

শাহীন সুলতানা, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির (আনুমানিক ৩৫) মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তবে তিনি কীভাবে রেললাইনে এলেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার বড়খারচর রেলক্রসিং সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী এগারসিন্দুর প্রভাতী ট্রেনটি বড়খারচর এলাকা অতিক্রম করার সময় রেললাইনের ওপর থাকা ওই ব্যক্তিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহত ব্যক্তির শরীরে কোনো পোশাক ছিল না। এ কারণে স্থানীয়দের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে। কারও ধারণা, তিনি চলন্ত ট্রেনের ছাদে ছিলেন এবং কোনো একপর্যায়ে নিচে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন। আবার কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, ছাদে থাকা অবস্থায় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে তিনি ট্রেন থেকে পড়ে যেতে পারেন। তবে এসব ধারণার পক্ষে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে বড়খারচর রেলক্রসিংয়ের দায়িত্বে থাকা গেটম্যান প্রকাশ কুমার দাশ বলেন, দুর্ঘটনার সময় হালকা বৃষ্টি হচ্ছিল। ট্রেন আসার আগে নিয়ম অনুযায়ী তিনি রেলক্রসিংয়ের গেটের ব্যারিকেড নামিয়ে দেন। এ সময় রেললাইনের আশপাশে কাউকে দেখতে পাননি।
তিনি আরও বলেন, রেললাইনে কোনো ব্যক্তি থাকলে সাধারণত ট্রেনের চালক হর্ন দেন। কিন্তু ওই ট্রেনটি আসার সময় কোনো হর্ন শোনা যায়নি। এ কারণে তার ধারণা, লোকটি সম্ভবত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে রেললাইনের ওপর চলে এসেছিলেন।
এদিকে, নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। তিনি পথচারী ছিলেন, নাকি চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যুর শিকার হয়েছেন—তা নিশ্চিত হতে তদন্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। নিহতের পরিচয় শনাক্ত ও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
শাহীন সুলতানা, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি :