Dhaka 5:57 am, Wednesday, 29 July 2026
News Title :
আশ্রয়ণ প্রকল্পে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে ১৮ পরিবার, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রশাসনের নবীগঞ্জে আম গাছে থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার  রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পথে হামলা, ছিনতাইয়ের অভিযোগ; গণপিটুনিতে আহত সন্দেহভাজন হাসপাতালে বিএমএসএফ কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি জসিম, সম্পাদক নাজিম নির্বাচিত ভারতে এক যুবককে একসঙ্গে বিয়ে করলেন তিন বোন, সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার ঝড় রাজশাহীর কাটাখালীতে ২০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার গণভোট, জুলাই সনদ ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল রাঙামাটিতে পারিবারিক কলহের জেরে মর্মান্তিক ঘটনা: মায়ের কোপে প্রাণ গেল মাদকাসক্ত ছেলের গাজীপুর মহানগর কৃষক দলের ৬ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা জয়পুরহাটে র‍্যাব-৫ এর অভিযানে অস্ত্র, গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি, বাস্তবে জলাবদ্ধতা ও নাগরিক দুর্ভোগে কালিয়াকৈর পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা

মোঃ নাহিদ চৌধুরী

গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি |

গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভা শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসারের সঙ্গে দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও নাগরিক সেবার নানা সংকটে পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সড়কের বেহাল অবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং নিরাপত্তা সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভোগান্তির অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ডেনিম এশিয়া-২ নম্বর গেট এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য অপ্রতুল জায়গা রাখা হয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। গত মাসে জলাবদ্ধতার সময় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পৌরসভার কয়েকজন কর্মকর্তা ড্রেন ভেঙে প্রশস্ত করার আশ্বাস দিলেও এক মাস পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো কাজ শুরু হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সফিপুর উত্তরপাড়ার খাল দিয়ে প্রায় ১৫টি গ্রামের পানি নিষ্কাশন হয়। এলাকাটি বহু আগে পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত হলেও এখনও সেখানে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। তাদের দাবি, খালকে কেন্দ্র করে দ্রুত পরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ করা হলে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে।

সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে ডেনিম এশিয়া-২ নম্বর গেট এলাকায় অল্প সময়ের মধ্যেই পানি জমে যায়। এতে প্রায় ৪৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করে এবং ব্যবসায়ীদের উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি হয় বলে তারা জানান। এছাড়া কালভার্ট ও আশপাশের শতাধিক বাড়িঘর পানির নিচে তলিয়ে যায়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতিতে পানি পুরোপুরি নামতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

বাসিন্দাদের ভাষ্য, আগে বৃষ্টির পানি এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে নেমে যেত। কিন্তু বর্তমানে ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে দীর্ঘ সময় পানি আটকে থাকছে। তারা মনে করেন, কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হলে ভবিষ্যতে এমন দুর্ভোগ অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত ময়লা অপসারণ হয় না। অথচ প্রতি পরিবার থেকে মাসিক ১৫০ টাকা করে বর্জ্য অপসারণ ফি আদায় করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এছাড়া অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত স্ট্রিটলাইট না থাকায় রাতে চলাচলে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, কিছু এলাকায় ছিনতাই, চুরি ও মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এসব প্রতিরোধে নিয়মিত পুলিশ টহল বাড়ানোরও আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশুদ্ধ পানির সরবরাহে বৈষম্য, মশার উপদ্রব, ডেঙ্গুর ঝুঁকি, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত পার্কের অভাব, বাজার এলাকায় যানজট, অবৈধ পার্কিং, ফুটপাত দখল, খাল-ড্রেন দখল এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণও নাগরিক দুর্ভোগের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বাসিন্দারা।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পৌর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো দ্রুত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে সমাধানের উদ্যোগ নেবে। বিশেষ করে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সড়ক সংস্কার, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, পর্যাপ্ত স্ট্রিটলাইট, বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা, কার্যকর মশকনিধন কর্মসূচি, উন্নত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

আশ্রয়ণ প্রকল্পে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে ১৮ পরিবার, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রশাসনের

উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি, বাস্তবে জলাবদ্ধতা ও নাগরিক দুর্ভোগে কালিয়াকৈর পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা

Update Time : 07:56:04 am, Monday, 13 July 2026

মোঃ নাহিদ চৌধুরী

গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি |

গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভা শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসারের সঙ্গে দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও নাগরিক সেবার নানা সংকটে পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সড়কের বেহাল অবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং নিরাপত্তা সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভোগান্তির অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ডেনিম এশিয়া-২ নম্বর গেট এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য অপ্রতুল জায়গা রাখা হয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। গত মাসে জলাবদ্ধতার সময় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পৌরসভার কয়েকজন কর্মকর্তা ড্রেন ভেঙে প্রশস্ত করার আশ্বাস দিলেও এক মাস পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো কাজ শুরু হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সফিপুর উত্তরপাড়ার খাল দিয়ে প্রায় ১৫টি গ্রামের পানি নিষ্কাশন হয়। এলাকাটি বহু আগে পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত হলেও এখনও সেখানে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। তাদের দাবি, খালকে কেন্দ্র করে দ্রুত পরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ করা হলে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে।

সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে ডেনিম এশিয়া-২ নম্বর গেট এলাকায় অল্প সময়ের মধ্যেই পানি জমে যায়। এতে প্রায় ৪৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করে এবং ব্যবসায়ীদের উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি হয় বলে তারা জানান। এছাড়া কালভার্ট ও আশপাশের শতাধিক বাড়িঘর পানির নিচে তলিয়ে যায়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতিতে পানি পুরোপুরি নামতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

বাসিন্দাদের ভাষ্য, আগে বৃষ্টির পানি এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে নেমে যেত। কিন্তু বর্তমানে ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে দীর্ঘ সময় পানি আটকে থাকছে। তারা মনে করেন, কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হলে ভবিষ্যতে এমন দুর্ভোগ অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত ময়লা অপসারণ হয় না। অথচ প্রতি পরিবার থেকে মাসিক ১৫০ টাকা করে বর্জ্য অপসারণ ফি আদায় করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এছাড়া অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত স্ট্রিটলাইট না থাকায় রাতে চলাচলে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, কিছু এলাকায় ছিনতাই, চুরি ও মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এসব প্রতিরোধে নিয়মিত পুলিশ টহল বাড়ানোরও আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশুদ্ধ পানির সরবরাহে বৈষম্য, মশার উপদ্রব, ডেঙ্গুর ঝুঁকি, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত পার্কের অভাব, বাজার এলাকায় যানজট, অবৈধ পার্কিং, ফুটপাত দখল, খাল-ড্রেন দখল এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণও নাগরিক দুর্ভোগের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বাসিন্দারা।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পৌর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো দ্রুত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে সমাধানের উদ্যোগ নেবে। বিশেষ করে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সড়ক সংস্কার, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, পর্যাপ্ত স্ট্রিটলাইট, বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা, কার্যকর মশকনিধন কর্মসূচি, উন্নত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।