

মোঃ জালাল উদ্দিন।
মাদক ব্যবসা কেবল একটি সাধারণ অপরাধ নয়, এটি একটি সমাজ ও প্রজন্ম ধ্বংসকারী সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র। তাই নরম সুর বা “বাবা-সোনা” ডেকে তাদের সুপথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অবাস্তব। এর পেছনে প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. অপরাধের ভয়াবহতা ও নির্মমতা
মাদককারবারিরা সামান্য অর্থের লোভে তরুণ প্রজন্মকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়, পরিবার ধ্বংস করে এবং সমাজে অপরাধের বিস্তার ঘটায়। যারা জেনেশুনে একটি জাতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে, তাদের সাথে কোনো প্রকার আপস বা কোমল আচরণের সুযোগ থাকতে পারে না।
২. এটি কোনো ভুল নয়, সচেতন অপরাধ
অনেকে না বুঝে ছোটখাটো ভুল করতে পারে, যাকে বুঝিয়ে সংশোধন করা সম্ভব। কিন্তু মাদক ব্যবসা একটি পরিকল্পিত, লোভী এবং সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট। এখানে অপরাধীরা জেনেশুনে, আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কেবল নিজেদের পকেট ভারী করার জন্য এই পথ বেছে নেয়। এদের দমনে আইনের সর্বোচ্চ ও কঠোরতম প্রয়োগই একমাত্র পথ।
৩. অপরাধীদের মনস্তত্ত্ব ও ভীতি তৈরি
অপরাধ বিজ্ঞানের একটি মূল নীতি হলো—শাস্তির ভয় না থাকলে অপরাধের গ্রাফ কখনো নিচে নামে না। মাদককারবারিদের মনে যদি আইনের প্রতি তীব্র ভয় এবং কঠোর শাস্তির নিশ্চয়তা না থাকে, তবে তারা এই লাভজনক ব্যবসা কখনোই ছাড়বে না। কোমল আচরণকে তারা দুর্বলতা ভেবে আরও বেশি উৎসাহিত হবে।
৪. সমাজের নিরাপত্তা ও দৃষ্টান্ত স্থাপন
একটি সুস্থ সমাজ টিকিয়ে রাখতে হলে অপরাধীর মনে ভীতি এবং সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে হবে। মাদক সিন্ডিকেটগুলোকে গুঁড়িয়ে দিতে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক শক্তি প্রয়োগ করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে অন্য কেউ এই পথে পা বাড়ানোর সাহস না পান ।
মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা মূলত ভুক্তভোগী, তাদের কাউন্সেলিং বা চিকিৎসার মাধ্যমে ভালোবাসে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। কিন্তু যারা এই মরণব্যাধির ব্যবসায়ী, তারা সমাজের শত্রু। তাই সমাজ ও দেশকে বাঁচাতে হলে “বিনা শক্তিতে মাদক দমন সম্ভব নয়”—এই নীতিতেই প্রশাসন ও সমাজকে কঠোর অবস্থানে দাঁড়াতে হবে।
মোঃ জালাল উদ্দিন।