
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।।
গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় সাইফুল নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা, ভুয়া কবিরাজি চিকিৎসা এবং অসহায় নারীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি কখনো নিজেকে সাংবাদিক, কখনো পুলিশের সোর্স, আবার কখনো কবিরাজ পরিচয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে আসছেন।
অভিযোগ রয়েছে, পারিবারিক কলহ বা ব্যক্তিগত সমস্যায় ভোগা নারীদের টার্গেট করে তিনি ‘সমাধান করে দেওয়ার’ আশ্বাস দেন। পরে বিভিন্ন ধরনের তাবিজ, কবিরাজি চিকিৎসা ও রহস্যময় উপায়ের কথা বলে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করেন। অনেক ভুক্তভোগী বিষয়টি সামাজিক লজ্জা ও ভয়ে প্রকাশ না করলেও, এলাকাজুড়ে এ ধরনের অভিযোগ অহরহ শোনা যাচ্ছে।
অতিরিক্ত অভিযোগ হিসেবে জানা গেছে, কোনাবাড়ী থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রকাশ্যে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। এ কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে গ্লোবাল টেলিভিশনের গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি মেহরাব হোসেন একটি ভিডিও প্রতিবেদন নিজের ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ করলে পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ভিডিও প্রকাশের পর সাইফুল ক্ষিপ্ত হয়ে মেহরাব হোসেনের বাসায় গিয়ে গালিগালাজ করেন এবং তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেন।
স্থানীয়রা জানান, সাইফুল বিগত কয়েক বছরে বিভিন্ন সময়ে নিজেকে পুলিশের সোর্স, সাংবাদিকদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি কিংবা প্রভাবশালী মহলের লোক পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করেছেন। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এ ধরনের প্রতারণার শিকার না হয়। একই সঙ্গে সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহার বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সাংবাদিকতা একটি সম্মানজনক পেশা—এ পেশার আড়ালে প্রতারণা শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং পুরো গণমাধ্যমের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। তাই দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি এখন সময়ের দাবি।
নিজস্ব প্রতিবেদন