
এস এ বাংলা নিউজ ডেস্ক রিপোর্ট
ফেনীর দাগনভূঞায় মা-মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং অপর এক আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রোববার (৫ জুলাই) ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এন এম মোর্শেদ খান এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে পলাতক প্রধান আসামি সাইফুল ইসলামকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সাজা দেওয়া হয়েছে অপর আসামি নিপু কুমার দাসকে। এছাড়া আসামি মো. আজাদকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্র জানায়, দণ্ডপ্রাপ্ত তিনজনই দাগনভূঞা উপজেলার বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় নিপু কুমার দাস ও মো. আজাদ আদালতে উপস্থিত থাকলেও প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম পলাতক ছিলেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী প্রবাসে থাকায় তিনি তার ১২ বছর বয়সী মেয়ে ও ৭ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট গভীর রাতে তিন আসামি তাদের বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ঘরে প্রবেশ করে এবং ভুক্তভোগীদের ওপর নির্যাতন চালায়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, একপর্যায়ে প্রধান আসামি গৃহবধূকে আলাদা কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় বাধা দিতে এলে তার মাকেও জোরপূর্বক বাড়ির বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বাড়ির পাশের একটি স্থানে তাকে ধর্ষণ করা হয় এবং অপর আসামি এ ঘটনায় সহযোগিতা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনার তিন দিন পর, ২০১৮ সালের ১১ আগস্ট ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে দাগনভূঞা থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ২০ জানুয়ারি তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট সাহাব উদ্দিন আহমেদ জানান, মামলায় সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন এবং অপর আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন।
এস এ বাংলা নিউজ ডেস্ক রিপোর্ট