি।

এ বিষয়ে মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, পারিবারিক মনোমালিন্যের জেরে শিশুর পায়ে মোচড় দেওয়ার একটি ঘটনা ঘটেছিল। পরে সেই ভিডিওটি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পাদনা করে বিভ্রান্তিকরভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় পেয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত যেকোনো ভিডিও বা তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া বিশ্বাস বা প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রবণতা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।