Dhaka 8:34 am, Monday, 2 November 2026
News Title :
সাঁথিয়ায় মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন এমপি নাজিবুর রহমান মোমেন। মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত উন্নত মৌগাছি গঠনে চেয়ারম্যান মেজর আলী বিশ্বাসের প্রশংসনীয় পদক্ষেপ পীরগঞ্জে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।  পাঁচবিবিতে অটোভ্যান চালককে হত্যা করে অটো ছিনতাই ‎বকশীগঞ্জে ঝোপের আড়ালে মিলল গৃহবধূর পচাগলা লাশ, আটক ৪ ঘোড়াঘাটে মায়ের সাথে অভিমান করে কিশোরীর আত্মহত্যা ময়মনসিংহ জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি ঈশ্বরগঞ্জ থানার মো. সাজ্জাদ রোমন পুংগলী ইউনিয়ন যুব ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে খেলার সামগ্রী বিতরণ। কুলিয়ারচরে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ বিষয়ক অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত কেরানীগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে ৩ জনের কারাদণ্ড ও জরিমানা

মনোহরদীতে শিক্ষককে লোহার পাইপ দিয়ে মারধরের অভিযোগএএসআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা, ক্ষোভে উত্তাল মনোহরদী

এস এ বাংলা নিউজ ডেক্স

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার রামপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে এক হাইস্কুল শিক্ষককে লোহার পাইপ দিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিক্ষক সমাজ, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য হলেন রামপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই সোহেল রানা। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অর্থসংকট ও শারীরিক অসুস্থতাসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে আদালতে দায়ের করা একটি মামলায় নির্ধারিত সময়ে হাজিরা দিতে পারেননি শিক্ষক খুরশিদ আলম। এ কারণে নরসিংদীর আদালত থেকে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।

গত ২৫ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ওই পরোয়ানার ভিত্তিতে এএসআই সোহেল রানা শিক্ষক খুরশিদ আলমকে গ্রেপ্তার করেন। ভুক্তভোগী শিক্ষকের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পর তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়। দাবিকৃত অর্থ দিতে না পারায় তাঁকে রামপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নেওয়ার পথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়।

পরবর্তীতে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে তাঁকে লোহার পাইপ দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন শিক্ষক খুরশিদ আলম। এতে তাঁর বাম হাতের হাড় ভেঙে যায় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

জামিনে মুক্ত হওয়ার পর এ ঘটনায় গত ২ আগস্ট নরসিংদীর আদালতে এএসআই সোহেল রানাসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগী শিক্ষক। মামলাটি ৫২১/২৬ নম্বর হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। এতে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭ ও ৫০৬ ধারার উল্লেখ রয়েছে। মামলাটি বর্তমানে মনোহরদী থানার অফিসার ইনচার্জের তত্ত্বাবধানে তদন্তাধীন বলে জানা গেছে।

এদিকে শিক্ষক খুরশিদ আলমের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে এর আগে তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের অভিযোগে নরসিংদীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলাটি ৯৮/২৬, যেখানে দণ্ডবিধির ৩৪২, ৩৮৫, ৩৭৯, ৫০৬(১১) ও ১০৯ ধারার উল্লেখ রয়েছে।

শিক্ষককে পুলিশ হেফাজতে মারধরের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর মনোহরদীজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একজন শিক্ষককে আইনগত প্রক্রিয়ার বাইরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং ভুক্তভোগী শিক্ষকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত এএসআই সোহেল রানার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সাঁথিয়ায় মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন এমপি নাজিবুর রহমান মোমেন।

মনোহরদীতে শিক্ষককে লোহার পাইপ দিয়ে মারধরের অভিযোগএএসআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা, ক্ষোভে উত্তাল মনোহরদী

Update Time : 04:30:24 am, Tuesday, 18 August 2026

এস এ বাংলা নিউজ ডেক্স

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার রামপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে এক হাইস্কুল শিক্ষককে লোহার পাইপ দিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিক্ষক সমাজ, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য হলেন রামপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই সোহেল রানা। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অর্থসংকট ও শারীরিক অসুস্থতাসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে আদালতে দায়ের করা একটি মামলায় নির্ধারিত সময়ে হাজিরা দিতে পারেননি শিক্ষক খুরশিদ আলম। এ কারণে নরসিংদীর আদালত থেকে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।

গত ২৫ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ওই পরোয়ানার ভিত্তিতে এএসআই সোহেল রানা শিক্ষক খুরশিদ আলমকে গ্রেপ্তার করেন। ভুক্তভোগী শিক্ষকের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পর তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়। দাবিকৃত অর্থ দিতে না পারায় তাঁকে রামপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নেওয়ার পথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়।

পরবর্তীতে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে তাঁকে লোহার পাইপ দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন শিক্ষক খুরশিদ আলম। এতে তাঁর বাম হাতের হাড় ভেঙে যায় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

জামিনে মুক্ত হওয়ার পর এ ঘটনায় গত ২ আগস্ট নরসিংদীর আদালতে এএসআই সোহেল রানাসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগী শিক্ষক। মামলাটি ৫২১/২৬ নম্বর হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। এতে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭ ও ৫০৬ ধারার উল্লেখ রয়েছে। মামলাটি বর্তমানে মনোহরদী থানার অফিসার ইনচার্জের তত্ত্বাবধানে তদন্তাধীন বলে জানা গেছে।

এদিকে শিক্ষক খুরশিদ আলমের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে এর আগে তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের অভিযোগে নরসিংদীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলাটি ৯৮/২৬, যেখানে দণ্ডবিধির ৩৪২, ৩৮৫, ৩৭৯, ৫০৬(১১) ও ১০৯ ধারার উল্লেখ রয়েছে।

শিক্ষককে পুলিশ হেফাজতে মারধরের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর মনোহরদীজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একজন শিক্ষককে আইনগত প্রক্রিয়ার বাইরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং ভুক্তভোগী শিক্ষকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত এএসআই সোহেল রানার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।