

রাজু আহমেদ, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি।
।প্রকাশ্য দিবালোকে যাত্রীবেশে দুই ছিনতাইকারী ১৪ বছরের বালক রেজওয়ান হোসেনের ব্যাটারিচালিত ভ্যান নিয়ে পালিয়ে যায়।পরিবারের একমাত্র উপার্জনের অবলম্বন হারিয়ে রেজোয়ানের হাউমাউ করে কান্নার দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।হৃদয়বিদারক সেই দৃশ্য নজরে আসে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলার।মানবিক উদ্যোগে তিনি রেজওয়ানকে নতুন একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান কিনে দেওয়ার পাশাপাশি তার পড়াশোনার খরচ ও পরিবারকে এককালীন আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন।রেজওয়ান হোসেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার দূরাকুটি গ্রামের উত্তরপাড়ার আব্দুস সোবহানের ছেলে।অসুস্থ ভ্যানচালক বাবার সংসারে অভাব-অনটনের কারণে ছোট বয়সেই পরিবারের জীবিকার হাল ধরতে হয় তাকে।গত দুই-তিন বছর ধরে ভ্যান চালিয়ে যে আয় করত,তা দিয়েই কোনোভাবে চলত তাদের পরিবার।
স্থানীয় প্রতিবেশী আদর আলী জানান,রেজওয়ানের বাবা অসুস্থ থাকায় পরিবারের উপার্জনের বড় ভরসা হয়ে উঠেছিল শিশুটিই।প্রতিদিন ভ্যান চালিয়ে পাওয়া আয় দিয়েই সংসারের নিত্যদিনের খরচ মেটানো হতো।ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে।রংপুরের তারাগঞ্জ বাজার থেকে দুই ব্যক্তি সৈয়দপুরের একটি বাসা থেকে মালামাল নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রেজওয়ানের ব্যাটারিচালিত ভ্যান ভাড়া করেন।পরে তারা সৈয়দপুর-পার্বতীপুর মহাসড়কের চেকপোস্ট এলাকায় পৌঁছান।সেখানে যাত্রীবেশী ওই দুই ব্যক্তি রেজওয়ানকে ভ্যান থামাতে বলেন।এরপর সড়কের অপর পাশে একটি দোকান থেকে পান নিয়ে আসতে তাকে পাঠান তারা।সরল বিশ্বাসে রেজওয়ান পান আনতে গেলে ফিরে এসে দেখেন,সেখানে তার ভ্যানটি নেই।আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও ভ্যানটির কোনো সন্ধান পাননি তিনি।পরিবারের একমাত্র আয়ের অবলম্বন হারিয়ে ঘটনাস্থলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন রেজওয়ান।ভ্যান উদ্ধারে উপস্থিত সবার কাছে সহযোগিতার আকুতি জানাতে থাকেন তিনি।শিশুটির সেই কান্নার দৃশ্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।বিষয়টি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হলে সৈয়দপুর উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা রেজওয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার ও পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নেন।পরিবারের আর্থিক দুরবস্থার কথা জানতে পেরে তিনি রেজওয়ানের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন।
ইউএনও ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন,রেজওয়ান যাতে আবার স্বাবলম্বী হতে পারে এবং নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে,সে জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে একটি নতুন ব্যাটারিচালিত ভ্যান উপহার দেওয়া হবে।ইতোমধ্যে ভ্যানটির নির্মাণকাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি,আগামী সোমবার ভ্যানটি তার হাতে তুলে দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন,রেজওয়ানের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।পাশাপাশি তার পরিবারের অন্যান্য সমস্যার সমাধানেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হবে।
এদিকে ঘটনার পর থেকেই ছিনতাইকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ।সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, ছিনতাইয়ের খবর পাওয়ার পর থেকেই জড়িতদের শনাক্ত করে আটকের জন্য পুলিশ কাজ করছে।ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
একদিকে ছিনতাইকারীদের হাতে শিশুটির জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারানোর ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে,অন্যদিকে প্রশাসনের মানবিক উদ্যোগে নতুন করে আশার আলো দেখছে রেজোয়ান ও তার পরিবার।
রাজু আহমেদ, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি।